নয়াদিল্লি, ২৪ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন ফের একবার হিংসাত্মক আকার ধারণ করল। সোমবার দিল্লির উত্তর-পূর্বে জাফরাবাদের মৌজপুর এবং ভজনপুরা এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে ছোড়া গুলিতে মৃত্যু হয় এক কনস্টেবলের | পাশাপাশি এক জন সাধারণ নাগরিকেরও মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব দিল্লির একাধিক জায়গায় নতুন করে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। আজই দু’দিনের সফরে ভারতে এসেছেন সস্ত্রীক ডোনাল্ড ট্রাম্প । সন্ধ্যায় আগরা থেকে তিনি দিল্লি আসেন। তার মধ্যে এই ঘটনায় চিন্তা বেড়েছে সাউথ ব্লকের।
দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন ও সিএএ সমর্থকদের মিছিলে রবিবারই রণক্ষেত্রের চেয়ার নিয়েছিল দিল্লি । সোমবার দুপুরেও তা নিয়ে সিএএ বিরোধীবিক্ষোভ চলছিল গোকুলপুরি, ভজনপুরা এলাকায়। তখনই সিএএ-র সমর্থনে একদল মানুষ সেখানে এসে হাজির হয় বলে অভিযোগ। দুই মিছিল মুখোমুখী হতেই পরিস্থিতি তেতে ওঠে। রাস্তার উপরই দু’পক্ষের মধ্যে সঙ্ঘর্ষ বেধে যায়। একে অপরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি করতে থাকে। বেশ কিছু গাড়িও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি একটি পেট্রোল পাম্পেও আগুন ধরানো হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশের একটি বাহিনী। লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। তাতে সংঘর্ষ চরম আকার নেয়। পুলিশকে লক্ষ্য করেই ইটবৃষ্টি শুরু হয়। তাতেই মাথায় গুরুতর আঘাত পান রতন লাল নামের এক হেড কনস্টেবল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। নিহত পুলিশ কনস্টেবল পুলিশের অ্যাসিস্ট্য়ান্ট কমিশনারের দফতরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এক পদস্থ পুলিশ অফিসার।
অন্যদিকে সংঘর্ষে আহত হন মহম্মদ ফুরকান নামে আরও এক সাধারণ নাগরিক। সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলের দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার সময়কার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে পিস্তল উঁচিয়ে পুলিশকে শাসানি দিতে দেখা গিয়েছে এক যুবককে। এমনকি গুলির শব্দও শোনা গিয়েছে।
আজকের সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলেও খবর।বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে একাধিক পুলিশকর্মী গুরুতর আহত অবস্থায় জিটিবি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া এদিন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক মোটর বাইক | এমনকি একটি পেট্রোল পাম্পেও আগুন ধরানো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় |
বিক্ষোভ যাতে চরম আকার ধারণ না করে, তার জন্য ইতিমধ্যেই জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনও ট্রেন দাঁড়াবে না। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারাও জারি হয়েছে।
সোমবারই সপরিবারে দু’দিনের ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সকালে আমদাবাদ হয়ে আগরা গিয়েছেন তাঁরা। সেখান থেকে দিল্লি ফেরেন। তার মধ্যেই পরিস্থিতি এমন চরম আকার ধারণ করায় উদ্বেগ বাড়ছে সাউথ ব্লকের। শান্তি বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া। অশান্তি থেকে দূরে থাকতে তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজলও।
উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-র বিরোধিতা করে শনিবার রাতে জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের সামনে অবস্থান শুরু করেন হাজারেরও বেশি মহিলা। বিক্ষোভের জেরে স্টেশনে প্রবেশ এবং বাইরে বেরোনোর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।



















