ছেলের ভালোবাসার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে মা বাবাসহ গোটা পরিবারকে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জুলাই৷৷  ছেলের ভালোবাসার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে মা বাবাসহ গোটা পরিবারকে৷ বাবা খাটছেন জেল৷ ঘটনা দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া মহকুমার ঈশান চন্দ্র নগরে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷রিজানুল কান্ডের ছায়া দেখছে বিলোনীয়া সহ গোটা রাজ্য৷ একদিকে নিষ্পাপ ভালবাসা, অন্যদিকে প্রশাসনের যাতাকল৷ জানা যায়, দুই – আড়াই মাস পূর্বে বিলোনীয়া থানার ভারত চন্দ্র নগর ব্লকের পাইখলা থেকে একই থানার ঈশান চন্দ্র নগর এলাকার বিনয় দেবনাথ এক সুকল ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়৷
ঘটনা জানিয়ে ছাত্রীর পরিবার বিলোনীয়া থানায় বিনয় দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে৷ পুলিশ অপহরণের আড়াই মাস পরেও যখন মেয়ে উদ্ধার বা অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যার্থ তখন মেয়ের বাবা বিলোনীয়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেন তার মেয়েকে জীবিত অথবা মৃত কেউ উদ্ধার করে বাড়িতে এনে দিতে পারলে তাকে ২০ হাজার টাকা পুরসৃকত করবে৷ এতে নড়েচরে বসে পুলিশ৷ পুলিশ অপহরণের কোন কিনারা করতে না পারলেও বিনয় দেবনাথের বাবা বিকাশ দেবনাথকে থানায় এনে মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে সোপার্দ করলে আদালত ছেলের বাবা বিকাশ দেবনাথকে ৩০ শে জুলাই পর্যন্ত জেল হাজতের নির্দেশ দেন৷ বর্তমানে বিকাশ দেবনাথ জেলেই আছে৷
এই ঘটনার কিনার করতে মেয়ের পরিবার রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছে আবেদন করে৷ অপহরণের সময় মেয়ে নাবালিকা থাকলেও বর্তমানে মেয়ের বয়স ১৯ বৎসর চলছে বলে জানা গেছে৷ বিনয় দেবনাথের বয়স ২১ বৎসর৷ অভিযোগ, মেয়ের পরিবার একদিকে পুলিশ, অন্যদিকে রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত বিনয়ের অসুস্থ বিছানায় শয্যাশায়ী মাকে মানসিক যন্ত্রনা দিচ্ছে৷ এদিকে বিনয় দেবনাথ ও পায়েল নিজেরা ভালোবেসে বিয়ে করে নিয়েছে বলে তারাও সামাজিক মাধ্যমে সকলকে অবগত করেছে৷ পায়েল ও বিনয় হাতে একটি বিষের বোতল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছেড়ে জানায় তারা একজন অন্যজনকে ভালোবেসে বিয়ে করে বেশ ভালোই আছে৷ কিন্তু বর্তমানে তাদের ভালোবাসার বাধ সেজেছে পায়েলের পরিবার৷ বর্তমানে তাদের খুব কষ্টে দিন কাটছে৷ বাধ্য হয়ে তাদের বন জঙ্গলে দিন কাটাতে হচ্ছে৷ পায়েল সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন বিনা অপরাধে বিনয়ের পরিবারের উপর যে আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে তা যেন অবিলম্বে বন্ধ করা হয়৷ এছাড়া মহিলা মোর্চা ও মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে যা করা হচ্ছে তা কোন ভাবে মানা যায়না৷ পায়েল সামাজিক মাধ্যমে জানায় সে সম্পূর্ন তার ইচ্ছাতেই বিনয়কে বিয়ে করেছে৷
তাদের বিয়ে নিয়ে থানা আদালতে যে মামলা করা হয়েছে তা যেন আগামী ৬ দিনের মধ্যে তুলে নেওয়া হয় এবং বিনয়ের পরিবারের উপর নানা আক্রমণ বন্ধ করা হয়৷ অন্যথায় তারা দুজন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে৷ তার জন্য দায়ি থাকবে পায়েলের বাবা কৃষ্ণ দেবনাথ সহ পলিশ প্রশাসন৷ ভিডিওটি ভাইরাল হতেই পায়েলের পরিবার ও পুলিশ প্রাশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ এদিকে বিনয়ের অসুস্থ মা সংবাদ মাধ্যমের কাছে ছেলে – মেয়ের দুইজনের প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন৷ তিনি তাদের জীবন সংশয়ের আশঙ্কায় একা ঘরে পাগল প্রায় হয়ে দিন কাটাচ্ছেন৷ তিনি জানান আমার ছেলে ভালোবেসে বিয়ে করেছে৷ আমি তার পছন্দকে ঘরে তুলতে চাই৷ আমি আমার ছেলে – মেয়ের প্রাণ ভিক্ষা চাইছি৷ তাদের কিছু হলে আমরাও আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবো৷ গোটা ঘটনা বিলোনীয়া সহ রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷  অনেকে পায়েল – বিনয়ের ভালোবাসার মধ্যে পশ্চিম বাংলার রিজানুল কান্ডের কালো ছায়া দেখতে পাচ্ছেন৷ এখন দেখার বিষয় দুজনের নিষ্পাপ ভালবাসায় পুলিশ প্রশাসন কি ভূমিকা গ্রহন করে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *