নয়াদিল্লি, ২৯ জানুয়ারি (হি.স.) : একাধিক বোর্ডের পরীক্ষার আগে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে দেশের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । কাশ্মীরে তুষারধসে মৃত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রবিবার বছরের প্রথম রেডিও বার্তা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী । ৩০ জানুয়ারি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবারণের জন্য ২ মিনিট নীরবতা পালনের কথাও বলেন তিনি। আজকের মন কি বাত অনুষ্ঠানে পরীক্ষা ও পড়াশোনা নিয়ে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকদের পরামর্শও দিলেন। ছাত্রছাত্রীদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এপিজে আবদুল কালাম, শচিন তেন্ডুলকরের লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার চেয়েও জরুরী নিজের জ্ঞান বাড়ানো। তাই যাই পড়বে, সেটা যেন বোধগম্য হয়।’ এরপরই যুবসমাজের উদ্দেশ্যে মোদীর পরামর্শ, ‘নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। যাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে, তারাই পরীক্ষায় নকল করে।’
পড়াশোনা পাশাপাশি এদিন, আরাম, ঘুম, ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটির ওপরও জোর দেন বলেন, শুধু পড়াশোনা করবেন না, এর মাঝে নিজেকে রিল্যাক্স রাখার চেষ্টা করুন, একটু আরাম করুন, ঘুরে আসুন, খেলুন, সময়ে ঘুমোন। এতে আরও বেশি করে পড়াশোনা করতে পারবেন। তবে, আমি বলেছি বলে, সারাদিন ঘুমোবেন না। আমি কিন্তু এই কথা একবারও বলিনি। আমি যা বলেছি, সেটা ইচ্ছে হলে করুন, নাহলে করবেন না।নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সন্তানের উপর চাপ দেবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাশার চাপ সন্তানের কেরিয়ার শেষ করে দেয়। তাই সন্তানকে সময় দিন। ঠিকভাবে গাইড করুন। কখনোই অন্যদের সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করবেন না।’
এরপরই শচিন তেন্ডুলকরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শচিন বরাবর নিজের সঙ্গে তাঁর তুলনা করেছে। অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করেনি। সেকারণেই শচিন সফল হয়েছে। জ্ঞান, দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে শীর্ষে নিয়ে যায়। যা শচিনের মধ্যে পুরোমাত্রায় ছিল।’
জীবনের পরবর্তী ধাপে মার্কশিটের বড় একটা ভূমিকা রয়েছে, এমনটা মনে করেন না নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, ‘আবদুল কালাম চেয়েছিলেন পাইলট হতে। কিন্তু হয়ে গেলেন বিজ্ঞানী। তাই জীবনে সাফল্যের জন্য পরীক্ষাই সব নয়। তবে হ্যাঁ, পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেতে হলে মনে খুশি রাখতে হবে। চাপমুক্ত থাকতে হবে।’ এছাড়া ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে দেশের বীর জওয়ানদেরও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদী।
2017-01-29