BRAKING NEWS

সীমান্ত গ্রামে বিজিবির গুলিতে তিনজন নিহত, আহত ২০

বাসুদেব ধর (ঢাকা), ১২ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। ঢাকায় পাওয়া খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিজিবির গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। গুলিবিদ্ধ অন্তত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ সকালে হরিপুর উপজেলার বহরমপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। নিহতরা হলেন-সাদেক, নবাব ও জয়নুল। বিজিবির দাবি, নিহতরা সবাই চোরাকারবারী।


স্থানীয়রা জানান, নিহতদের মধ্যে নবাব ও জয়নুল ছাত্র। অপরজন সাদেক স্থানীয় কৃষক। বিজিবি বলেছে, বহরমপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে দিয়ে গরু চোরাকারবারীরা ভারত থেকে গরু আনে। ওই গরু উদ্ধারে বিজিবি সদস্যরা অভিযানে যায়। এসময় চোরাকারবারীরা বিজিবির ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। বিজিবি সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। সংঘর্ষের পর গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামবাসীরা তাকে গ্রামবাসীরা অনেকক্ষণ আটকে রাখে।ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, বিজিবির সদস্যরা চোরাই গরু উদ্ধার করতে গেলে চোরকারবারীরা বাধা দেয়। এসময় আশপাশের লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিজিবি সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে। পরে বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এতে এক পথচারীসহ তিনজন নিহত হন। তবে গ্রামবাসীর দাবি, বিজিবির সদস্যরা কৃষকের বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় স্থানীয়রা এতে বাধা দেয়। পরে বিজিবি গুলি ছুড়লে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে দুই ছাত্রসহ তিনজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


অন্যদিকে, বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতীয় গরু আটক করায় সশস্ত্র চোরাকারবারিরা হামলা করলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন। ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ সেলিম বলেন, ওগুলো ভারতীয় গরু। সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা কোনও এক সময় সেগুলো নিয়ে এসেছিল। তারা বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্তের দুই কিলোমিটার ভেতরে আমাদের টহল দল তাদের ধরে। গরুগুলো বিজিবি ঘাঁটিতে নিয়ে নেওয়ার সময় দুই তিনশ লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তিনি বলেন, আমরা প্রথমে ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। তাতে আমাদের অস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকজন আহত হয়েছে। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়েও বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আমরা গুলি করতে বাধ্য হই। জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, চোরাই গরু ঢুকেছে সন্দেহে বিজিবি অভিযান চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গরু জব্দ করে। তখন গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ বাঁধে এবং গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *