মৃত্যুর খবর নেই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, জানাল স্বাস্থ্য দপ্তর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ মে৷৷ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ত্রিপুরায় কারোর মৃত্যু হয়নি৷ তবে ধলাই জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে৷ কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷ সোমবার বিবৃতি জারি করে এ-কথা জানিয়েছে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতর৷
সিপিএম বিধায়ক রতন ভৌমিক দাবি করেছেন, ধলাই জেলায় ম্যালেরিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে৷ তাছাড়া বহু রোগী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে টাকার অভাবে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারছেন না৷ এ-প্রসঙ্গে দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নয়, গত ২৬ এপ্রিল পূর্ণদা রোয়াজাপাড়ার লক্ষীরুম ত্রিপুরা (৫৪), স্বামী বিনারাই ত্রিপুরার মৃত্যু হয়েছে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে ৷ গত ২৫ এপ্রিল একটি স্বাস্থ্য শিবিরে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা হয় এবং পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া যায়নি৷

এদিকে, হরিদয়াল রোয়াজাপাড়ার হংসলক্ষী ত্রিপুরা (৬০) ছামনু হাসপাতালে জ্বর নিয়ে ভরতি ছিলেন৷ তাঁর রক্তেও ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া যায়নি৷ স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, তিনি হাসপাতাল থেকে গত ৪ মে বাড়ি ফিরে যান৷ গতকাল মানিকপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর বাড়ি গিয়ে ওষুধ দিয়ে আসেন৷ দফতরের দাবি, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রাজ্যে ম্যালেরিয়া এবং ডায়ারিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনও মৃত্যু হয়নি৷
স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য, প্রতি বছরই এই সময়য় এ-রাজ্যে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে৷ এপ্রিল থেকে সেপেম্বর মাস পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে৷ এই সময় মশার অনুকূল আবহাওয়ার জন্য এটা হয়ে থাকে৷
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের কথায়, এ-বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ত্রিপুরায় মোট ৯৫,৮৭৩ জনের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে ৫৬৩ জনের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া গেছে৷ তবে তাঁদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে ধলাই জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২০৷ গতবছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ধলাই জেলায় ৩২৩ জনের ম্যালেরিয়া হয়েছিল৷
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ আরও জানিয়েছে, কিছু কিছু জায়গায় ডায়ারিয়া হচ্ছে এটা দফতরের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷ লংতরাইভ্যালির নাতিনমনু এবং জামিরছড়া এলাকায় ডায়ারিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল৷ কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন৷
এক তথ্য তুলে ধরে দফতরের দাবি, গত এক সপ্তাহে লংতরাইভ্যালি মহকুমায় মোট ৭২১ জন জ্বরের আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে ২৬ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন৷ দফতরের কথায়, লংতরাইভ্যালি মহকুমার যে-সমস্ত এলাকায় জ্বরের প্রকোপ বেশি সেগুলি যথাক্রমে জামিরছড়া, চিচিংছড়া, মালিধর, মকরছড়া, রাজধর, দুর্গাছড়া, নাতিনমনু, গোবিন্দবাড়ি ইত্যাদি৷ এই বিষয়টি দফতরের নজরে আছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷
এদিকে, স্বাস্থ্য শিবিরে শুধুমাত্র এমপিডব্লিউরাই উপস্থিত থাকেন, সিপিএম বিধায়কের এই দাবি পত্রপাঠ খারিজ করেছে স্বাস্থ্য দফতর৷ দফতরের বক্তব্য, এই অভিযোগ সঠিক নয় যে স্বাস্থ্য শিবিরে শুধুমাত্র এমপিডব্লিউ-রাই যান৷ চিকিৎসকরাও বেশিরভাগ শিবিরে উপস্থিত থাকেন৷
দফতরের কথায়, নিয়মিতভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির এবং সচেতনতা শিবির চলছে৷ এই শিবিরগুলিতে ডাক্তার-সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছেন৷ দফতরের দাবি, এ-বছর ধলাই জেলায় জানুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১,২৫৩টি স্বাস্থ্য শিবির করা হয়েছে৷ এর মধ্যে শুধু গত সপ্তাহেই লংতরাইভ্যালি মহকুমায় ৪১টি স্বাস্থ্য শিবির করা হয়েছে৷
আজ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ ত্রিপুরায় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য দফতরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়েছে৷ দফতরের দাবি, প্রতিদিন প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ম্যালেরিয়ার খবর সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে৷ দফতর আরও জানিয়েছে, ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা হাসপাতাল এবং বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করছেন৷ যদি কারোর রক্তে ম্যালেরিয়া জীবাণু পাওয়া গেছে, তৎক্ষণাৎ রোগীকে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে৷ আশাকর্মী এবং পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে রোগীকে সম্পূর্ণ চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন৷ এছাড়া, ২০ এপ্রিল থেকে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিডিটি ছড়ানোর কর্মসূচিও শুরু হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *