নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ এপ্রিল৷৷ আগরতলায় বাংলাদেশের আলোকচিত্র শিল্পীদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী উপলক্ষে ত্রিপুরায় সফররত চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক, চিত্র সাংবাদিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ আজ মহাকরণের ২নং কনফারেন্স হলে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন৷ সাক্ষাৎকারের সময় সফররত এই প্রতিনিধি প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানিয়ে তাঁদের মাধ্যমে ত্রিপুরার মানুষ ও সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের জনসাধারণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্যও কামনা করেন৷ বর্তমানে বাংলাদেশে যে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ঘটে চলেছে এটা অব্যাহত থাকুক ও এর গতি আরও বাড়ুক বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন৷ তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভালো না থাকলে আমরা ভালো থাকবো না৷ বাংলাদেশ ভালো থাকলে ভারত ভালো থাকবে, আবার ভারত ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে৷ আমাদের দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু পরশ্রীকাতরতা যেন না থাকে৷ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে যে সুসম্পর্ক রয়েছে তা আরও সুদৃঢ় সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে উভয় রাষ্ট্রেরই যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদেরকে আরও সদর্থক ও ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে৷ আলাপ-আলোচনা ও মত বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দুদেসের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুদেশের রাষ্ট্রনায়কদেরই দায়িত্ব নিতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ তিনি বলেন, দুদেশের এই সুসম্পকর্কে সুদৃঢ় করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে দুই দেশের নাগরিকগণকেই৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সুস্থ চিন্তা-চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও তার সাথে যুক্ত দেশাত্মাবোধ এবং সর্বোপরি আমাদের বিশ্বভ্রাতৃত্বাবোধের চেতনাকে আঘাত করার জন্য একাট অপপ্রয়াস চলছে৷ এর বিরুদ্ধে উভয় দেশের সচেতন নাগরিকগণকে সতর্ক থাকতে হবে৷ চোখ-কান খোলা রাখতে হবে৷ এই অশুভ প্রয়াসকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিহত করার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রঙণ করতে হবে৷ শুধু নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না৷ শুভ শক্তিকে সুসংহত করে সাহসের সঙ্গেই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে৷ নয়তো দুদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে না৷ শিক্ষা, সংসৃকতি, ক্রীড়া ও ব্যবসা-বাণিজ্যের আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য এইসব ক্ষেত্রে সংযোগ আরও বাড়াতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুদেশের নবীন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে হবে৷ এরাই হল বিকাশমান শক্তি৷ আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার শক্তি এবং দুদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়ার শক্তি এই নবীন প্রজন্মকে লক্ষভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে৷ তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও বিশ্বভ্রাতৃত্বাবোধের চেতনা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্কের ভাবনা গড়ে তোলার পরিবর্তে তাদেরকে আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতায় পর্যবসিত করার অপচেষ্টা চলছে৷ তাহলেই অশুভ শক্তির সুবিধা দুই দেশের নবীন প্রজন্মকে প্রতিক্রিয়ার শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সুনিদির্ষ্ট ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে৷ ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের রেল, সড়ক, বিমান, জলপথ ও টেলি যোগাযোগের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাতে ত্রিপুরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিংহদ্বারে পরিণত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন৷ উল্লেখ্য, চট্টগ্রামস্থিত আলোকচিত্র শিল্পীদের সংগঠন পোট্টেট এবং আগরতলা প্রেস ক্লাবের যৌথ আয়োজনে আজ ৬ থেকে ৮এপ্রিল আগরতলা সিটি সেন্টারে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংসৃকতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ এই উপলক্ষেই বাংলাদেশের চট্টগ্রামের শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আলোকচিত্র শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের এই প্রতিনিধিদলটি ত্রিপুরা সফরে এসেছেন৷ মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে আগরতালা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকও উপস্থিত ছিলেন৷
2017-04-07

