‘ভারত মাতা কি জয়’ শ্লোগান নিয়ে বিজেপি ও সিপিএমের তরজার লড়াই

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ মে৷৷ ‘ভারত মাতা কি জয়’ শ্লোগান নিয়ে বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে তরজার লড়াই শুরু হয়েছে৷ বিজেপি’র অভিযোগ, পেচারথলে সিপিএমের মিছিলে শ্লোগান দেওয়া হয়েছে ভারত মাতা কি জয় বলা যাবে না৷ এবিষয়ে সিপিএমের বক্তব্য, ঐ মিছিলে শ্লোগান দেওয়া হয়েছিল ভারত মাতা কি জয় বলা দেশদ্রোহীদের মুখে মানায় না৷
সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে এক ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপি প্রদেশ সভাপতি বলেন, সিপিএম দেশদ্রোহীতার প্রমাণ দিয়েছে৷ পেচারথলে সিপিএম কর্মী সমর্থকরা শ্লোগান দিয়েছেন ভারত মাতা কি জয় বলা যাবে না৷ তিনি বলেন, সিপিএম বরাবর দেশবিরোধী কাজ করে থাকে৷ কুলভূষণের ফাঁসি রদ হউক তা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই৷ কিন্তু, সংসদ হামলার মূলচক্রি আফজল গুরুকে ফাঁসি কেন দেওয়া হবে সেবিষয়ে তারা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে৷ বিপ্লববাবু বলেন, তারা পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বিরোধীতা করেছে৷ পেচারথলে এধরনের শ্লোগান দিয়ে আবারও তারা ভারতবিরোধী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে বলে বিপ্লববাবু মন্তব্য করেন৷
এদিকে, এব প্রেস বিবৃতিতে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী বলেছে, বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে পেচারথলে সিপিআই(এম) কেডাররা ভারত মাতা কি জয় বলা চলবে না বলে না কি স্লোগান দিয়েছে৷
খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর৷ গতকাল পেচারথলে সি পি আই (এম) ’র মিছিলে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল ভারত মাতা কি জয় বলা দেশদ্রোহীদের মুখে মানায় না৷ দেশদ্রোহী কারা? আর এস এস-কে দেশদ্রোহী বলা হয়েছে৷ কারণ, এরা স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করেছিল৷ এখন আর এস এস এর রাজনৈতিক শাখা বিজেপি -কে একই বিশ্লেষণে ভূষিত করা যায়৷ কারণ বিজেপি সরকার দেশের যাবতীয় সহায় সম্পাদ দেশি ও বিদেশি করপোরেটদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে৷ তাদের স্বার্থেই কেন্দ্রীয় সরকার যাবতীয় আর্থিক নীতি রূপায়িত করছে৷
পাকিস্তানে তথাকথিত সার্জিকেল স্ট্রাইক, আফজল গুরুর ফাঁসি ইত্যাদি বিষয়ে রাজ্য সভাপতি সিপি আই (এম) ’র বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও কুৎসা করেছেন, রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী তার প্রতিবাদ জানাচ্ছে৷ বরং, সীমান্তের জওয়ানরা নিজেদের সমস্যা জানালে তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয় কিংবা অভিযোগকারীকে খুন পর্যন্ত করা হয়, এমনকি সীমান্তে শহীদ হওয়া জওয়ানদের বাড়িতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর যাবেন বলে গালিচা থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী চলে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেসব সামগ্রী তুলে আনার মধ্যে কোন ধরনের দেশপ্রেম রয়েছে তা অবশ্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেননি৷ সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী বিশ্বাস করে মেকি দেশপ্রেমীদের সি পি আই (এম) বিরোধী কুৎসা রাজ্যবাসীকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না৷