নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ মার্চ৷৷ সামনেই লোকসভা নির্বাচন৷ এরই মধ্যে পিসিসি সভাপতি প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন বিতর্কে জড়িয়েছেন৷ আত্মসমর্পণকারী জঙ্গীদের সম্মেলনে উলফা নেতা অরবিন্দ রাজখোয়ার সাথে এক মঞ্চে হাজির হয়েছেন৷ উলফা নেতার ঘনঘন রাজ্য সফরে এমনিতেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে৷ এরই মাঝে, প্রদ্যুৎ কিশোরও জড়িয়ে যাওয়ায় নির্বাচনী পরিস্থিতিতে রাজ্যে রাজনৈতিক হাওয়া আরো গরম হয়ে উঠেছে৷ পিসিসি সভাপতির বক্তব্য, আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, তাই সেখানে গিয়েছিলাম৷ তাতে, অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না৷

প্রসঙ্গত, রাজ্যের আত্মসমর্পণকারী একাধিক জঙ্গী দলের সংগঠন ত্রিপুরা ইউনাইটেড ইন্ডিজেনাস পিপলস কাউন্সিলের(টিইউআইপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় সাধারণ সম্মেলন শুরু শুরু হয়েছে বুধবার৷ এই উপলক্ষ্যে আজ প্রথমে খুমুলুং মোটর স্ট্যান্ডে এক প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়৷
এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পিসিসি সভাপতি প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ, রাজ্যের প্রাক্তন জঙ্গী সংগঠন টিএনভি তথা আইএনপিটি সভাপতি বিজয় কুমার রাংখল, আসাম থেকে আগত উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া, মিথিঙ্গা দৈমারি, নিপুল দাস, মধুর্য্য রাজখোয়া, ত্রিপুরা ইউনাইটেড ইন্ডিজেনাস পিপলস কাউন্সিলের(টিইউআইপিসি) উপদেষ্টা তথা এটিএফ জঙ্গী গোষ্ঠির প্রাক্তন সভাপতি রঞ্জিৎ দেববর্মা, সংগঠনের সভাপতি অনন্ত দেববর্মাসহ অন্যান্য নেতারা৷
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ বলেন তিপ্রাসা মানুষের ঐক্যকে নষ্ট করার চেষ্টা করছেন অনেকেই৷ তারা অন্য রাজ্যের বা অন্য কোন লোক নয়৷ তারা নিজেদেরই লোক৷ তবে তাদের চাবি অন্য কোন লোকের হাতে৷ তিপ্রাসারা বিজেপি, আইপিএফটি, আইএনপিটি, সিপিআই(এম) দল করতে পারে এটা ব্যাক্তিগত অধিকারের পর্যায়ে পড়ে৷ তবে নিজেদের জাতির স্বার্থে একদিন সকলে রাজনৈতিক দল ভুলে এক মঞ্চে এলে সম্পূর্ণ দেশ কাঁপবে৷ তখন দেশের লোক তিপ্রাসাদের শক্তি বুঝতে পারবে৷
তিনি আরো বলেন, সমস্যাটা দিল্লীতে নয়, সমস্যা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে৷ কারণ আমাদের নেতারা আমাদের জন্য কথা বলছে না৷ তারা টাকা বা অন্য কোন কারণে চুপ থাকেন৷ তবে তাঁকে টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব নয় বলে জোর গলায় দাবি করেন তিনি৷ তাঁর আশ্বাস, যত দিন থাকবেন ততদিন তিপ্রাসার জন্য কাজ করে যাবেন৷ সাথে যোগ করেন, তিপ্রাসাদের দাবী এখন তিনি দিল্লী পর্যন্ত নিয়ে যাবেন৷
শেষে তিনি বলেন অসমের এক সময়ের জঙ্গী নেতা যদি এম পি হতে পারে, মিজোরামের প্রাক্তন জঙ্গী নেতা যদি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে তবে ত্রিপুরার এক সময়ের জঙ্গী যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে তারা নিজেদের মতো করে বাঁচতে পারবে না কেন৷
এদিকে উলফা নেতা অরবিন্দ রাজখোয়া বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের ভূমিপুত্ররা নিজেদের জমি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে এক সময় অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হয়৷ অসম ও ত্রিপুরা ভাই ভাই, তাই ত্রিপুরার কষ্টে অসমের মানুষেরও কষ্ট হয়৷ ত্রিপুরার মানুষ এক সময় নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখা ও দাবী আদায়ের লক্ষ্যে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন৷ তারা এখন শান্তির পথে এসে দাবী আদায়ের জন্য লড়ে যাচ্ছেন৷ তাদের দাবী পূরণ করা উচিৎ৷ তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরাকে দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার হাব করা হবে৷ এটা হলে রাজ্যের ভূমিপুত্ররা লাভবান হবেন, নাকি এর মাধ্যমে এর মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদ করা হবে৷ তাঁর বক্তব্য, ভূমিপুত্রদের উন্নয়নের কথা আগে ভাবা উচিৎ৷ পাশাপাশি অরবিন্দ বলেন, ত্রিপুরার ভূমিপুত্রদের মতোই আমরাও লড়াই করেছি৷ আমাদের মারার জন্য লাখ লাখ পুলিশ ও সেনা ৪০ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েছে৷ কিন্তু কিছু করতে পারেনি৷ তাই আমরা জয়ী হবো৷
রাজনৈতিক মহলের মতে, উলফা নেতার বক্তব্য উস্কানিমূলক ছিল৷ তিনি রাজ্যের জনজাতি এবং আত্মসর্পণকারী জঙ্গীদের ভাবাবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে গেছেন৷ এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি৷

