রাজ্যে নারী নির্যাতন, বেকার ও কর্মচারী বঞ্চনা নিয়ে জোরদার আন্দোলনে নামছে বিজেপি

BJP SADARনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি৷৷ নারী নির্যাতন, বেকার ও কর্মচারী বঞ্চনা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা এই বিষয়গুলি নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমন্ডল তপ্ত করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি৷ এছাড়াও আরটিআইকে ব্যবহার করে বিভিন্ন দুর্নীতির খবর খঁুজে বের করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনে নামারও অঙ্গীকার নিয়েছে গেরুয়া শিবির৷ রবিবার আগরতলায় বিজেপি সদর জেলা কমিটির চতুর্থ কার্যকারিণী বৈঠকে এই মর্মে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে৷ পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে প্রতিটি বুথ স্তরের কমিটির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ারও উদ্যোগ নিতে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে৷
এদিন, দলের সদর জেলা কমিটি কার্যকারিণী বৈঠকে ২০১৮ নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচী কোন কোন ইস্যুতে সংগঠিত করা হবে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে৷ তাতে, বিশেষভাবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং বঞ্চনাকেই মূল হাতিয়ার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির৷ নারী নির্যাতন, কর্মচারী ও বেকার বঞ্চনা, বেহাল শিক্ষা এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিজেপি সদর জেলা কমিটি শীঘ্রই শাসক দল এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনমুখী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ প্রত্যেক মানুষকে এই সমস্ত বিষয়ে অবগত করানোর পাশাপাশি এর পরিত্রাণের দিশাও দেখানোর পরিকল্পনা স্থির হয়েছে৷ এদিনের বৈঠকে এই সমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে যারা যোগ দিচ্ছেন তাদেরকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়টিও স্থির হয়েছে৷ অবশ্য দলীয় অনুশাসন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ কোন মতেই বরদাস্ত করা হবে না সেই লক্ষ্যে দলের প্রত্যেক নেতা কর্মীদের সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান তৈরি করার জন্যও শীর্ষস্তরের নেতাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও যেসব স্থানে দলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল সেখানে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে শক্তিশালী করে তোলার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে সদর জেলাকমিটিকে৷ এদিকে, আগামী একমাসব্যাপী দলীয় বিশেষ তহবিল অভিযান সংগ্রহ এবং আজীবন সহযোগ নিধির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ তবে, ৫ হাজার টাকার উপরে চাঁদা নেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা কমিটির অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ এরই পাশাপাশি দলীয় তহবিলের অর্থ যাতে নয়ছয় না হয় তার জন্য কূপন ছাড়া কোন অর্থ সংগ্রহ করা যাবে না সেই নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷ বিজেপি সদর জেলাকমিটি মনে করছে এই সমস্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দল এই অঞ্চলে সাংগঠনিক যে দুর্বলতা রয়েছে তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *