আগরতলা, ১৮ জানুয়ারি (হি. স.) : ত্রিপুরায় করোনার তান্ডবে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। তাই, নৈশকালীন কারফিউর সময়ের সাথে মেয়াদ বৃদ্ধি করল ত্রিপুরা সরকার। ২০ জানুয়ারি থেকে রাত ৮টা থেকে নৈশকালীন কারফিউ বলবৎ হবে সারা ত্রিপুরায়। সাথে মাল্টিপ্লেক্স, শপিং মল, সিনেমা হল, পার্ক, পিকনিক স্পট, প্রদর্শনী এবং মেলা সম্পুর্ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। শুধু তাই নয়, আগরতলা পুর নিগম এলাকায় সমস্ত সরকারী কার্যালয়ে ৫০ শতাংশ কর্মী উপস্থিত থাকতে পারবেন। একই সিদ্ধান্ত বেসরকারী অফিসগুলিকেও মানতে হবে। এছাড়া সমস্ত কীর্তনের অনুষ্ঠান ২৩ জানুয়ারির মধ্যে সমাপ্ত করার জন্য ত্রিপুরা সরকার নির্দেশ দিয়েছে। আজ মন্ত্রিসভায় গৃহীত ওই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিলেন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ-বিষয়ে সবিস্তারে জানিয়েছেন তিনি।
এদিন তিনি বলেন, করোনার প্রকোপে বর্তমানে ত্রিপুরার পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। আগরতলা পুর নিগম এলাকার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত আগরতলা পুর নিগম এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে দাড়িয়েছে ২৩.১৫ শতাংশ। দশদিন আগে ওই হার ছিল ১৬.৯৫ শতাংশ। তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় বর্তমানে ৬৪৯১ জন করোনা আক্রান্ত সক্রিয় রোগী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬১৫৯ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। বাকিরা কোভিড কেয়ার সেন্টারে চিকিত্সাধীন আছেন। দিন তিনি গভীর চিন্তা ব্যক্ত করে বলেন, ১০ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ জনের করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
আজ তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ত্রিপুরায় করোনার সার্বিক পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পশ্চিম জেলায় করোনার সংক্রমণের হার বর্তমানে ১৪.২১ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪.০৬ শতাংশ। সিপাহীজলা জেলায় সংক্রমণের হার ৯.৫৫ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে ছিল ১.৫২ শতাংশ। খোয়াই জেলায় সংক্রমণের হার ১৩.০৪ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে ছিল ২.৩৬ শতাংশ। তেমনি গোমতি জেলায় সংক্রমণের হার ১০.৭৭ শতাংশ এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১.৬০ শতাংশ। তিনি বলেন, দক্ষিণ জেলায় সংক্রমণের হার বর্তমানে ৮.৩৬ শতাংশ এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১.৪৩ শতাংশ। ধলাই জেলায় সংক্রমণের হার ৮.০১ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে ছিল ১.০৬ শতাংশ। ঊনকোটি জেলায় সংক্রমণের হার ১৩.৮১ শতাংশ এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১.৩৪ শতাংশ। উত্তর ত্রিপুরায় সংক্রমণের হার ৪.১৪ শতাংশ এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল ১.৫৬ শতাংশ।
তাঁর কথায়, বর্তমানে সারা ত্রিপুরায় করোনার সংক্রমণের হার ১০.৭২ শতাংশ যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২.৩৮ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবে, সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে ত্রিপুরা সরকার নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, গত ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত নির্দেশিকায় বিধিনিষেধে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত, তাতে দেখা গেছে সুযোগের অপব্যবহার হচ্ছে। তাই, মাল্টিপ্লেক্স, শপিং মল, সিনেমা হল, পার্ক, পিকনিক স্পট, প্রদর্শনী এবং মেলা সম্পুর্ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, নৈশকালীন কারফিউ রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সারা ত্রিপুরায় বলবৎ হবে। তিনি বলেন, আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে নতুন নির্দেশিকা জারি হবে।
সাথে তিনি যোগ করেন, আগরতলা পুর নিগম এলাকায় করোনার সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সমস্ত সরকারী কার্যালয়ে ৫০ শতাংশ কর্মী পরিচালিত হবে। তবে, যুগ্ম সচিব স্তর থেকে উপরের আধিকারিকরা সকলে অফিসে আসতে হবে। এমনকি, বেসরকারী সংস্থাতেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তাঁর মতে, আরো দশ দিনের জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি হবে।



















