প.বঙ্গের একটি অংশ নিয়ে পৃথক কমতাপুর রাজ্যের দাবিতে ৩৬ ঘণ্টার বনধ-এ অচল নিম্ন অসম

কোকরাঝাড় (অসম), ২৯ আগস্ট (হি.স.) : কোচ-রাজবংশীদের জনজাতিকরণ এবং পৃথক কমতাপুর রাজ্য গঠনের দাবিতে সারা অসম কোচ-রাজবংশী ছাত্র পরিষদ (এএকেআরএসইউ বা আক্রাসু), মহিলা সমিতি এবং চিলা রায় সেনা আহূত ৩৬ ঘণ্টার ‘অসম বনধ’-এ নিম্ন অসম-সহ রাজ্যের কয়েকটি অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। এই বনধ-এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বঙাইগাঁও, চাপর, অভয়াপুরি, গোরেশ্বর, বাকসা, বিজনি, ধুবড়ি, গৌরীপুর, গোলকগঞ্জ, কোকরাঝাড়, গোসাঁইগাঁও ওদালগুড়ি, কচুগাঁও, গুরুফেলা, শ্ৰীরামপুর, তামারহাট, হাতিধুরা,পাগলাহাট, কুমারগঞ্জ, গোয়ালপাড়া, বরপেটা, নলবাড়ি, দরং, শোণিতপুর, মরিগাঁও-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। ওই সব এলাকার রাস্তায় কোনও যানবাহন চলাচল করছে না, বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিস-কাছারি ইত্যাদি। তবে কোথাও কোথাও বাজারহাট আংশিক খোলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বেশ কয়েকটি জাতীয় সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। ভোর পাঁচটা থেকে আহূত বনধ-এর আহ্বায়করা দূরপাল্লার ট্রেনও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে সেগুলি চলাচল করানো সম্ভব হয়েছে।

তাঁদের আন্দোলন সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে আক্রাসু-ক কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা গকুল বর্মন জানান, পৃথক কমতাপুর এবং কোচ-রাজবংশীদের জনজাতির স্বীকৃতি প্রদানে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখছে না সরকার। তাই তাঁদের দাবি আদায়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পূর্ব সূচি অনুযায়ী আজ সকাল পাঁচটা থেকে ৩৬ ঘণ্টার অসম বনধ পালন করছেন তাঁরা। বর্মন বলেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট দাবিদাওয়ার ভিত্তিতে দফায় দফায় আন্দোলন কর্মসূচি রূপায়িত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলা এবং অসমের ধুবড়ি, বঙাইগাঁও, কোকরাঝাড়, গোয়ালপাড়া, বরপেটা,নলবাড়ি, দরং, শোণিতপুর, ধেমাজি, লখিমপুর এবং মরিগাঁও জেলাকে নিয়ে কামতাপুর বা বৃহত্তর কোচবিহার রাজ্যের দাবিতে গত ২০০৮ সালে ‘দ্য সেপারেট স্টেট ডিমান্ড কমিটি’ গঠিত হয়েছিল। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে বলেও জানান গকুল বর্মন।

তাঁদের সাফ কথা, এভাবে বার-বার ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। আর নয়, কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীকে জনজাতির মর্যাদা প্রদান এবং পৃথক কমতাপুর রাজ্য গঠনের দাবিতে প্রস্তাবিত আগামীকালের ৩৬ ঘণ্টার অসম বনধ পালন হবেই। প্রশাসনকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নিখিল অসম কোচ-রাজবংশী ছাত্ৰ সংস্থা (আক্ৰাসু), কোচ-রাজবংশী মহিলা সমিতি ও চিলা রায় সেনার তরফ থেকে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, জনজাতির মর্যাদা প্রদান এবং পৃথক কমতাপুর রাজ্যের দাবি পূরণের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছার প্রতিবাদে আজবুধবার থেকে ৩৬ ঘণ্টার ‘অসম বনধ’-এর ডাক দিয়েছিল নিখিল অসম কোচ-রাজবংশী ছাত্ৰ সংস্থা (আক্ৰাসু), কোচ-রাজবংশী মহিলা সমিতি ও চিলা রায়। এ প্রসঙ্গে আক্ৰাসু-র পশ্চিম কোকরাঝাড় জেলা সমিতির প্ৰচার সম্পাদক উৎপলচন্দ্ৰ রায় বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্ৰীয় ও রাজ্য সরকার কোচ-রাজবংশীদের বার-বার প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েও তা ভঙ্গ করছে। এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্ৰতারণা করছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার। বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৮ আগস্ট তাদানীন্তন কোচ রাজার সঙ্গে ভারত সরকারের এক চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তি কেন্দ্ৰ এবং রাজ্য সরকার অমান্য করছে। এর প্ৰতিবাদে প্রতি বছর ২৮ আগস্ট কালো পতাকা উত্তোলন করে কালো দিবস কর্মসূচি করে আক্রাসু, যেমন গতকালও করেছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *