নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ১১ জুলাই৷৷ ভারত বাংলা সীমান্তে নিশিকুটুম্বদের উৎপাত৷ একই রাতে ৩ গৃহস্থের ঘরে চোরের সাফাই অভিযান৷ নগদ অর্থ,স্বর্ণালঙ্কার,মোবাইল ফোন ও জ্বর পরিমাপের থার্মোমিটার নিয়ে চোরের পলায়ন৷ স্থানীয় থানার রাতের টহলদারি নিয়ে প্রশ্ণ৷ ঘটনা কদমতলা থানাধীন ভারত বাংলা সীমান্ত বকবকি ও টুলগাঁও এলাকায়৷ ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন ভারত বাংলা সীমান্তে অবস্থিত বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নং ওয়ার্ডের বিকাশ দাস ও পাশের বাড়ির অমিতা দাসের ঘরে রাতের আধারে চোরের দল হানা দেয়৷ ঘরের দরজার ছিটকিরী ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে৷ বিকাশ দাসের ঘর থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা,দামী অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়৷ তারপর বিকাশ দাসের পাশের বাড়ি অমিতা দাসের শোবার ঘরে চোরের দল ঢুকে একটি মোবাইল ফোন, রুপার কিছু অলংকার, নগদ সামান্য কিছু অর্থ সহ জ্বর পরিমাপের থামর্োমিটার নিয়ে যায়৷
ওই বাড়িতেও একিভাবে ঘরের দরজার ছিটকিরী ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে চোরের দল এই সাফাই অভিযান চালায়৷ একই রাতে পাশের গ্রামের পশ্চিমী ইছাই লালছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মানিক দাসের ঘরের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে৷ ঘর থেকে নগদ ৭ হাজার টাকা একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন সহ সোনার নাকের একটি অলংকার নিয়ে যায়৷ যদিও এর পূর্বে ঐ সকল এলাকায় কোনদিন চুরি কার্য সংঘটিত হয়নি৷ সুতরাং প্রথমবারের মতো বকবকি ও টুলগাও এলাকায় চুরি কার্য সংগঠিত হওয়াতে জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে৷ স্থানীয় কদমতলা থানায় একই রাতে পরপর তিন বাড়িতে এরকম দুঃসাহসিক চুরি কান্ড সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ জানালেও পুলিশ প্রশাসন যে ঠুঁটো জগন্নাথ এর ভূমিকা পালন করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷ যেসকল বাড়িতে চুরি কান্ড সংঘটিত হয়েছে তাদের বক্তব্য, উনাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে ঐ সকল এলাকায় কোনদিন চুরির ঘটনা ঘটেনি৷ গতকাল রাত্রিবেলা পরপর তিন বাড়িতে চোরের দলের দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হওয়ার পর উনাদের মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ উনাদের বক্তব্য একদিকে গুটা দেশব্যাপী চলছে করোনা ভাইরাসের মহামারী৷
তাই রুজি রোজগারের ভাটার টান৷ নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে গৃহস্থের৷ অপরদিকে রাতের আধারে গৃহস্থের ঘরে নিশিকুটুম্বদের সাফাই অভিযান৷ তাই স্থানীয় জনগণ বকবকি,টুলগাও,পশ্চিমী ইছাই লালছড়া এলাকায় কদমতলা থানার রাতের টহলদারির দাবি তুলছেন৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, আজ পর্যন্ত ঐ সকল এলাকায় রাতের বেলা কদমতলা থানার টহলদারির গাড়ি বা বিট পেট্রলিং এর বাইকের টহলদারি দেখা যায়নি৷ যদি রাতের বেলায় ঐসকল এলাকায় কদমতলা থানার টহলদারি থাকতো তাহলে হয়তো একই রাতে তিন তিনটি বাড়িতে চোরের দলের দুঃসাহসিক চুরি কান্ড সংঘটিত হতো না৷ অপরদিকে আরও জানা যায় যে,একি রাতে যে তিনটি বাড়িতে চোরের দল চুরি কান্ড সংঘটিত করেছে ঐসকল বাড়ির লোক কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছেন যে, ২ টি মাঝবয়সী লোক কালো রঙের ড্রেস ও পাগড়ি লাগিয়ে লালছড়া বকাবকি সড়কের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে৷ তাই স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান ওই দুই ব্যক্তিই একই রাতে পরপর তিনটি বাড়িতে চুরি কান্ড সংঘটিত করেছে৷ এখন দেখার বিষয় কদমতলা থানার পুলিশ ওই চুরি কান্ডের সাথে জড়িত কুখ্যাত চোরদের পাকড়াও করতে কতটুক তৎপর হয় এবং ঐ সকল এলাকায় রাতের টহলদারি চালু করে কি না?

