Biplab Deb : ত্রিপুরা পুলিশের দক্ষতার ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নগামী অপরাধের সংখ্যা, আরক্ষা দফতরে ৫০০ জন মহিলা নিয়োগের পরিকল্পনা : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২ ডিসেম্বর (হি.স.) : ত্রিপুরায় গর্বের পুলিশ বাহিনীর কর্মদক্ষতার ফলেই বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বিভিন্ন অপরাধের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জিরানিয়া পুলিশ স্টেশন কমপ্লেক্সে আয়োজিত শ্যামা মায়ের আরাধনা, মেগা রক্তদান ও সিভিক অ্যাকশন কর্মসূচির সূচনা করে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। সাথে তিনি জানান, ত্রিপুরায় পুলিশ দফতরে ৫০০ জন মহিলা নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহিলা সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অনবদ্য অবদান রাখার জন্য নির্ভয়া ফান্ড ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে কর্মরত ১১ জন মহিলা পুলিশ ভলান্টিয়ারকে আজকের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সম্মাননা প্রদান করেন। এর পর মুখ্যমন্ত্রী রক্তদান কর্মসূচি পরিদর্শন এবং দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। তার আগে জিরানিয়া পুলিশ স্টেশন প্রাঙ্গণে শ্যামা মায়ের দর্শন ও কৃপা প্রার্থনা করেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, আর্থিক স্বয়ম্ভরতার পাশাপাশি মহিলা সশক্তিকরণ ও সমাজে মহিলাদের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পূর্ব নির্ধারিত ৫০০ জন পুলিশ কর্মী নিয়োগে আনুপাতিক হারে সুযোগ থাকবে মহিলা প্রার্থীদেরও। তার পাশাপাশি রাজ্য আরক্ষা দফতরে ৫০০ জন মহিলা নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তাঁর দাবি, ত্রিপুরার গর্বের পুলিশ বাহিনী রাজ্যের শান্তি সম্প্রীতি এবং সুস্থিতি বজায় রাখতে বীরত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ তৈরি করে ত্রিপুরাকে বদনাম করার প্রয়াসকে প্রতিহত করে শান্তি ও শৃঙ্খলা সুনিশ্চিত করেছে। ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সাজা প্রাপ্তির হার। এর ফলশ্রুতিতে হ্রাস পেয়েছে বিভিন্ন অপরাধের সংখ্যা। তিনি বলেন, একটা অংশ শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে খাটো করতে পুলিশের সাফল্যের অবমাননা করছে।

বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ২০১৯-এর সাথে ২০২০ সালের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পেয়েছে ২৮.০৮ শতাংশ, ধর্ষণ হ্রাস পেয়েছে ১৫.৪ শতাংশ, ডাকাতি কমেছে ৬২.৫ শতাংশ, ছিনতাইয়ের হার নেমে এসেছে ৮১.৮ শতাংশে, মহিলা সংক্রান্ত অপরাধ কমেছে ১৫.৪ শতাংশ, বধূ নির্যাতনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ২৯.৪ শতাংশ, শ্লীলতাহানি কমেছে ২১.৪ শতাংশ, মহিলা অপহরণ কমেছে ২০.৩ শতাংশ, গার্হস্থ্য হিংসা হ্রাস পেয়েছে ২১.২ শতাংশ, মোট মহিলা সংক্রান্ত অপরাধ হ্রাস পেয়েছে ১৯.৬ শতাংশ। পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে সাজা প্রাপ্তির হার। তিনি জোর গলায় বলেন, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২০ সালে আইপিসি মামলার অধীনে সাজাপ্রাপ্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বিশেষ ও স্থানীয় আইনে সাজাপ্রাপ্তির হার ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৩ শতাংশ। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় এসেছে ঊর্ধ্বগতি।

সাথে তিনি যোগ করেন, বর্তমান প্রজন্মকে এইচআইভি ও ড্রাগসের মতো অশুভ শক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি ঘর থেকে মহিলাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ-থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস। নারী শক্তিই পারে স্নেহের মাতৃরূপের পাশাপাশি প্রয়োজনে রুদ্র রূপ ধারণ করতে, বলেন তিনি। তাই এ-সব অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে মহিলাদের অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন, মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। এইচআইভি ও ড্রাগস সংক্রমিতদের দূরে সরিয়ে রাখার বদলে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। বলেন, বর্তমান প্রজন্মের ভবিষ্যত সুরক্ষার লক্ষ্যে এইচআইভি সংক্রমণ এবং ড্রাগস-মুক্ত ত্রিপুরা নির্মাণে প্রতিটি ঘর থেকে মহিলাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রক্তের কোনও ধর্ম হয় না। রক্তদানের মতো কর্মসূচির দ্বারা মানবসেবার মাধ্যমে ঈশ্বর সেবার ভাবনায় অনেকেই এগিয়ে আসেন। ত্রিপুরায় রক্তের চাহিদা মেটাতে আরও বেশি করে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী চৌধুরী বলেন, রাজ্যের এক মুমূর্ষ রোগীর জন্য দুর্লভ এক রক্তের গ্রুপের প্রয়োজনের কথা সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। মানবতার টানে বাংলাদেশের ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া থেকে এক যুবক অল্প সময়ের জন্য বিশেষ অনুমতি নিয়ে রাজ্যের আইজিএম হাসপাতালে এসে সেই রোগীর জন্য রক্ত দান করেছেন। এভাবেই রক্তদানের মাধ্যমে মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার ওই যুবক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *