Arrested : চড়িলামে এলাকাবাসীর হাতে আটক ভিন রাজ্যের প্রতারক

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ নভেম্বর।। চড়িলামে এলাকাবাসীর হাতে আটক ভিন রাজ্যের এক প্রতারক। পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে আরো এক প্রতারক।। আটক প্রতারক কে মারধর করে পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখেন স্থানীয়রা। সোনার চেইন হাতিয়ে নিতে এসে প্রতারকরা এলাকার যুবকদের হাতে ধরা পড়েছে। চড়িলামে এলাকাবাসীর হাতে আটক ভিন রাজ্যের এক প্রতারক। ঘটনা শনিবার সকাল বেলা উত্তর চড়িলাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিমল চৌমুহনীর ফকিরামুড়া জামে মসজিদের সামনে। স্বর্ণের চেইন পরিষ্কার করে দেওয়ার নাম করে এক যুবক ফকিরা মুড়া মসজিদ সংলগ্ন মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে তখন পুরুষ মানুষ অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। দুই প্রতারক মনোয়ারা বেগমকে একটি পাউডার দেখায়। পাউডার দিয়ে স্বর্ণ-রুপা সবকিছু পরিষ্কার করা হয় বলে জানায়। ‌

মনোয়ারা বেগম সহজ সরল মানুষ। ঘর থেকে স্বর্ণের চেইন এনে দুই প্রতারক এর হাতে দেওয়ার সময় পাশের বাড়ির দুই যুবক দেখে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে তারা দুই যুবককে জাপ্টে ধরে। এক যুবক বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। অন্য যুবক ধরা পড়ে গ্রামবাসীদের হাতে।গ্রামবাসীরা উত্তম-মধ্যম দিয়ে প্রথমে আম গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে।তারপর মসজিদের সামনে একটি তেঁতুল গাছের তলায় একটি পিলারে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। গ্রামবাসীদের চাপে পড়ে এই যুবক স্বীকার করেছে বেশ কিছুদিন ধরে চড়িলাম বিশ্রামগঞ্জ এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে স্বর্ণের জিনিস পরিষ্কার করার নামে প্রতারণা করে নিয়ে গেছে। এলাকাবাসীর চাপে সেই যুবক স্বীকার করেছে তাদের একজনের নাম রাজকুমার ,অন্যজনের নাম অর্থাৎ যে পালিয়ে গেছে তার নাম মনোজ। কয়েকজন অতিরিক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতারকের মাথার চুল ন্যাড়া করে দেয় অর্ধেক। গ্রামের অভিভাবকরা অবস্থা বেগতিক দেখে বিশালগড় থানায় বেশ কয়েকবার ফোন করেন। বিশালগড় থানা কর্তৃপক্ষ আসছি এসে পড়েছি চড়িলাম ক্রস করেছি বলতে বলতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর পুলিশ এসেছে। সাড়ে তিন ঘণ্টা পরেও পুলিশ আসতো না যদিনা এলাকাবাসী সিপাহী জলা জেলার এডিশনাল এসপি কে ফোন করতেন । তারপর বিশালগড় থানার হুশ ফিরেছে।

বিশালগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসামাত্র অভিভাবকরা প্রশ্ন ছুড়ে দেন যদি কোনো অঘটন ঘটতো তার দায়ভার কে নিতো? এলাকাবাসী পুলিশের কাছে দাবি রাখেন অন্য আরেক যে প্রতারক পালিয়ে গেছে তার সন্ধান বের করতে হবে। তারা কোথায় ভাড়া থাকে বহি রাজ্য থেকে এসে সেই ঠিকানা বের করতেও চাপ সৃষ্টি করা হয়। যতজনের স্বর্ণের জিনিস চুরি হয়েছে তাদের কাছ থেকে সব গুলি ফেরত এর ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বলেছে এলাকার তরফ থেকে অভিযোগ করতে হবে থানায়।শনিবার সকাল বেলা ছিনতাইবাজ আটক হওয়ায় এলাকার মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
এই কয়েকদিনের মধ্যে স্বর্ণের চেইন পরিষ্কার করার নাম করে কয়েকটি বাড়ি থেকে স্বর্ণের জিনিস নিয়ে চম্পট দিয়েছে ছিনতাইবাজের দল। একজন আটক হওয়ায় সব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।