এসটিজিটি ও এসটিপিজিটি সন্দেহজনক সার্টিফিকেটধারীদের নাম প্রত্যাহারের আর্জি দপ্তরে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ আগস্ট৷৷ স্নাতক ও স্নাকোত্তর শিক্ষকদের নিয়োগ পত্র দুর্গোৎসবের আগেই দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ তাই, সন্দেহজনক সার্টিফিকেট ধারিদের দ্রুত চিহ্ণিত করা হচ্ছে৷ সূত্রে খবর, অবৈধভাবে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন এমন দুই – তিনজন অফার প্রাপক তাদের নাম প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন৷ তাছাড়া, আরোও ২৭ থেকে ২৮ জন অফার প্রাপকের সার্টিফিকেট বেআইনি ভাবে বন্দোবস্ত হয়েছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস শিক্ষা দপ্তরের৷

সম্প্রতি এসটিজিটি ১০৯২ জন এবং এসটিপিজিটি ১৩৮ জনের অফার ছাড়া হয়েছিল৷ তাদের মধ্যে অবৈধভাবে সার্টিফিকেট বন্দোবস্ত করেছে এমন অভিযোগে ভিত্তিতে দপ্তর সন্দেহ জনক সার্টিফিকেট ধারিদের পূন, যাচাই শুরু করেছে৷ শিক্ষা দপ্তরের দাবি, সন্দেহ জনক সার্টিফিকেট ধারিরা স্বেচ্ছায় নাম প্রতাহার করলে তাদের প্রতি নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করা হবে৷ অন্যথা, অবৈধভাবে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন চিহ্ণিত হওয়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে দপ্তর৷

সূত্রের খবর, টিআরবিটি গঠন হওয়ার পর যারা শিক্ষক পদে নিয়োগ হয়েছেন তাদেরও সমস্ত সার্টিফিকেট পূন, যাচাই করবে শিক্ষা দপ্তর৷ ওই সময় অবৈধভাবে সার্টিফিকেট ব্যবস্থা করেছে বলে যারা চিহ্ণিত হবেন তাদের চাকুরী বাতিল করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে৷ তবে, এখনই স্বেচ্ছায় শিক্ষা দপ্তরকে সমস্ত কিছু জানিয়ে চাকুরী থেকে অব্যাহতি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না৷

টিআরবিটি গঠন হওয়ার পর পরীক্ষার মাধ্যমে এবং প্রয়োজনিয় কাগজপত্র দেখে শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে৷ প্রথম থেকেই অবৈধভাবে সার্টিফিকেট ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠছে৷ বিশেষ করে, মাইগ্রেশান ছাড়া বহিঃরাজ্য থেকে বিএড সার্টিফিকেট কিভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে সেই প্রশ্ণও উঠেছে৷ কিন্তু, পূর্বতন সরকারের আমলে টিআরবিটি জাল সার্টিফিকেট ধারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সুকলে এমন অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন যাঁরা মাইগ্রেশান ছাড়া বহিঃরাজ্য থেকে বিএড সার্টিফিকেট এনে জমা দিয়ে চাকুরি পেয়েছেন৷ বর্তমান সরকারের আমলে এসটিজিটি এবং এসটিপিজিটি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফের অবৈধ ভাবে সার্টিফিকেট ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠে৷ এরই মধ্যে এসটিজিটির ১০৯২ জন এসটিপিজিটির ১৩৮ জনের অফার ছাড়া হয়৷ কিন্তু, দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট ভাবে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সার্টিফিকেট সংগ্রহের অভিযোগ জমা পড়ায় নড়েচড়ে বসে শিক্ষা দপ্তর৷ শিক্ষামন্ত্রী সমস্ত সার্টিফিকেট পূর্ন, যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করে দেন৷ এই কমিটি পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কয়েকজনকে সন্দেহজনক সার্টিফিকেটধারী  চিহ্ণিত করে৷ শুক্রবার সন্দেহ জনক সার্টিফিকেট ধারীদের সমস্ত আসল কাগজপত্র নিয়ে শিক্ষা ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়৷ সূত্রের খবর, এই নির্দেশ জারি হওয়ার পরই ২/৩ জন অফার প্রাপক স্বেচ্ছায় নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার আবেদন জানান দপ্তরের কাছে৷ সূত্রের আরোও দাবি, প্রায় ২৭/২৮ জন অবৈধভাবে সার্টিফিকেট ব্যবস্থা করেছেন বলে চিহ্ণিত হবেন৷ তবে, আরোও কয়েকজন নিজেদের নাম প্রত্যাহার করবেন বলে সূত্রানুসারে জানা গেছে৷

শিক্ষা দপ্তর সাফ জানিয়েছে, অবৈধভাবে যারা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার করলে তাদের শুধু অফার বাতিল হবে৷ তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার নমনীয় মনোভাব দেখাবে৷ অন্যথা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনীপথে হাঁটবে রাজ্য সরকার৷ প্রথমেই অফার বাতিল করার সাথে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবে শিক্ষা দপ্তর৷

শিক্ষা দপ্তর চাইছে, দূর্গোৎসবের আগেই এসটিজিটি এবং এসটিপিজিটির অফার প্রাপকদের মধ্যে যাদের সার্টিফিকেট বৈধ তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হোক৷ সেই মোতাবেক জোর চেষ্টা চলছে শিক্ষা দপ্তরের৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *