নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ এপ্রিল৷৷ নির্দিষ্ট মূল্যের তিনগুন দামে রাজ্যে সেট টপ বক্স বিক্রি এখনও চলছে৷ অথচ প্রশাসন ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করছে৷ এই বিষয়টিকে নিয়ে রহস্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে৷ সেট টপ বক্সের গ্যাড়াকলে রাজ্যে প্রায় দুই লক্ষাধিক ক্যাবল গ্রাহকদের সংযোগ ৩১ মার্চ মধ্যরাত থেকে ছিন্ন হয়ে গেছে৷ এখন সেট টপ বক্স বিক্রিকে ঘিরে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারীর অভিযোগ উঠেছে৷
ট্রাই’র নির্দেশে ৩১ মার্চ মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে ক্যাবল পরিষেবা৷ অবশ্য, তারাই দেখতে পারছেন না, যাদের সেট টপ বক্স নেই৷ তবে, যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে দুই লক্ষাধিক ক্যাবল সংযোগ ব্যবহারকারী এখন সেট টপ বক্সের গুতোয় ক্যাবল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত৷ এক্ষেত্রেও প্রশাসনের দিকেই আঙ্গুল উঠছে৷
ট্রাই সেট টপ বক্স বিক্রির নির্দিষ্ট দাম এবং পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে৷ সর্বাধিক ৮০০ টাকা দিয়ে গ্রাহকরা সেট টপ বক্স নিতে পারবেন৷ অথচ দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে অত্যাধিক চড়া দামে সেট টপ বক্স বিক্রি হচ্ছে৷ মজার বিষয় হল, চড়া দামে সেট টপ বক্স বিক্রির অভিযোগ মহকুমা শাসক কিংবা জেলা শাসকের কাছে জমা পড়লেই সেই গ্রাহককে ডেকে নিয়ে ক্যাবল অপারেটররা ৮০০ টাকায় সেট টপ বক্স দিয়ে দিচ্ছে৷ কিন্তু অন্যদের কাছ থেকে ১৭০০ বা কারোর কাছ থেকে ১৮০০ টাকাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ৷
সম্প্রতি গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা শাসক সৃষ্টি ক্যাবল নেটওয়ার্ককে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন৷ ৭ দিন সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাদের জবাব দিতে বলেছেন৷ কিন্তু, অবাক করার বিষয় হল ৭ দিন সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া সত্বেও সৃষ্টি ক্যাবল অপারেটর জেলা শাসকের শোকজ নোটিশের কোন জবাব এখনও পর্যন্ত দেয়নি৷ এমনকি জেলা শাসকও তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কোন পদক্ষেপ নেয়নি৷ এবিষয়ে জেলা শাসক জানিয়েছেন, সৃষ্টির ক্যাবল নেটওয়ার্ককে করা শোকজ নোটিশের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি৷ জবাব পাওয়া না গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ তবে, সেটা কবে নাগাদ সম্ভব হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে জেলা শাসক কিছুই জানান নি৷
সেট টপ বক্স বিক্রিকে ঘিরে বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারী হচ্ছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে৷ সারা রাজ্যে ৫ লক্ষ ৫৩ হাজার ক্যাবল সংযোগ ব্যাবহারীর সংখ্যা৷ এর মধ্যে ১ লক্ষেরও কিছু বেশী গ্রাহক বিভিন্ন বেসরকারী ডিশ টিভি ব্যবহার করছেন৷ এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৫০ হাজার সেট টপ বক্স সারা রাজ্যে বিক্রি হয়েছে৷ বাকিরা এখনও সেট টপ বক্স ক্রয় করেননি৷ ফলে, তারা ক্যাবল পরিষেবা পাচ্ছেন না৷ অভিযোগে জানা গেছে, ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে সেট টপ বক্স ক্রয় করে ক্যাবল অপারেটররা ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন৷ তাতে প্রায় ১০০০ টাকার মত মুনাফা হচ্ছে প্রতি সেট টপ বক্স বিক্রি করে৷ অবশ্য মুনাফার পুরো টাকা ক্যাবল অপারেটররা নিজেদের পকেটস্ত করছেন না৷ এর একটা বিরাট অংশ পার্টি ফান্ডে যাচ্ছে বলে অভিযোগ৷
এই অভিযোগের পেছনে যুক্তি, বহুবার বলা সত্বেও জেলা প্রশাসন সুয়োমুটোভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না চড়া দামে সেট টপ বক্স বিক্রির বিষয়ে৷ আর্থিক অনিয়মের যেকোন বিষয়ে জেলা প্রশাসন স্বউদ্যোগে খোজখবর নিতে পারেন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ারও এক্তিয়ার রয়েছে জেলা প্রশাসনের৷ কিন্তু, জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়৷ অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহাও একই যুক্তি দেখিয়েছেন৷ তাঁরও বক্তব্য, ট্রাই’র নির্দেশিকা উলঙ্ঘন হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তবেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব৷
সম্প্রতি মাছে ফরমালিন ব্যবহার হচ্ছে এসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার ফলে স্বাস্থ্য দপ্তর নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিয়েছে৷ তাতে মাছে ফরমালিন ব্যবহৃত হচ্ছে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে৷ ফলে, প্রশ্ণ হল বার বার জেলা শাসককে জানানো হলেও, মন্ত্রীর গোচরে বিষয়টি নিয়ে যাওয়া হলেও স্বউদ্যোগে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা কেন নিচ্ছে না৷ আর ঠিক এই কারণেই এর পেছনে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারী হচ্ছে বলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে৷
2017-04-03

