আগরতলা, ১২ মে : ভাঙছে আইপিএফটি। বর্তমান শাসক জোট শরিক এই দলের তিপরা মথায় বিলীন হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ, দলের দুই শীর্ষ নেতা এন সি দেববর্মা এবং মেবার কুমার জমাতিয়ার মধ্যে বিরোধ চরমে পৌছেছে।
আইপিএফটির প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজস্ব মন্ত্রী এনসি দেববর্মা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়ার নেতৃত্বে দলের বর্তমান রাজ্য কমিটিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন৷ পাশাপাশি দলের অন্তর্কোন্দলকে তিনি প্রকাশ্যে এনেছেন৷ এনসি দেববর্মার বক্তব্যকে বিরোধীতা করে মেবার কুমার জমাতিয়ার বক্তব্য, দলের অন্যতম প্রধান ও প্রবীণ নেতা শ্রী দেববর্মার ভূমিকা ‘সন্দেহজনক’৷ তিনি এন সি দেববর্মার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এমন একটি সময়ে পার্টিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে যখন দলকে পুনরুজ্জীবনের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজন৷
বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন আইপিএফটি সুপ্রিমো এনসি দেববর্মা বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কিছু অসঙ্গতির কারণে আমরা নতুন রাজ্য কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করছি৷ তাই আগামী ১২ মে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নতুন সভা আহ্বান করছি৷
শ্রী দেববর্মার বক্তব্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, গত ৩ এপ্রিল তাঁর উপস্থিতিতে নতুন রাজ্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল৷ এনসি দেববর্মা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এবং মেবার কুমার জমাতিয়া অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে তাঁকে পরাজিত করে দলের সভাপতি হন৷ সম্মানের সঙ্গে এনসি দেববর্মাকে উপদেষ্টা কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু, কয়েক মাসের মধ্যেই বর্তমান রাজ্য কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন এন সি দেববর্মা৷
এই বিষয়ে আইপিএফটি-র বর্তমান সভাপতি মেবার কুমার জমাতিয়া বলেন, এনসি দেববর্মার আচরণ খুবই দুর্ভাগ্যজনক৷ গত ৩ এপ্রিল তাঁর উপস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ রাজ্য সম্মেলনে ৩৪ টি বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন৷ মেবারের দাবি, এন সি দেববর্মা থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে আমি জিতেছি৷ তিনি প্রবীণ নেতা এবং আমরা সবাই তাঁকে সম্মান করি৷ কিন্তু শুধুমাত্র আইপিএফটি সভাপতির পদ ধরে রাখার জন্য এই ধরনের আচরণ দুর্ভাগ্যজনক৷
মেবার কুমার জমাতিয়ার সাফ কথা, আগামী ১২ মে এন সি দেববর্মার আহুত সভা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইপিএফটি-এর নির্বাচিত রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে ওই সভার জন্য কোনও অনুমোদন নেই৷ মেবারের দাবি, নতুন রাজ্য কমিটি গঠনের পরেও আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি এবং দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়েছে৷
তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নানাভাবে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে৷ দলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, আমাদের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে৷ তিপরা মথা তথা এডিসি এর শাসক দল আমাদের সমর্থন ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে এবং আমাদের মিত্র বিজেপিও ভাঙন ঘটানোর চেষ্টায় রয়েছে৷ এই মুহুর্তে যেখানে আমাদের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, সেখানে আমরা দলের মধ্যে বিরোধের ঢেউ দেখতে পাচ্ছি৷