নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন৷৷ রবিবার জিরানিয়া রেল ইয়ার্ড পরিদর্শনের পরই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও সিন্ডিকেটরাজকে ত্রিপুরার মাটিতে মাথা তুলতে দেবে না প্রশাসন৷ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ত্রিপুরা-অসম আন্তঃরাজ্য সীমান্ত চুড়াইবাড়ি চেকপোস্ট পরিদর্শন করে দুর্নীতি, বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন তিনি৷
আজ বুধবার চুড়াইবাড়ি চেকপোস্ট পরিদর্শনের পর তাঁর কড়া বার্তা, বেআইনি কোনও কিছুকে প্রশ্রয় দেবে না রাজ্য সরকার৷ সেজন্যই ত্রিপুরার মানুষ আমায় মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছেন৷ এই সরকার সিন্ডিকেটরাজ বা দালালচক্রকে কোনওভাবেই ত্রিপুরার মাটিতে দাঁত ফোটাতে দেবে না৷ এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার নীতিগত ভাবে বদ্ধপরিকর৷
এদিন চুড়াইবাড়ি চেকপোস্ট পরিদর্শনের পর বেশ কিছু অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ একাধিক সরকারি আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে৷ স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের জানিয়ে দেন, চেকপোস্টে কোনও ঢিলেঢালা ব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না৷ সংশ্লিষ্ট থানার ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিপ্লব কুমার দেব৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কর্মী বা আধিকারিকদের জন্য অব্যবস্থার অভিযোগ আসছে তাঁদের চিহ্ণিত করে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যের অধিকাংশ পণ্যবাহী গাড়ি চুড়াইবাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে৷ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ১০০ শতাংশ গাড়িতে চেকিং করতে হবে৷ তার জন্য যথাযথ ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে চেকিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ নেশা সামগ্রী সহ অন্য কোনও ক্ষতিকারক জিনিস যাতে রাজ্যে ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে৷
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গাড়িকে তল্লাশি না করেই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চুড়াইবাড়ি চেকপোস্টের বিরুদ্ধে৷ এর পিছনে যে অসাধু চক্র রয়েছে তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিপ্লব দেব বলেন, অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া আছে৷
উল্লেখ্য, চুড়াইবাড়ি চেকপোস্টের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়৷ এর আগে বিশেষ সচিব গত নভেম্বর মাসে চুড়াইবাড়ি চেকপোস্ট পরিদর্শন করে বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ কিন্তু কয়েক মাসেও তার বাস্তবায়ন কেন হয়নি তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর চোখা চোখা প্রশ্ণের মুখে পড়তে হয় সরকারি আধিকারিকদের৷ অতিরিক্ত যুগ্ম পরিবহণ কমিশনারের ভূমিকায়ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি৷ সরাসরি তাঁকে স্বেচ্ছাবসরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
এদিন চুড়াইবাড়ি পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর যাওয়ার আগে ৯৬টি গাড়ি চেকপোস্ট দিয়ে পাস করেছে৷ কিন্তু একটি গাড়িরও ফাইন হয়নি বলে জানতে পারেন তিনি৷ এর পর নিজেই হাতে-কলমে কার্যত অভিযান করে দেখান মুখ্যমন্ত্রী৷ দাঁড়িয়ে থাকা ১৫টি গাড়ির মধ্যে চারটি গাড়িকে নিজে চিহ্ণিত করে সব কিছু খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি৷ দেখা যায় তার মধ্যে দুটি গাড়ি যথাযথ নিয়ম মানেনি৷ সেগুলি থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে৷ এদিকে, চেকপোস্টকে পুরো ক্যামেরা দিয়ে মুড়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ সন্দেহ নেই, মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন সফর এবং কড়া অবস্থান প্রশাসনের মধ্যেও ঝাঁকুনি দিয়েছে৷ তাছাড়া যুগ্ম পরিবহণ কমিশনারকে স্বেচ্ছাবসরের নির্দেশ দেওয়ায় দেখে অনেকেই বলছেন, এটা আসলে গোটা প্রশাসনের উদ্দেশ্যেই সতর্ক হওয়ার বার্তা৷

