রেগায় পূর্বতন সরকারের তুলনায় এখন অনেক বেশি অর্থ গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে : মন্ত্রী রতনলাল

আগরতলা, ১২ নভেম্বর (হি.স.)৷৷ করোনা-প্রকোপে ত্রিপুরায় অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ পড়েছে৷ কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় অর্থ পৌঁছে দেওয়ায় কোনও ত্রুটি হচ্ছে না৷ বরং পূর্বতন সরকারের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে৷ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে এ-কথা বলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় শেয়ার বাবদ বরাদ্দ অর্থের দ্বিগুণ অর্থ এখন মিলেছে৷ তেমনি, পূর্বতন সরকারের তুলনায় বেশি অর্থ এ-বছর এখন পর্যন্ত রেগায় বরাদ্দ করেছে ত্রিপুরা সরকার৷


এদিন রতনলাল নাথ এক তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাম জমানায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কেন্দ্রীয় শেয়ার বাবদ বরাদ্দ হয়েছিল ৪০৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা৷ সেই তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৪৩৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৭৩১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৮৭৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে৷
এদিকে পূর্বতন সরকারের তুলনায় বর্তমান সময়ে শ্রম দিবসও অনেক বেশি সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন৷ তাঁর কথায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১ কোটি ৭৬ লক্ষ ৪২ হাজার শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছিল৷ সেই তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ৯ হাজার, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ২ হাজার এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে গতকাল পর্যন্ত ২ কোটি ৭১ লক্ষ ১৩ হাজার শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে৷

এদিন তিনি আরও দাবি করেন, পূর্বের তুলনায় এখন রেগায় মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রেগায় ১৭৭ টাকা মজুরি ছিল৷ সেই মজুরি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ছিল ১৭৭ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বেড়ে হয়েছিল ১৯২ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে আরও বেড়ে হয়েছে ২০৫ টাকা৷ তিনি বলেন, পূর্বতন সরকারের তুলনায় বর্তমান বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার গ্রামের মানুষের কাছে অনেক বেশি অর্থ পৌঁছে দিয়েছে৷ তাঁর দাবি, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রেগায় গ্রামীণ মানুষের কাছে অর্থ পৌঁছেছে ৩১১ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা৷ সেই তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বেড়ে ৪৪৭ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৬৬০ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে নভেম্বর পর্যন্ত ৫৫৫ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে৷


এদিকে, ত্রিপুরায় ১২টি সম্ভাবনাময় ব্লকে রেগায় ১০০ দিনের বদলে বেড়ে ১১০ থেকে ১১২ দিন কাজ হয়ে যাবে৷ কাজের প্রবণতায় এমনটাই মনে করছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তিনি বলেন, রইশ্যাবাড়ি ব্লকে ৭৮.৬১ শতাংশ, ডুম্বুরনগর ব্লকে ৭৫.৮০ শতাংশ, ছাওমনু ব্লকে ৭৪.৭১ শতাংশ, মুঙ্গিয়াকামী ব্লকে ৬৯.৩৫ শতাংশ, করবুক ব্লকে ৬৫.০৮ শতাংশ, গঙ্গানগর ব্লকে ৬৪.৪৭ শতাংশ, অম্পি ব্লকে ৬৪.১৮ শতাংশ, শিলাছড়ি ব্লকে ৫৫.১৪ শতাংশ, তুলশিখর ব্লকে ৫০.৪১ শতাংশ, দশদা ব্লকে ৫৫.০১ শতাংশ, দামছড়া ব্লকে ৪৯.৫২ শতাংশ এবং রূপাইছড়ি ব্লকে ৪৮.৭৩ শতাংশ শ্রমদিবস চার মাস বাকি থাকতেই সৃষ্টি হয়ে গেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *