বাজপেয়ীকে সামনে রেখে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি

নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : শেষ হল বিজেপির দুদিনের জাতীয় কার্যকরী সমিতির বৈঠক | বরিবার বৈঠকের শেষ দিনে বক্তব্য রাখেন প্রথাধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৯-এ বিজেপির স্লোগান ঘোষণা করে করে এদিন কংগ্রেস সহ বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়া বিরোধীদের তীব্রভাষায় আক্রমণ করেন মোদী | রবিবার ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের জন্য ‘অজেয় ভারত, অটল বিজেপি’ স্লোগান তুলে বলেন এই মহাজোটের কে নেতৃত্ব দেবেন তার ঠিক নেই, তাদের আদর্শ অস্পষ্ট এবং লক্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত । আজ, বিরোধীদের তীব্রভাষায় আক্রমণ করেন, দলের নেতা প্রকাশ জাভরেকর | তিনি বলেন, নেতা, নীতি, রণনীতি-কিছুই নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর ফিরে আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এদিকে, এদিন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেন ‘২০১৯এর নির্বাচনে আমরা জিতবই। আগামী ৫০ বছর ক্ষমতা থেকে কেউ আমাদের সরাতে পারবে না। বিজেপির জাতীয় কার্যকরী সমিতির বৈঠকে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবদানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শোক প্রস্তাব আনা হয় দলের তরফে |
রবিবার শেষ হল দিল্লির আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে শুরু হওয়া ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র দুই দিনের জাতীয় কার্যকরী সমিতির বৈঠক | দুদিনের জাতীয় কার্যকরী সমিতির বৈঠকে ২০১৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যত সেরেই ফেলল শাসক বিজেপি। ২০১৯-এ বিজেপির স্লোগান ঘোষণা করে করে এদিন কংগ্রেস সহ বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়া বিরোধীদের তীব্রভাষায় আক্রমণ করেন মোদী | রবিবার ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের জন্য ‘অজেয় ভারত, অটল বিজেপি’ স্লোগান তুলে বলেন এই মহাজোটের কে নেতৃত্ব দেবেন তার ঠিক নেই, তাদের আদর্শ অস্পষ্ট এবং লক্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত । এক সময় যারা একে অপরের মুখ দেখতে রাজি ছিল না এখন তাদের গলায় গলায় ব্ন্ধুত্ব | এর পাশাপাশি কংগ্রেসকেও সমালোচনা করতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর মতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেস তেমন কোনও ভুমিকা পালন করতে পারবে না। মহাজোটের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসতে চাইছেন না কেউই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সামনে কোনও চ্যালেঞ্জ নেই। যারা সরকার গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন তারা বিরোধী হিসেবেও ব্যর্থ হয়েছেন।” তিনি আরও বলেছেন ‘বিজেপির ৪৮ মাস কংগ্রেসের ৪৮ বছরের তুলনায় অনেক ভালো’।” আমাদের নীতি ও আদর্শ রয়েছে। নীতি প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন হতে থাকে কিন্তু আদর্শ একই থেকে যায়’। তিনি বলেন, বিজেপিতে কেউ পদের জন্য কাজ করে না । একই সঙ্গে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন মোদী। বলেন, ভারতের আকাশ থেকে অটল-সূর্য অস্ত গিয়েছে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণে রেখে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির স্লোগানও ঘোষণা করেছেন তিনি। মোদী জানিয়েছে, ‘অজেয় ভারত, অটল বিজেপি’ এই স্লোগান সামনে নিয়ে ২০১৯-এ মাঠে নামবে দল।
আজ, বিরোধীদের তীব্রভাষায় আক্রমণ করেন, দলের নেতা প্রকাশ জাভরেকর | মোদী সরকারের ফের ক্ষমতায় আসা সময়ের অপেক্ষা দাবি করে তিনি বলেন, নেতা, নীতি, রণনীতি-কিছুই নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর ফিরে আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। ২০২২ সালে দেশবাসীকে এক নতুন ভারত উপহার দেওয়ার কথা বলে জাভরেকর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে উদ্যম, দেশকে ভবিষ্যেতর রাস্তা দেখানোর ক্ষমতা রয়েছে। রয়েছে দূরদৃষ্টি ও আবেগ। তাই তাঁর ২০১৯ সালের নির্বাচনে তুমুলভাবে ফিরে আসা একপ্রকার নিশ্চিত। গত ৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৭০ শতাংশ জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। এর একটা কারণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ করার ক্ষমতা।
পাশাপাশি আজ সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এমন এক ভারত গড়তে চাইছেন, যা কারও বশ্যতা স্বীকার করবে না। বিজেপি নীতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।’ বিরোধীদের আক্রমণ করে মোদী বলেছেন, ‘যারা একে অপরের চোখে চোখ রাখে না, তারাই মহাজোট গড়ার কথা ভাবছে। এটা আমাদের কাজের নজির। এই জোটে কোনও ছোট দলও কংগ্রেসের নেতৃত্ব মানতে রাজি নয়। আমি চাই দেশ সমৃদ্ধশালী হোক। তবে ভিত্তি হওয়া উচিত সারল্য।’
অন্যদিকে, আজ এদিন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেন ‘২০১৯এর নির্বাচনে আমরা জিতবই। আগামী ৫০ বছর ক্ষমতা থেকে কেউ আমাদের সরাতে পারবে না। আর একথা আমরা অহংকারের বশবর্তী হয়ে বলছি না। আমাদের কাজ একথা বলছে’।
পাশাপাশি আজ বিজেপির জাতীয় কার্যকরী সমিতির বৈঠকের দ্বিতীয় তথা শেষ দিনে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবদানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শোক প্রস্তাব আনা হয় দলের তরফে | প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্মরণে শোক প্রস্তাব এনে বলা হয়, ‘দল নিজের প্রতিষ্ঠাতা এবং রাষ্ট্রের সর্বপ্রিয় নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করছে। অটলজির প্রয়াণে আমরা সবাই এই দেশের মূল্যনিষ্ট রাজনীতি ধারক যুগস্রষ্ঠাকে হারিয়েছে। স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অটলজি নিজের নিষ্ঠা এবং নিজের আদর্শবাদী সিদ্ধান্তের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে পরিশ্রম করে এমন এক রাজনৈতিক বিকল্প দাঁড়িয়ে করিয়েছিলেন যা রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খাকে পূর্ণ করতে পেরেছিল। অটলজি বহু রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন যেমন রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতা, সম্পদের অভাব, দলকে দাঁড় করানো এবং তার বিস্তারের জন্য তিনি প্রবল বাঁধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। কিন্তু তবুও হাল না ছেড়ে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন।’ প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জনহিতকার কাজের উল্লেখ শোকপ্রস্তাবে করা হয়। আর্থিক উদারীকরণ এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন তিনি। সংসদের ভেতর এবং বাইরে সম্মান অর্জন করেছিলেন তিনি। বৈঠকে বাজপেয়ীর অবদানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। পাশাপাশি প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেখানোর পথে দল এবং দলীয় কর্মীরা এগিয়ে যাবে বলে সঙ্কল্পগ্রহণ করেন প্রত্যেকে। সুশাসন, বিকাশের রাজনীতিতে শক্তিশালী করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় বিজেপিকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট দিল্লির এইমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অটলবিহারী বাজপেয়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *