মহিলাসহ তিনজনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার পৃথক স্থানে

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি/তেলিয়ামুড়া, ৩ নভেম্বর৷৷ ফাঁসিতে আত্মহত্যা লেগে পৃথক পৃথক স্থানে মৃত্যু ২৷ প্রথম আত্মহত্যাকারী মহিলা মহেশপুরের বাসুকি তাঁতি (৪০) এবং অপর আত্মহত্যাকারী যুবক জুলাইবাসার দেবাশীষ নাথ(১৮)৷ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর দুটি মৃতদেহ তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয় কদমতলা থানার পুলিশ৷
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন মহেশপুর গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত হরেন্দ্র তাতির স্ত্রী বাসুকি তাঁতি(৪০) তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে দিন যাপন করে আসছিলেন৷ মায়ের সাথে সংসারের হাল ধরেছিল বাসুকি দেবীর বড় ছেলে৷ গতকাল বড় ছেলে সকালেই কাজে বেরিয়ে পড়ে৷ ছোট ছোট দুই ছেলে এবং এক মেয়ে মায়ের সাথে বাড়িতেই ছিল৷দুই ছেলে ও এক মেয়ে বিকেলবেলা বাড়ির পাশে খেলতে যায়৷


খেলা থেকে ফিরে এসে তারা দেখতে পায় তাদের মা বাসুকি তাঁতি রান্না ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে৷মায়ের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার চেচামেচি করলে আশপাশের জনগণ ছুটে আসেন৷ছুটে আসে বাসুকি তাতির বড় ছেলেও৷ খবর দেওয়া হল কদমতলা থানায়৷ কদমতলা থানার এ এস আই ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন৷

অপরদিকে কদমতলা থানাধীন বরগোল গ্রাম পঞ্চায়েতের জুলাইবাসার বাসিন্দা দেবাশীষ নাথ(১৮) পিতা মনোরঞ্জন নাথ বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে৷ পরিবার সূত্রে জানা যায় গতকাল রাত আনুমানিক নয়টার দিকে দেবাশীষ ঘর থেকে বাইরে যায়৷ পরিবারের লোকজন ভাবেন হয়ত বাড়ির আশপাশ কোথাও ঘুরতে গিয়েছে৷কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন এদিক-ওদিক খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দেবাশীষ৷খবর দেওয়া হয় কদমতলা থানাকে৷ কদমতলা থানার এস আই অপু দাস ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন৷দেবাশীষের পরিবার তরফ থেকে আরো জানা যায়,দেবাশীষ কদমতলা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলো৷ দীর্ঘদিন থেকে রাত জেগে মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেইম খেলত৷ আর এই গেম খেলা শুরু করার পর থেকে পরিবারের লোকজনদের সাথে ভালোভাবে কথা বার্তা টুকু বলতো না দেবাশীষ৷ সুতরাং পরিবারের প্রাথমিক ধারণা মোবাইলে রাত জেগে গেম খেলার কারণেই হয়তো দেবাশীষ ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে৷ এদিকে কদমতলা থানার পুলিশ পৃথক পৃথক দু’’টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হাতে নিয়েছে৷ পাশাপাশি আজ দুটি মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে৷তবে কদমতলা থানা এলাকায় একই রাতে পৃথক পৃথক দু’’টি আত্নহত্যায় সুখের ছায়া নেমে এসেছে৷
নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের জন্মদাত্রী মা বাবাকে মার- ধোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে নিজের গলায় ফাঁস লাগালো বছর (৩০) -এর এক যুবক৷ ঘটনা তেলিয়ামুড়া থানাধীন করইলং এলাকায়৷


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলিয়ামুড়া থানাধীন করইলং এলাকার বাসিন্দা মদন দাসের ছেলে শংকর দাস (৩০) নিত্যদিনের মতো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে এসে নিজের জন্মদাত্রী মা বাবা কে মারধর করে শংকর৷ শংকর মারধোর করে পিতা মদন দাস এবং মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়৷ তখন বাড়িতে কেউ আর ছিলনা৷ বাড়ির নির্জনতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শংকর নিজের গলায় ফাঁস লাগায়৷ তখন বাড়িতে আর কেউ ছিলনা৷ কথায় বলে কু- সন্তান হলেও কু- মাতা কখনোই হয় না৷ তাই মাকে মারলেও ছেলে বাড়িতে একা কি করছে তা দেখার জন্য পার্শবর্তী বাড়ির এক যুবককে শঙ্করের ঘরে পাঠায়৷ তখন পার্শবর্তী বাড়ির ঐ যুবক গিয়ে প্রত্যক্ষ করে শংকর তার নিজ ঘরে ঝুলছে৷ এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে সে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে৷ তার চিৎকার চেঁচামেচিতে পার্শবর্তী বাড়ির লোকজন সহ এলাকাবাসীরা একত্রে জড়ো হয়৷ খবর যায় তেলিয়ামুড়া থানায়৷ তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য তেলিয়ামুড়া মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ ময়নাতদন্তের পর মৃত দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বুধবার৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *