দফাওয়ারী বৈঠকে শরিকি সংঘাতে মলম লাগানো সম্পন্ন, শান্তির পক্ষে বিজেপি-আইপিএফটি’র যৌথ প্রতিশ্রুতি প্রদান নতুন কো-অর্ডিনেশন কমিটি মহকুমা স্তরেও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ সেপ্ঢেম্বর৷৷ দফাওয়ারী বৈঠকে শরিকি সংঘাতে মলম লাগানো সম্পন্ন হয়েছে৷ ফলে, রাজ্যে জোট ঝঞ্ঝাট আপাতত

শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি ও আইপিএফটির নেতৃবৃন্দ৷ ছবি নিজস্ব৷

কেটেছে বলেই মনে হচ্ছে৷ বিজেপি-আইপিএফটি কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারণেই শরিকি বিবাদ তুঙ্গে উঠেছিল৷ তা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিজেপি৷ সাথে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য বিজেপি-আইপিএফটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ তাই, শরিক দলের কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি কমাতে এখন দুই দলের কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, আগামী ১৯ সেপ্ঢেম্বর সারা রাজ্যে সমস্ত মহকুমাগুলিতে দুই দলের মহকুমা কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হবে৷ শুক্রবার এবং শনিবার বিজেপি ও আইপিএফটি কো-অর্ডিনেশন কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যীষ্ণু দেববর্মা৷ তবে, পৃথক রাজ্যের দাবি  থেকে আইপিএফটি সরে আসুক, তা বলবে না বিজেপি৷ কারণ, বিজেপি কিংবা রাজ্য সরকার এই দাবিকে সমর্থন করে না৷ তাতে, এখনই সমস্ত কিছু স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে এমনটা দাবি করা উচিৎ হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে শরিকি বিবাদ তুঙ্গে উঠেছিল৷ এমনিতেই ব্লক চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই শরিক দলের মধ্যে অশান্তি চলছিল৷ ফলে, একাধিকবার আইপিএফটি’কে বিদ্রোহের আগুন ছড়াতে দেখা গেছে৷ সেই আগুনে ঘি পড়েছে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে৷ শরিক দল হয়েও বিজেপি’র বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপনির্বাচনের নতুন নির্ঘন্ট ঘোষণার দাবি জানিয়েছিল আইপিএফটি৷ উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে শরিকি বিবাদ মেটানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল৷ আইপিএফটিও চেয়েছে জোট ঝামেলা নিয়ে দুই দলের মধ্যে বৈঠক হোক৷

সে মোতাবেক শুক্রবার রাত থেকে বিজেপি ও আইপিএফটি কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যরা বৈঠক শুরু করেন৷ শনিবার সকালেও তাঁদের বৈঠক হয়৷ তাতে, দুই দলের কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি কমানো দরকার, এই সিদ্ধান্তে ঐক্যমতে আসেন কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্যরা৷ এদিন বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে যীষ্ণু দেববর্মা বলেন, বিজেপি ও আইপিএফটি কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি কমাতে এখন দুই দলের কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে৷ আগে এই কমিটিতে উভয় দলের মোট ছয়জন সদস্য ছিলেন৷ এখন নেওয়া হয়েছে মোট ১৪ জনকে৷ তাঁর কথায়, আইপিএফটি’র তরফে মেবার কুমার জমাতিয়া, অনন্ত দেববর্মা, মঙ্গল দেববর্মা, জিতেন দেববর্মা, শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, সিন্ধুকন্যা জমাতিয়া ও বীর জমাতিয়া এবং বিজেপি’র তরফে যীষ্ণু দেববর্মা, রতনলাল নাথ, সুদীপ রায় বর্মণ, রামপদ জমাতিয়া, রামপ্রসাদ পাল, রাজীব ভট্টাচার্য এবং প্রতিমা ভৌমিক এই কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে রয়েছেন৷ তাঁর দাবি, এই কমিটিকে মহকুমাস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে৷

এদিন যীষ্ণু দেববর্মা অভিযোগ করেন, বিরোধী সিপিএম রাজ্যে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করার জন্য উভয় দলে কিছু লোক ঢুকিয়ে এই অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে৷ তাই, এই সমস্যা সমাধানের জন্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি আগামী ১৯ সেপ্ঢেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ঘুরবে৷ ওইদিনই মহকুমাস্তরেও কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হবে৷ তাঁর সাফ কথা, সবাইকে জোট ধর্ম মেনে চলতে হবে৷ পাশাপাশি সিপিএমের ষড়যন্ত্রও মোকাবিলা করতে হবে৷

এদিকে, আইপিএফটি সাধারণ সম্পাদক মেবার কুমার জমাতিয়াও স্বীকার করেছেন দুই দলের কর্মীদের বোঝাপড়ার অভাব রয়েছে৷ তাতে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে৷ তবে, এর পেছনে ষড়যন্ত্র হয়েছে৷ বিশেষ করে সিপিএম পেছন থেকে কলকাটি নাড়ছে, তাতে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, জোট বজায় রাখতে দুই দলই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ নীতিগতভাবে দুই দলের মধ্যে তফাৎ থাকতেই পারে, কিন্তু অভিন্ন ন্যুনতম কর্মসূচীতে বিজেপি ও আইপিএফটি দ্বিমত পোষণ করে না৷ তাঁর কথায়, জোট সরকারের মাত্র ছয়মাস হয়েছে৷ এই সময়ে জোট সরকার মানুষের জন্য যা কাজ করেছে, তাতে যেন কেউ প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেন, সেই খেয়াল রাখতে হবে৷

এদিকে, কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্য সুদীপ রায় বর্মন ত্রিস্তর উপনির্বাচনকে ঘিরে বিক্ষিপ্ত ঘটনায় জনসাধরনের অসুবিধা হয়েছে তা স্বীকার করেছেন৷ তাই, দল ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত কিছুর জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ পাশাপাশি আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন কোন ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে বিজেপি ও আইপিএফটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ তাঁর কথায়, বিজেপি ও আইপিএফটি’র মধ্যে নানাহ ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল৷ তাতে দুই দলের মধ্যে দূরত্বও বেড়েছিল৷ ফলে, জোট ভেঙ্গে যাবে এমনই সকলে অনুমান করেছিল৷ কিন্তু, সেই অনুমানে জল ঢালতে পেরেছি বলে আমি মনে করি৷

তাঁর মতে, নীতিগতভাবে কিংবা কর্মসূচী গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে৷ আইপিএফটি’রও নির্দিষ্ট কর্মসূচী রয়েছে, তবে বিজেপি তাতে সহমত পোষণ করে এমনটা মনে করারও কোন অবকাশ নেই৷ কিন্তু, তাঁদের দলীয় সিদ্ধান্তে বিজেপি কোনভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না৷ তাঁর সাফ কথা, পৃথক রাজ্যের দাবি সম্পূর্ণ আইপিএফটি’র নিজস্ব৷ এই দাবি থেকে তাঁরা সরে আসুক, তা বিজেপি কখনোই বলবে না৷ কিন্তু, দল এবং রাজ্য সরকার এই দাবিকে কোনভাবেই সমর্থন করে না৷ এমনকি পৃথক রাজ্যের দাবি রাজ্য সরকার এবং সরকার পরিচালনায় কোন প্রভাব ফেলবে বলেও আমি মনে করি না৷ ফলে, আগামী দিনে পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে শরিক দলের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেবে না এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই বলে মত রাজনৈতিক মহলের৷

বিজেপি আইপিএফটি’কে পৃথক রাজ্যের দাবি থেকে সরে আসতে না বললেও, ভবিষ্যতে এন সি দেববর্মারা এই দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করলে সরকার এবং রাজ্য পরিচালনা কতটা সহজ হবে তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না৷ কারণ, আইপিএফটি’র দাবি মেনে কেন্দ্রীয় সরকার জনজাতিদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, কৃষ্টি, সংসৃকতি এবং ভাষাগত উন্নয়নে মর্ডালিটি কমিটি গঠন করেনি৷

এদিকে, আইপিএফটি ত্রিস্তর পঞ্চায়েত উপনির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সুদীপ রায় বর্মন৷ তাঁর কথায়, জোট ধর্ম নেমেই দুই দলই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে৷ তাই, আইপিএফটি’র জন্য মজলিশপুরে বিজেপি’র ৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *