নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ সেপ্ঢেম্বর৷৷ বদলী নীতির দেখা নেই৷ শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বদলী করা হচ্ছে৷ শুক্রবার এইভাবেই বদলী নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষোদ্গার করেছে ত্রিপুরা সরকারী শিক্ষক সমিতি(টিজিটিএ)৷ সংগঠনের সম্পাদকের কথায়, বর্তমানে কোন কোন শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং কিছু শিক্ষকদের প্রতি জিঘাংসা মেটানোর জন্যই বদলীগুলি করা হচ্ছে৷
সাথে তিনি সপ্তম বেতন কমিশন নিয়েও রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেছেন৷ তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই সরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল৷ কিন্তু, এখন দেখা যাচ্ছে কখনো বলা হচ্ছে, ভার্মা কমিটি রিপোর্ট দিচ্ছে না৷ আবার কখনো দেখা যাচ্ছে, সপ্তম বেতন কমিশন দিতে কেন্দ্রের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাইছে রাজ্য সরকার৷ ফলে, ভার্মা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্বের কারণে নাকি অর্থের সংস্থান নেই রাজ্যের কাছে, কি কারণে সপ্তম বেতন কমিশন দিতে দেরী হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না৷ এদিকে, বন্ধের দিনে অনুপস্থিত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভুত ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার, এই অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সমিতি৷
এদিন টিজিটিএ সাধারণ সম্পাদক স্বপন বল অভিযোগ করেন, লিভ রুল অনুযায়ী প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে কিংবা বন্ধের দিনে কোন কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তার জন্য স্পেশাল ক্যাজুয়াল লিভ দেওয়ার বিধান রয়েছে৷ গত ১০ সেপ্ঢেম্বর তেমনই বন্ধের দিনে কিছু সংখ্যক সরকারী কর্মচারী যানবাহনের ব্যবস্থা না করতে পারায় অফিসে যেতে পারেননি৷ কিন্তু, নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের ছুটি প্রদান করার বদলে ডাইস নন করা হচ্ছে৷ রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান টিজিটিএ সাধারণ সম্পাদক৷
এদিকে, রাজ্য সরকারের বদলী প্রক্রিয়া নিয়েও এদিন টিজিটিএ’র পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে৷ স্বপন বলের কথায়, নির্দিষ্ট কারণে শিক্ষকদের বদলী করার যৌক্তিকতা রয়েছে৷ কিন্তু, বর্তমানে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বদলী করা হচ্ছে৷ তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে কোন কোন শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য এবং কিছু শিক্ষকদের প্রতি জিঘাংসা মেটানোর জন্যই বদলীগুলি করা হচ্ছে৷ অথচ, নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল সুষ্ঠ বদলী নীতি প্রনয়ণ করবে রাজ্য সরকার৷ তাঁর কটাক্ষ, খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজনৈতিক কারণে কাউকে বদলী করা হবে না৷ কিন্তু, প্রায় অধিকাংশ বদলীতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷
সপ্তম বেতন কমিশন নিয়েও সমিতি রাজ্য সরকারকে বিঁধেছে৷ শুধু তাই নয়, সপ্তম বেতন কমিশনের গ্যাড়াকলে সরকারী শিক্ষক কর্মচারী মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছেন না, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কথায়, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল সরকার গঠন হওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সপ্তম বেতন কমিশন দেওয়া হবে৷ কিন্তু, বর্তমানে এই বিষয়টি ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে৷ তাঁর বক্তব্য, কখনো ভার্মা কমিটি রিপোর্ট দিচ্ছে না বলা হচ্ছে৷ আবার দেখা যাচ্ছে সপ্তম বেতন কমিশন দেওয়ার অতিরিক্ত অর্থ কেন্দ্রের কাছে চাইছে রাজ্য সরকার৷ ফলে, সম্পূর্ণ বিষয়টি অস্পষ্টতায় ঘিরে রয়েছে৷ ভার্মা কমিটি রিপোর্ট দিতে দেরী করার জন্য, নাকি রাজ্যের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নেই সপ্তম বেতন কমিশন দিতে, কোনটাই স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না, বলেন স্বপন বল৷ তিনি এদিন অবিলম্বে কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান এবং সপ্তম বেতন কমিশন দেওয়ার সাপেক্ষে ইন্টারিম রিলিফ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন৷
পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে সর্বশিক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষায় চুক্তিভিত্তিক নিযুক্ত শিক্ষকদের নিয়মিত করার দাবি জানান স্বপনবাবু৷ সাথে যোগ করেন, টেটের মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের নিয়মিত বেতনক্রম প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পে প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করা হোক৷