নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ সেপ্ঢেম্বর৷৷ নির্বাচন ঘিরে রাজ্যে উৎসবের মেজাজ হারিয়ে গেছে৷ কারণ, রাজ্যে এখন নির্বাচনকে ঘিরে

বিভিষিকাময় পরিস্থিতি কায়েম হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে শাসকদল এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এই ভাবেই তোপ দাগেন বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর৷ সাথে জানান, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত উপনির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা সহ আট দফা দাবিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বামফ্রন্ট৷ তাঁর কথায়, রাজ্যে নির্বাচনের সুস্থ পরিবেশ নেই৷ তাই, সুষ্ঠ, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিস্থিতি কায়েমের দাবিতে এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে স্মারকলিপি দিয়েছে বামফ্রন্ট৷
এদিন আবারও বিজন ধর উপনির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে বলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন৷ তাঁর অভিযোগ, প্রার্থীদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ ফলে, রাজ্যে কোনও প্রশাসন রয়েছে কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না৷ তাঁর দাবি, এরাজ্যে বরাবরই উৎসবের মেজাজে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ কিন্তু, সেই পরিবেশ হারিয়ে গেছে৷ কারণ, রাজ্যে এখন এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতি কায়েম হয়েছে৷
তাঁর কথায়, বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার গঠন হওয়ার পর জোর করে, হুমকি দিয়ে পঞ্চায়েত স্তরে জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল৷ নয়তো বা এত তাড়াতাড়ি ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না৷ এদিন তিনি ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে উপনির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর গত কয়েকদিনে বিভিন্ন ঘটনাবলির পূনরায় উল্লেখ করেন৷ সর্বদলীয় বৈঠকেও হুমকির মুখে পড়েছেন বিরোধী দলের কর্মীরা, তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ তাঁর কথায়, রাজ্য নির্বাচন কমিশনকেই নির্বাচনের সুস্থ পরিবেশ কায়েক করতে হবে৷ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নিরাপত্তা কমিশনকেই সুনিশ্চিত করতে হবে৷ শুধু তাই নয়, নির্বাচনী প্রচারে বিরোধীদেরও সমান সুযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে৷ এদিন তিনি শাসকদল এবং রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যবাসীর বিপুল সমর্থন পেয়েও বিরোধীদের ভয় পাওয়া দুর্বলতার লক্ষন৷ তাঁর দাবি, কয়েক মাসেই বর্তমান সরকার নিয়ে রাজ্যবাসীর মোহভঙ্গ হয়েছে৷ তাই, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপনির্বাচনে বিরোধীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক তা চাইছে না শাসকদল৷
তাঁর বক্তব্য, বামফ্রন্ট এই উপনির্বাচনে লড়াই যত কঠিন হোক তবুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে পিছিয়ে আসবে না৷ কারণ, নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করা সহজ রাস্তা, সেই পথে বামফ্রন্ট হাঁটবে না৷ এদিন তিনি নির্বাচনে জয় সম্পর্কে বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়াই এখন সবচেয়ে কঠিন লড়াই৷ এই লড়াই জিততে পারলেই জয় সম্পর্কে বলা সম্ভব৷ পাশাপাশি প্রার্থী বাছাই নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন৷ তাঁর কথায়, সকালে প্রার্থী বাছাই হচ্ছে, কিন্তু বিকালে তা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে৷ কারণ, সকলেরই জীবনের ঝুঁকি রয়েছে৷
এদিকে বিজেপি উপনির্বাচনকে ঘিরে সিপিএমের উত্থাপিত সন্ত্রাসের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে৷ বিজেপি নেতা তথা শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথের কথায়, নির্বাচনী লড়াই থেকে পালাতে সন্মানজনক রাস্তা খঁুজছে সিপিএম৷ তাঁর কটাক্ষ, নির্বাচনে প্রার্থীই খঁুজে পাচ্ছে না বামফ্রন্ট৷ তাই, সন্ত্রাস নিয়ে তাঁরা নাটক শুরু করেছে৷ তাঁর দাবি, বিজেপি চাইছে সমস্ত রাজনৈতিক দল ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক৷

