নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ নভেম্বর৷৷ জম্পুইজলার অমরেন্দ্র নগর ভিলেজে প্লাস্টিকের চাল ঘিরে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷ রেশন থেকে এই চাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন৷ রেশনে প্লাস্টিকের চাল৷ ক্ষুব্দ গোটা গ্রামের মানুষ৷ ঘটনা জম্পুই জলা ব্লকের অন্তর্গত অমরেন্দ্র নগর ভিলেজ কমিটির ৩ নং ওয়ার্ড নয়ন সর্দার পাড়ায়৷ শুক্রবার সকাল বেলায় গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রেশন ডিলার এবং রেশন শপের বিরুদ্ধে৷
প্রথমে গ্রামের মানুষ বুঝতে পারেনি এগুলি যে প্লাস্টিকের চাল৷ রান্নাঘর সাধারণত মহিলারা সামলায়৷ কেউ একদিন হয়েছে কেউ দুইদিন হয়েছে কেউ তিনদিন হয়েছে রেশন থেকে চাল তুলেছেন৷ মহিলারা যখন চাল ডেগে বসিয়ে রান্না করছিলেন তখন তারা দেখতে পান চাল সিদ্ধ হয়ে ভাত হতে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘন্টা লেগে যায়৷ ভাত হতে এত সময় দরকার হয়না৷ সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের মধ্যে ভাত হয়ে যায়৷ কিন্তু এই চাল ডেগে দিলে ১০ থেকে ১২ঘণ্টা পরও ভাত হয় না৷ প্রথমে মহিলারা বুঝতে পারেননি৷ মহিলারা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করতে থাকেন৷
দেখা যায়, প্রতিটি ঘরে একই অবস্থা৷ এই প্লাস্টিকের চালের ভাত খেয়ে ঘরের প্রতিটি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে৷ শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার পেটে ব্যথা৷ প্রথমে গ্রামের সহজ সরল মানুষ বুঝতে পারেনি বিষয়টি৷ এরপর তারা দেখতে পায় চালের মধ্যে অনেক বড় বড় চাল রয়েছে৷ যেগুলি জলে দিলে ভাসতে থাকে৷ চাল সাধারণত ভাসেনা৷ তখন সন্দেহ হয় তাদের৷ এই ভাত গুলি খাবার সময় দাঁতে লেগে থাকে৷ রাবারের মতো৷ দাঁত থেকে টেনে আনা যায় না৷ পেটে গেলে পর সারাক্ষণ পেট ব্যথা করছে৷ পেট ফুলে ফেঁপে উঠছে৷ এলাকাবাসী জানিয়েছে সরকার ফ্রি চাল দিচ্ছে৷ ফ্রি চাল বলেই কি এমন অবস্থা নাকি৷ নাকি রেশন ডিলার কোন কেরামতি করছেন৷মহারাম বাজারে রয়েছে নয়ন সর্দার পাড়া এলাকার রেশন৷
রেশন ডিলার হলেন জগদিশ দেববর্মা৷শুক্রবার সকাল বেলা গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এবং সরকারকে হস্তক্ষেপ করার জন্য আবেদন জানান৷ না হলে গ্রামের প্রতিটি ঘরের মানুষ অসুস্থ হয়ে মারা যাবে এই চাল খেয়ে৷ এমনটাই জানিয়েছেন গ্রামের মানুষ৷ একেবারেই প্রত্যন্ত গ্রাম বলেই কি এমন অবস্থা প্রশ্ণ গ্রামের মানুষদের৷ গ্রামের চেয়ারম্যান জালু মিয়া সহ আমির হোসেন, রোশন মিয়া ,আয়েশা খাতুন ,তনুজা খাতুন সহ গোটা নয়ন সর্দার পাড়ার মানুষ একত্রিত হয়ে জানিয়েছেন আজ তারা রেশন ডিলারের সঙ্গে গিয়ে কথা বলবেন৷

