পৃথক স্থানে যান দূর্ঘটনায় গুরুতর চার

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি/ তেলিয়ামুড়া, ৯ নভেম্বর৷৷ চুরাইবাড়ি থানাধীন খেরেংজুড়ি এলাকার ৮ নং জাতীয় সড়কে ভয়ংকর পথ দূর্ঘটনায় আহত তিন৷ তাদের মধ্যে একজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার৷ দূর্ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ ৮ নং আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে পাথর ভাঙ্গার ক্রেশার মেশিন মালিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ৷


পাথর ভাঙার ক্রেশার মেশিন স্থাপনের জন্য জাতীয় সড়কে রাজমিস্ত্রির মসলার কাজ করছিলো৷আর পন্যবাহী লরিকে সাইড দিতে গিয়ে বাজার থেকে বাড়ি ফেরা এক বাইক চালক রাজমিস্ত্রির মসলার পণ্যসামগ্রী ও রাজমিস্ত্রির সাথে সজোরে ধাক্কা মেরে দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়৷অবশেষে চুড়াইবাড়ি পুলিশের হস্তক্ষেপে টানা কয়েক ঘন্টা পর পথ অবরোধ প্রত্যাহার৷
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ,উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি থানাধীন আসাম আগরতলা ৮ নং জাতীয় সড়কের খেরেংজুরি এলাকায় ঘটে গেল এক ভয়ংকর পথদুর্ঘটনা৷ আজ সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটা নাগাদ চুরাইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন তার পালসার বাইকে নিয়ে শনিছড়া থেকে বাজার সেরে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলো৷ কিন্তু খেরেংজুড়ি এলাকায় আসার পর একটি পণ্যবাহী লরিকে সাইড দিতে গিয়ে জাতীয় সড়কের উপর রাজমিস্ত্রির মশলা বানানো অবস্থায় থাকা পন্য সামগ্রী ও রাজমিস্ত্রির সাথে সজোরে ধাক্কা মারে৷তাতে ঘটনাস্থলে গুরুতরভাবে আহত হয় বাইক চালক আবুল হোসেন (৪০) ও তার সাথে থাকা বাইক আরোহী ইদ্রিস আলী (৬৫)৷

গুরুতরভাবে আহত হয় জাতীয় সড়কের উপরে ক্রেশার মেশিনের রাজমিস্ত্রির মসলা বানানো অবস্থায় থাকা রাজমিস্ত্রি অখিল নাথ(২০)৷দূর্ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা তড়িঘড়ি প্রেমতলা দমকল অফিসে খবর দেন৷ দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় বাইক চালক আবুল হোসেন,বাইক আরোহী ইদ্রিস আলী ও রাজমিস্ত্রি অখিল নাথকে কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসেন৷ কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতরভাবে আহত তিন জনের চিকিৎসা শুরু করলেও রাজমিস্ত্রি অখিল নাথের অবস্থা গুরুতর দেখে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করেন৷ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ৷


এদিকে দমকল কর্মীরা জানান,৮ নং জাতীয় সড়কের নবোদয় সুকল সংলগ্ণ খেরেংজুড়ি এলাকায় ঘটে এই পথ দুর্ঘটনা৷ গুরুতরভাবে আহত তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ দমকল কর্মীরা আরো জানান,আবুল হোসেন ইদ্রিস আলীকে শনিছড়া বাজার থেকে বাজার সেরে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে বাইকে চেপে আসছিলেন৷ ঠিক সেই সময় খেরেংজুড়ি এলাকায় জাতীয় সড়কের অর্ধেক জায়গা নিয়ে স্থানীয় একটি ক্রেশারের রাজমিস্ত্রিরা কাজ করছিলেন৷আর ঠিক সেই সময় অপর দিক থেকে আসা একটি লরি থেকে বাঁচতে গিয়ে বাইকটি উঠে যায় কাজে থাকা পণ্য সামগ্রী ও শ্রমিকদের উপর৷আর সেখানেই গুরুতরভাবে আহত হন একজন শ্রমিক,বাইক চালক সহ বাইক আরোহী৷
অপরদিকে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন৷উনারা ক্রেশার মালিকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ৮ নং আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেন৷ প্রতিবাদকারী পথ অবরোধ কারীদের বক্তব্য চুড়াইবাড়ি থানা এলাকায় ৮ নং জাতীয় সড়কের পাশে বৈধ ও অবৈধ ভাবে অজস্র পাথর ভাঙ্গার ক্রেশার মেশিন বসানো হয়েছে৷


এই ক্রেশার মেশিন গুলি বসানোর ফলে একদিকে রাস্তার পাশে পাথর বোঝাই লরি দাঁড়িয়ে থাকে৷ অপরদিকে ক্রেশার মেশিন স্থাপনের রাজমিস্ত্রির কাজ জাতীয় সড়কের উপর করা হয়৷ আর তাতে প্রতিনিয়ত পথচারী থেকে শুরু করে যাত্রীরা যানবাহন নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন৷ তাই স্থানীয় জনগণ ক্রেশার মেশিনের হাত থেকে পথচারী ও যাত্রীদের বাঁচাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজ্যের একমাত্র সড়ক পথ ৮ নং আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের খেরেংজুড়ি এলাকায় পথ অবরোধ করে বসেন৷টানা কয়েক ঘণ্টা পথ অবরোধের ফলে রাস্তার উভয় পাশে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ লাইন লেগে যায়৷অবশেষে চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে আশ্বস্ত করলে উত্তেজিত জনতা জাতীয় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন৷ এখন দেখার বিষয় রাজ্যের পরিবহন দপ্তর ব্যস্ততম রাজ্যের একমাত্র ৮ নং জাতীয় সড়কের উপর এরকম যানজট ও ক্রেশার মেশিনের রাজমিস্ত্রির মসলা বানানোর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে?
সোমবার আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের তেলিয়ামুড়া থানা এলাকার বড়মুড়া ইকোপার্ক সংলগ্ণ এলাকায় একটি বাস ও মারুতির মধ্যে সংঘর্ষে ১ জন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন৷ ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্যান্য যানবাহন গুলি দুর্ঘটনার পর পর সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে৷ তারাই দ্রুত খবর পাঠান দমকল বাহিনীকে৷খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থেকে দমকল বাহিনীর জওয়ানরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে৷ এ ব্যাপারে পুলিশ একই মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে বাস এবং মারুতি গাড়ি উভয়ই দ্রুতবেগে চলছিল৷বড়মুড়া ইকোপার্ক এর সামনে এসে পৌঁছলে চালকরা নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে পারেনি৷ এর ফলে দুটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ বাধে৷ তাতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *