নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ জুলাই ৷৷ ধারাবাহিরক নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সংক্রমণজনিত রোগে মৃত্যু হার রাজ্যের অনেক কমানো গেছে৷ আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত রেখে নতুন নতুন সংক্রামক রোগের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে তার বিরুদ্ধেও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে৷ প্রজ্ঞা ভবনের ২নং হলে আজ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক এক কর্মশালায় এই আহ্বান জানানো হয়েছে৷ জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অন্তর্গত সু-সংহত রোগ নজরদারি কর্মসূচিতে এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ৷ উদ্বোধকের ভাষণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, এই কর্মশালার উদ্দেশ্য কিবাবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা যায়৷ আগামী দিনেও সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে আমাদের চ্যালেঞ্জ জারি রাখতে হবে৷ তিনি বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজে বেপর করা৷ যদিও সব প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, তার পরেও যদি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হস্তক্ষেপ করা যায় তবে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো যায়৷
তিনি বলেন, এই কর্মসূচিতে রোগ প্রাদুর্ভাবের কারণ সম্পর্কে সাপ্তাহিক রিপোর্ট তৈরি করা হয়৷ অনেক ক্ষেত্রে দৈনিক ভিত্তিতেও রিপোর্ট তৈরি করা হয়৷ এর ভিত্তিতে বিভিন্ন রোগের বাড়বাড়ন্ত প্রতিরোধে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয় তার মতামতও দেওয়া হয়৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি রোগ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গেছে৷
এই সব ক্ষেত্রে মৃত্যুর সংখ্যাও কমানো গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে৷ এজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রীরায় বর্মণ বলেন, আগামী ৫ সেপ্ঢেম্বর থেকে রাজ্যের সর্বত্র ৯-১৫ বছরের ছেলে-মেয়েদের হাম ও রুবেলার টিকাকরণ করা হবে৷ তা যাতে রাজ্যের সব জেলাতে সঠিকভাবে রূপায়ণ করা যায় সেজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান৷ তিনি বলেন, যত বেশি এই কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে শিশুদের মধ্যে তত বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যাবে৷
কর্মশালায় স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব সমরজিৎ ভৌমিক বলেন, রাজ্যে সংক্রামক রোগ কমছে এটা ভালো দিক৷ আগামী দিনে তিনি জেলা ও মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের স্ব-স্ব এলাকাধীন হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শন বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন৷ অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা জে কে দেববর্মা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তা ডা শৈলেশ কুমার যাদব৷ স্বাগত ভাষণ দেন স্টেট সার্ভিলেন্স অফিসার ডা প্রণব চ্যাটার্জি৷ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা ডা সুজিত কুমার চাকমা৷ কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ও তার প্রতিকারে করণীয় সম্পর্কে টেকনিক্যাল সেশনে বক্তারা আলোচনা করেন৷
2018-08-01