রাজ্যে পরিষেবা উন্নয়নে রেল আধিকারীকদের কাছে গুচ্ছ দাবী পরিবহণ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ এপ্রিল৷৷ রাজ্যে রেল পরিষেবার অবস্থা খতিয়ে দেখতে পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ের দুই আধিকারীক শুক্রবার আগরতলায় এসে সমস্ত দিক পরিদর্শন করেছেন৷ তাঁদের সাথে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজারও ছিলেন৷ তাঁকে নিয়ে রেলের দুই আধিকারীক ধর্মনগর ডিপো এবং সেকেরকোটে প্রস্তাবিত তেল ডিপো ঘুরে দেখেছেন৷ অবশেষে মহাকরণে পরিবহণ মন্ত্রী মানিক দে’র সাথে তাঁরা বৈঠক করেছেন৷ বৈঠকে পরিবহণ মন্ত্রী রেলওয়ে এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের আধিকারীককে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছেন৷ বৈঠক শেষে পরিবহণ মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে জানান, যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যাগুলি পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ের অপারেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার অম্লান কুমার বিশ্বাস এবং নির্মাণ শাখার ডেপুটি চীফ ইঞ্জিনীয়ার রাজেশ কুমারকে অবহিত করা হয়েছে৷ তাঁদের সাথে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার কে কে হান্ডিক ছিলেন৷ তাঁকে তেল ডিপো নিয়ে রেলের সহযোগিতার মাধ্যমে বর্ষার মরশুমে জ্বালানী সংকট যাতে রাজ্যে দেখা না দেয় সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে৷
পরিবহণমন্ত্রী জানান, রেলের দুই আধিকারীককে দিল্লী এবং কলকতা রুটের ট্রেনের সময়সূচী কখনওই ঠিক থাকে না, সেই বিষয়টি জানানো হয়েছে৷ পরিবহণ মন্ত্রী এদিন বলেন, দিল্লীগামী ট্রেনটি প্রায় সময় অত্যাধিক বিলম্বে যাতায়াত করছে৷ তাতে যাত্রী সাধারণকে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে৷ তাছাড়া, দিল্লী ও কলকাতাগামী ট্রেনে পেন্ট্রিকার না থাকায় যাত্রীদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে৷ সেই বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য তাঁদের অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ মন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরাসুন্দরী এক্সপ্রেস এবং কাঞ্চনঝঙ্ঘা এক্সপ্রেসের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তাঁদের অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ এখন রাজ্যে রেল ইঞ্জিন এবং বগি সারাইয়ের পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে৷ ফলে, দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সমস্যা থাকার কথা নয় বলে মন্ত্রী মানিক দে জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি কলকতা এবং দিল্লীগামী ট্রেনের টিকিট রাজ্যের যাত্রীদের জন্য সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে, কয়েক মাস আগে থেকেই যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে৷ পরিবহণ মন্ত্রী রেলওয়ে আধিকারীকদের বলেছেন, টিকিট সংরক্ষণের কোটা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য৷ রেলওয়ে আধিকারীকরা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংখ্যা আপাতত বাড়ানো যাচ্ছে না বিষয়ে যুক্তি দিয়ে বলেন, লোকো পাইলটের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে৷ তবে, সম্প্রতি লোকো পাইলটদের ট্রেনিং হচ্ছে৷ জুলাই নাগাদ এই ট্রেনিং সম্পন্ন হয়ে যাবে৷ তারপর এক্সপ্রেস ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করবে পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে৷ রাজ্য থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস চালু করার বিষয়ে মন্ত্রী তাঁদের বলেছেন, পরিকাঠামোগত দিক দিয়ে সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে৷ ফলে, এখন আগরতলা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস চালু করার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকার কথা নয়৷ রেলওয়ে আধিকারীকরা এই বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিন্তা ভাবনা করছে বলে পরিবহণ মন্ত্রীকে জানিয়েছেন৷ এদিন পরিবহণ মন্ত্রী তাঁদের কাছে দাবী রেখেছেন ধর্মনগর পর্যন্ত ট্রেনে এ সি থ্রী টিয়ার বগি দেওয়া হয়েছে, যার ভাড়া চারশ টাকা যাত্রীপিছু৷ তার বদলে চেয়ার কার দেওয়া হলে ভাড়ার দিক দিয়ে যাত্রীরা লাভবান হবেন৷ রেলওয়ে আধিকারীকরা এই বিষয়ে পরিবহণ মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, চেয়ার কারের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে৷ প্রয়োজনীয় সংখ্যায় চেয়ার কার পাওয়া গেলে রাজ্যকেও তা দেওয়া হবে৷ পরিবহণ মন্ত্রী এদিন মালবাহী ট্রেনের বিষয়েও তাঁদের সাথে আলোচনা করেছেন৷ জিরানীয়াতে একসাথে দুটি মালবাহী ট্রেন ঢুকতে পারে ফলে আরও একটি ট্রেন আসলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়৷ পরিবহণ মন্ত্রী তাঁদের পূর্বের ন্যায় মালবাহী ট্রেন যেমন ভাবে চুড়াইবাড়ী, ধর্মনগর ও কুমারঘাটে রেক আলাদা করা হতো, সেই পদ্ধতি পুনরায় চালু করার জন্য রেলওয়ে আধিকারীকদের বিবেচনা করতে পরামর্শ দিয়েছেন৷
এদিকে, ধর্মনগর ডিপোতে রেল লাইন ব্রড গেজে রূপান্তর নিয়েও মন্ত্রী বর্তমান স্থীতি জানতে চেয়েছেন৷ রেলওয়ে আধিকারীকরা জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান অয়েলের তরফে সবুজ সংকেত মিললেই তেল ডিপো পর্যন্ত রেল লাইনটি ব্রডগেজে রূপান্তর করে দেওয়া হবে৷ এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের আধিকারীক শ্রীহান্ডিক খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিবহণ মন্ত্রীকে অবহিত করেছেন৷ তবে, আগামী আগষ্ট কিংবা সেপ্ঢেম্বরের আগে তেল ডিপো পর্যন্ত রেল লাইন ব্রড গেজে রূপান্তরের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে পরিবহণ মন্ত্রীর ধারণা৷