
২০১৬-র জুনে প্রকাশ্যে আসে বিহারে বোর্ডের পরীক্ষায় শীর্ষস্থান প্রাপ্তির কেলেঙ্কারি |এই মামলায় প্রথমে সিট গঠন করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয় বিহার সরকার | সিট তদন্তে পাওয়া তথ্য, বিহার পুলিশের এফআইআর বিবেচনা করে গত বছর বেআইনি আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলা দায়ের করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)| উদ্দেশ্য ছিল বিহার রাজ্য স্কুল পরীক্ষা বোর্ডের অনিয়ম ঘিরে তদন্ত করা।
এক বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, এই মমতার মূল অভিযুক্ত তথা বৈশালী জেলার বিশুন রায় কলেজের সচিব তথা প্রিন্সিপাল বাচ্চা রাই ওরফে অমিত কুমারের নামে লালগঞ্জ, মহুয়া, ভগবানপুর, হাজিপুরে ১৬টি জমি, তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রাইয়ের নামে ১৩টি জমি বাজেয়াপ্ত করেছে তারা। এছাড়াও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে আছে বাচ্চার মেয়ে শালিনী রাইয়ের নামে ব্যাঙ্কে রাখা আমানত, পটনার একটি ফ্ল্যাট, হাজিপুরে রাই পরিবারের একটি দোতলা বাড়ি। বেআইনি আর্থিক লেনদেন রোধ আইনে তাঁর ২৯টি জমি ও দশটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ মোট ৪.৫৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।তদন্তে নেমে মোট ৮ জনকে অভিযুক্ত করে ইডি । তবে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হল এই প্রথম।
ইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশের চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছে, বাচ্চা রাই বিহার স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অফিসার, কর্মী, তার সেই সময়ের চেয়ারম্যান লালকেশ্বর সিংহের সহায়তায় ছাত্রছাত্রীদের থেকে পরীক্ষায় ভাল ফল করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বিপুল অর্থ ঘুষ নিত। ইডি বলেছে, তাদের তদন্তে প্রকাশ, বাচ্চা রাই ওই ঘুষের টাকায় নিজের, স্ত্রী, মেয়ের নামে বিপুল জমিজমা কিনেছেন। এ ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি তাঁরা।
ইডি-র অভিযোগ, বাচ্চা ও তাঁর স্ত্রী আয়কর রিটার্নেও ঠিকঠাক হিসাব দেখাননি। কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর দেখিয়েছেন যে, ওদের চাষবাস থেকে আয় আগের বছরগুলির তুলনায় ৭০ গুণ বেড়েছে ।
উল্লেখ্য, ২০১৬-র জুনে প্রকাশ্যে আসে বিহারে বোর্ডের পরীক্ষায় শীর্ষস্থান প্রাপ্তির কেলেঙ্কারি| যাতে দেখা যায়, কলা বিভাগে প্রথম স্থান পাওয়া বৈশালীর বিশুন রায় কলেজের পড়ুয়া রুবি রাই অতি সাধারণ প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারছে না, এমনকী রাষ্ট্রবিজ্ঞানকেও সে প্রডিগাল সায়েন্স যাতে রান্না শেখানো হয়, বলে উল্লেখ করে। পরে রুবি এও জানিয়েছে সে বাবাকে বলেছিল যে তাকে যেন পাশ করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় | কিন্তু বাবা তাকে প্রথম করিয়ে দিল |