বিদেশি বিতাড়নে অসম আন্দোলনের অদৃশ্য পৃষ্ঠপোষক’, অটলবিহারীকে দেখতে দিল্লি রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

গুয়াহাটি, ১৬ আগস্ট (হি.স) : প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে দিল্লি রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। ‘ভারতীয় রাজনীতির মহীরূহ অটলজি’র আশু আরোগ্য কামনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির উদ্দেশে যাত্রার আগে সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে কথা বলছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সনোয়াল। তিনি জানান, অসম আন্দোলনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন অটলজি। অবৈধ বাংলাদেশি বিতাড়নে অসম আন্দোলনের তদানীন্তন নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছিলেন। সে সময়ের বহু স্মৃতির রোমন্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসম আন্দোলনের সময় রাজ্যে এসে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা অটলজিকে তদানীন্তন কংগ্রেস সরকারের পুলিশ গ্রেফতারও করেছিল। এককথায়, বিদেশি বিতাড়নে অসম আন্দোলনের অদৃশ্য পৃষ্ঠপোষক ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী।
আবেগতাড়িত সর্বানন্দ বলেন, তখন তিনি (সর্বানন্দ) ছাত্র ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব কী করে দিতে হয় তার দিশা দিয়েছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় অবিসংবাদী নেতা অটলজি। অটলজি এবং তাঁর সহযোদ্ধা লালকৃষ্ণ আডবাণী দেশে বিজেপি-র বীজ বপণ করেছিলেন। এই মানিকজোড়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে আজ বিজেপি-র বাড়বাড়ন্ত। সেই বিজেপি আজ দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আজ যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসম তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কথা মনেপ্রাণে ভাবেন, সে রকম অটলজির আত্মাও পড়ে থাকতো এই অঞ্চলে। তাঁর হাত ধরেই অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চারলেনের রাস্তা, শিলচর-সৌরাষ্ট্র মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছিল। এ রকম বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাজপেয়ীজির হাত দিয়ে শুরু হয়েছিল অসমে। ২০০১ সালে বগিবিল সেতুর শিলান্যাস করতে এসে ছয় বছরের মধ্যে তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন সে সমেয়ের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। এছাড়া আরও বহু স্মৃতিবিজড়িত ঘটনার উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। সব শেষে বলেন, অটলজির অবদান কোনওদিন ভুলবে না অসম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *