আগরতলা, ১ সেপ্ঢেম্বর৷৷ মেধাকে কখনও দরিদ্রতার মাপকাঠিতে আটকে রাখা যায় না৷ দেশের প্রতিষ্ঠিত ও বিদগ্দজনেরা অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন৷ সেই প্রতিকূলতাকে দূর করেই তাঁরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন৷ আজ বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদোগে সুকান্ত একাডেমীর প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত চিফ মিনিস্টার’র আনুয়েল স্টেট অ্যাওয়ার্ড ফর অ্যাকাডেমিক একিএলন্স -২০১৮ এবং স্বচ্ছ বিদ্যালয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, মানসিকতাই যেকোন ধনবান ব্যক্তিকে দরিদ্র করে তুলতে পারে৷ এক সময় অভিভাবকরা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সন্তানদের বড় করে তুলতে চাইতেন৷ এখন এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে৷ অভিভাবকদের সাথে সাথে এখন তাদের সন্তানেরাও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোনিবেশ করছে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনের যেকোন ক্ষেত্রে সফলতা লাভের পঞ্চাশ শতাংশ নির্ভর করে নিজের উপর, পঁচিশ শতাংশ নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর৷ অবশিষ্ট পঁচিশ শতাংশ নির্ভর করে সময়ের উপর৷ যে ব্যক্তি নিজের পঞ্চাশ শতাংশের সাথে পঁচিশ শতাংশের সময় মেলবন্ধন ঘটাবে তার জীবনে সফলতা আসা অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে৷ তিনি বলেন, রাজ্যে মহিলাদের উপর অপরাধ এখন অনেকটাই কমেছে৷ মহিলারা যখন নিরাপদভাবে জীবন যাপন করতে পারবে তখনই রাজ্যের উন্নতি ঘটবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পূর্বে ভিশন ডকুমেন্টে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি যথাযথভাবে পালন করা হবে৷ দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত ব্যক্তিকেই রাজ্য সরকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে৷ এরমধ্য দিয়েই মেধা বিকশিত হবে৷ তিনি বলেন, জনগণের স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য বর্তমান রাজ্য সরকার সেই দিশাতেই কাজ করছে৷ জনজীবন যখন স্বাধীনভাবে অতিবাহিত হয়, প্রত্যেক ব্যক্তি যখন স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করতে পারে তখনই সেই ব্যক্তির চাল চলনস্বভাবের পরিবর্তন ঘটবে৷ এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মেধা তালিকায় ত্রিপুরা রাজ্য সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে উঠবে৷ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, এবছর থেকে চীফ মিনিস্টারস’র অ্যানুয়েল স্টেট অ্যাওয়ার্ড ফর অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স -২০১৮ চালু করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন৷ দেশে ১৪১টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৭টি আই আই টি, ৭টি আই আই এম, ১৪টি ত্রিপল আই টি, ১টি এন আই টি স্থাপন এবং চালু করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্লীন ত্রিপুরা, ট্রান্সপারেন্ট ত্রিপুরা এই ৭টি ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুগরুত্ব দিছে৷
তিনি বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনথ ঠাকুর বলেছেন, পৃথিবীর যেকোন সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে সুশিক্ষা৷ মানবসম্পদ উন্নয়ন যদি না ঘটে তবে সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ তিনি বলেন, মাটির নিচে প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি সম্পদ, বনজ সম্পদ রয়েছে৷ তাদের সঠিক ব্যবহারের জন্য মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে৷ তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যকেবহয়ংসম্পূর্ ককের গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্টেট কাউন্সিল অব হায়ারপ এডুকেখঞ্চশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণোদয় সাহা৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিদ্ভ্রেলন শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব সুশীল কুমার৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিকারের অধিকর্তা উত্তম কুমার চাকমা৷ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিধায়ক আশিস কুমার সাহা৷
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অসামান্য কৃতিত্বে অর্জনকারী ৭৯জন ছাত্র-ছাত্রীর প্রত্যেককে পুরস্কার স্বরূপ হিসেবে একটি অ্যাপেল আইপ্যাড ও শংসাপত্র প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিরা৷ গার্লস, এস টি, এসসি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু এই পাঁচটি ক্যাটাগরির প্রত্যেকটি কৃতি শীর্ষ পাঁচজনকে এবং উচ্চ মাধ্যমিক ক্ষেত্রে ২৩টি বিষয়ে প্রতিটিতে একজন কৃষি শীর্ষ মেধাবীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়৷
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্য বিধি পালনে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ৪ ও ৫ তারকা প্রাপ্ত ৩৬টি বিদ্যালয়কে স্বচ্ছা বিদ্যালয় পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হয়৷ পুরস্কার হিসাবে প্রতি বিদ্যালয়কে স্মারক উপহার ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়৷ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশ করেন মহারানী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা৷