নাগপুর, ৩ জুন (হি.স.): বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ ইস্যুতে হিন্দু ও মুসলিম উভয়পক্ষের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা উচিত। এমনই অভিমত পোষণ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-র সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। একই সঙ্গে সংবিধান ভিত্তিক বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার জন্য মুসলিম পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরসঙ্ঘচালক। পাশাপাশি ডঃ মোহন ভাগবত প্রতিটি মসজিদে শিবলিঙ্গের সন্ধান বন্ধ করার জন্য পরামর্শও দিয়েছেন হিন্দুদের।
২ জুন, বৃহস্পতিবার নাগপুরের রেশমবাগ ময়দানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-র তৃতীয় বর্ষের সংঘ শিক্ষা বর্গের সমাপনী অনুষ্ঠানে আশীর্বাদ প্রদান করে ডঃ মোহন ভাগবত বলেছেন, ভারত আক্রমণের পর ইসলামি শাসকরা হিন্দুদের আস্থার প্রতীক বহু মন্দির ধ্বংস করে। এটা ছিল মূলত হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাশ করার চেষ্টা। হিন্দুরা মনে করেন, এই ধরনের ধর্মীয় স্থানগুলি এখন পুনরুজ্জীবিত করা উচিত, কিন্তু বর্তমান মুসলমানরা আমাদের পূর্বপুরুষদের বংশধর। জ্ঞানবাপী ইস্যুতে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে। কোনও পক্ষ আদালতে গেলে বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।
সঙ্ঘের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডঃ ভাগবত বলেছেন, এর আগে সঙ্ঘ রাম মন্দির আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু ৯ নভেম্বর সঙ্ঘ নিজস্ব ভূমিকা স্পষ্ট করেছে। এখন সঙ্ঘ কোনও ধর্মীয় আন্দোলনের অংশ হবে না। সরসঙ্ঘচালক বলেছেন, সঙ্ঘ কারও উপাসনা পদ্ধতির বিরুদ্ধে নয়। দেশকে বিশ্বগুরু করতে হলে সমাজে পারস্পরিক সমন্বয়, স্নেহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ থাকতে হবে। ভাগবত বলেছেন, দেশভাগের পরে যারা পাকিস্তানে যাননি তাদের উচিত এখানকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মেনে চলা। উভয় ধর্মের মানুষদের একে-অপরকে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হিন্দুদের নিয়ে যদি মুসলমানদের মধ্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকে, তাহলে আলোচনা হওয়া উচিত। সরসঙ্ঘচালক বলেছেন, হিন্দুত্ব দেশের আত্মা এবং এতে চরমপন্থার কোনও স্থান নেই।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে ডঃ ভাগবত বলেছেন, রাশিয়া নিজস্ব শক্তির জোরে বিশ্বকে ভয় দেখাচ্ছে। অন্যদিকে পশ্চিমি শক্তি ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে নিজেদের রুটি সেঁকছে। পশ্চিমি বিশ্ব বরাবরই এমনটা করে আসছে। বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন বিরোধে ভারত অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ভারতের পর্যাপ্ত শক্তি থাকলে ভারত এই যুদ্ধ বন্ধ করে দিত। কিন্তু চিনের মতো শক্তিশালী দেশ তা করছে না। ক্ষমতা ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সে স্বার্থপরতায় বাস করে।
এই অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভাগ্যনগরের শ্রী রামচন্দ্র মিশনের সভাপতি দাজি উপাখ্য কমলেশ প্যাটেল, অশোক পান্ডে, বিদর্ভ প্রদেশের সঙ্ঘচালক রাম হরকরে এবং মহানগর সঙ্ঘচালক রাজেশ লোয়া। এছাড়াও মহারাজ লীশেম্বা সঞ্জোবা (মণিপুরের রাজা), অনুরাগ বিহার (সিইও, আজিম, প্রেমজি ফাউন্ডেশন), সঞ্জীব সান্যাল, কামাক্ষী আক্কা, সুনীল মেহতা (সর্বভারতীয় সহ-বৌদ্ধিক প্রমুখ) প্রমুখ।
শারীরিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রয়োজন
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কমলেশ প্যাটেল উপাখ্যা দাজি বলেন, সন্ত্রাসীদের মধ্যে অনেক ঐক্য রয়েছে। যে কোনও প্রান্তে কেউ যদি বোমা নিয়ে গবেষণা করে তাহলে সেই প্রযুক্তি খুব অল্প সময়ের মধ্যে অন্য সন্ত্রাসীদের কাছে পাওয়া যাবে। তাদের মধ্যে সমন্বয় আছে। সাত্ত্বিক মানুষ মহৎ কাজ করে, কিন্তু দুই সাধু একে অপরের সঙ্গে বসবে না। ঐক্য ছাড়া ভারতের উন্নতি সম্ভব নয়। আপনি যদি বিশ্বনেতা হতে চান তবে বিশ্বকে দিক নির্দেশনা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আধ্যাত্মিকতা যাই হোক না কেন, শারীরিক শক্তি অর্জন করতে হবে। বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উভয়েরই সম্মিলিত শক্তিতে দেশ বিশ্বগুরু হয়ে উঠতে পারে। সকল সমাজ, প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত হয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। কমলেশ প্যাটেল বলেছেন, দারিদ্র্য দূর করতে হবে এবং দেশে নতুন শক্তি তৈরি করতে হবে। এতে আমাদের সন্ত মহারাজের স্বপ্ন পূরণ হবে। বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও একই চেতনায় দেশকে সেবা প্রদান করতে হবে।