শিলং, ১৫ এপ্রিল, (হি.স.) : মেঘালয়ে আরও ছয়জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। তাঁরা সকলেই আক্রান্ত রাজ্যের প্রথম নিহত ডা. জন এল সাইলো রাইন্টাথিয়াঙের আত্মীয় ও সহায়ক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্ৰী কনরাড সাংমা বুধবার টুইট করে এই খবর সরকারিভাবে জানিয়েছেন।
টুইটে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘এখন পর্যন্ত করোনা সংক্ৰমণের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ৬৮ জনের। তাঁদের মধ্যে ৬ জনের করোনা ভাইরাস পজিটিভ বলে ফলাফল এসেছে। পজিটিভ রোগীদের সকলে রাজ্যর প্ৰথম করোনা আক্ৰান্ত রোগীর আত্মীয় ও সহায়ক। তবে এই ছয়জনের নমুনা আবার পরীক্ষা করা হবে। বাকিদের রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে।’
এদিকে গতকাল শেষরাতে মেঘালয়ের প্রথম করোনা-সংক্রমণে নিহত শিলং ও নংপোর বেথানি হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী তথা চিকিৎসক ডা. জন এল সাইলো রাইন্টাথিয়াঙের আন্ত্যেষ্টিক্ৰিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভারত সরকারের নির্ধারিত বিধি বলে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্ৰী এ এল হেক।
মেঘালয়ের করোনায় প্ৰথম মৃত্যুবরণকারী ডা. জন এল সাইলোর কোনও ট্র্যাভেল হিস্ট্রি নেই। এমতাবস্থায় কী করে তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে, জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখনই সঠিকভাবে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। গোটা বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে প্ৰথামিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রী বলেন, প্রয়াত ডা. জন এল সাইলোর জামাতা (মেয়ের জামাই) এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট। তিনি গত ১৬ মাৰ্চ নিউইয়র্ক থেকে দিল্লি আসেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের সচিব প্রীতিসূদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী জানান, দিল্লি থেকে ১৭ মার্চ তিনি যান ইমফল এবং ২০ মার্চ ইমফল থেকে ফের দিল্লি। ইত্যবসরে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ২৪ মার্চ তিনি চলে আসেন শিলং। বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আনতে গিয়েছিলেন ডা. সাইলো। তবে শিলং আসার পর ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।
এদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের কমিশনার-সচিব সম্পত কুমারের কাছে জানা গেছে, বেথানি হাসপাতালের চিকিৎসক, প্রয়াত ডাক্তারের সহায়ক ও তাঁর পরিবার পরিজন-সহ ৬৮ জনের লালারস রক্ত ইত্যাদির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য স্থানীয় নেইগ্রিমস-এ পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়জনের পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। বাকিদের নেগেটিভ। অন্যদিকে ৯২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যে ছয়জনের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে তাদের নমুনা আবার পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে হায়দরাবাদের এনআইভি-তে।

