নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/ চড়িলাম, ১ সেপ্ঢেম্বর৷৷ বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে প্রতিনিয়ত স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির হাতে নির্যাতিতা হচ্ছিলেন এক গৃহবধূ৷ যার পরিণামে শেষ পর্যন্ত অকালমৃত্যু হল এই গৃহবধূর৷ আমতলী থানার অধীন কাঞ্চনটিলার বাসিন্দা সুকুমার সরকারের মেয়ে ঝুমার জীবন অকালেই শেষ হয়ে গেল৷ চার বছর হয়েছিল ঝুমা এবং অজিতের বিবাহিত জীবনের৷ বর্তমানে তাদের একটি দেড় বছরের কন্যাসন্তানও আছে৷ অভিযোগ, বিয়ের পর সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল৷ স্বামীকে নিয়ে সুখেই সংসার করছিল ঝুমা বিশ্বাস৷ কিন্তু, হঠাৎ করে এক নিমিষে ঝুমার সংসার তছনছ হয়ে গেল৷ শেষ পর্যন্ত ঝুমার প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিতে হল৷ রহস্যজনক ভাবে অগ্ণিদগ্দ হয়ে মারা গেলেন ঝুমা৷ তাঁর এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত খুন বলে অভিযোগ করছেন ঝুমার বাবা সুকুমারবাবু৷ তিনি ঝুমার মৃত্যুকে সম্পূর্ণভাবে তার স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির অন্যান্য সদস্যকে দায়ী করেছেন৷ তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমনিতে সম্পর্ক ভালোই ছিল৷ কিন্তু, বেশ কিছুদিন ঝুমার স্বামী তার স্ত্রীর ওপর অকারণে নানাভাবে অত্যাচার করত৷ স্বামী অজিত কোনও কাজ করত না৷ প্রতিদিন সে রাতে দেরী করে বাড়ি ফিরত৷ এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হত৷ তারপরই ঝুমার অগ্ণিদগ্দ হওয়ার ঘটনা৷ ঝুমার বাবার অভিযোগ, মেয়ে মারা যাওয়ার আগে তাকে বলেছে স্বামী মারধর করে তার শরীরে আগুন লাগিয়েছে৷ তবে, শ্বশুর বাড়ির লোকজন এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন৷ এদিকে, ঝুমার বাপের বাড়ির লোকজন চাইছেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক৷
এদিকে, উত্তর চড়িলাম মধ্যপাড়ায় নিজ বাড়িতেই ফাঁসিতে আত্মহত্যা করলেন এক ব্যক্তি৷ তার নাম কমল দাস৷ বয়স পঁয়তাল্লিশ৷ বাবা নারায়ণ দাস৷ জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটা নাগাদ নিহতের স্ত্রী অপর্ণা দাস স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রথম দেখতে পান৷ কমল তার বড় ভাইয়ের ঠাকুর ঘরে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে৷ তার স্ত্রী ঘটনা প্রত্যক্ষ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন৷ সাথে সাথে এলাকার মানুষ জড়ো হয়৷ খবর দেওয়া হয় বিশালগড় থানায়৷ ছুটে যায় পুলিশ৷ ফাঁসিতে ঝুলন্ত মৃতদেহটি পুলিশ নামিয়ে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে৷ ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ নিকটাত্মীয়দের হাতে তুলে দিয়েছে৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে৷ কিন্তু, কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি৷ পরিবারের লোকজনও কোনও কিছু বলতে পাড়ছে না৷ পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে৷