নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন৷৷ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ত্রিপুরায় চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশী দম্পতি৷ ক্যান্সার-র চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই-তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার মুক্তারপুরের বাসিন্দা করোনা সিন্ধু চৌধুরী৷ সাথে ছিলেন তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যা রানী দাস চৌধুরী৷ চিকিৎসা শেষে চেন্নাই থেকে ফেরার সময় আগরতলায় এমবিবি বিমানবন্দরে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর স্ত্রী করোনা আক্রান্ত ধরা পরেন এবং পরবর্তীতে তিনিও করোনা আক্রান্ত হন৷ সাংসদ প্রতিমা ভৌমিকের সহযোগিতায় আগরতলায় জি বি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়েছে৷ আজ তিনি সুস্থ হয়ে আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ফিরে গেছেন৷
এ-বিষয়ে ক্ষুদিরাম বসু ইংলিশ মিডিয়াম সুকলে কোভিড ওয়ার রুমের কো-অর্ডিনেটর বলেন, এপ্রিলের অন্তিম সপ্তাহে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য চেন্নাই গিয়েছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক করোনা সিন্ধু চৌধুরী৷ সেখানে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর আগরতলা দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন৷ সে মোতাবেক তিনি স্ত্রীকে সাথে নিয়ে আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দরে আসার পর তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে, তাঁর স্ত্রীর দেহে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে৷ পরবর্তীতে তিনিও করোনা আক্রান্ত হন৷ কো-অর্ডিনেটরের কথায়, করোনা সিন্ধুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি আইএলএস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন৷ সেখানে চিকিৎসায় প্রচুর টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল যা তাঁর পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না৷ বিষয়টি ওয়ার রুম থেকে করোনা আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার টেলিফোনে খোজ নেওয়ার সময় আমাদের নজরে এসেছে৷ তাই, ওই রোগীর সহায়তার জন্য সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক-কে সমস্ত বিষয় জানানো হয়েছিল৷ তিনি ওই রোগীকে জি বি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং সেখানে চিকিৎসায় আজ তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন৷
সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক বাংলাদেশের নাগরিকের সহায়তা করতে পেরে খুবই আনন্দিত জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, কোভিড ওয়ার রুম পরিদর্শনে গিয়ে ওই রোগীর সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম৷ সঙ্গে সঙ্গে আইএলএস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ৬ লক্ষ টাকা বিল কমিয়ে ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে৷ সাথে ওই রোগীকে জি বি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, জি বি হাসপাতালের তাঁর সমস্ত রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে৷ তিন দিন আগে করোনা সিন্ধু চৌধুরী করোনা মুক্ত হয়েছেন৷ সাংসদের কথায়, টেলিফোনে যখন ওই রোগীর সাথে কথা হয়েছে তখন তিনি বাড়ি ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলেন৷ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না সত্যিই তিনে বাড়ি ফিরতে পারবেন৷ করোনা মুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান৷ তিনি বলেন, করোনা সিন্ধু চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য হাই কমিশনের সাথে যোগাযোগ করে যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ অবশেষে আজ তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশ ফিরে গেছেন৷
প্রতিমা ভৌমিক বলেন, ওই বাংলাদেশী নাগরিক ক্যান্সার রোগী সাথে ডায়াবেটিকস-ও আক্রান্ত ছিলেন৷ অথচ জি বি হাসপাতালে চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়েছেন৷ তিনি জি বি হাসপাতালের কোভিড আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন৷ সেখান থেকে নন-কোভিড ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল৷ এখন তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন৷ তিনি সকলের উদ্দেশ্যে আর্জি জানান, সরকারি পরিষেবায় ভরসা রাখুন৷ সময় মতো চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় আসুন৷ তবে, মৃত্যুর হার অনেক কমে যাবে৷

