বেলা এগারটায় ব্যাঙ্কে কর্মী নেই, ইউবিআই চন্দ্রপুর শাখায় গ্রাহক হয়রানি চরমে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জানুয়ারি৷৷ নোট বাতিলের ফলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তার থেকে আস্তে আস্তে উত্তরণ সম্ভব

ইউবিআই চন্দ্রপুর শাখায় কর্মী নেই বেলা এগারটাতেও৷ ছবি নিজস্ব৷
ইউবিআই চন্দ্রপুর শাখায় কর্মী নেই বেলা এগারটাতেও৷ ছবি নিজস্ব৷

হচ্ছে৷ ব্যাঙ্ক এটিএমগুলিতে এখন আর ভিড় দেখা যায় না৷ নতুন নোটের সমস্যাও অনেকটাই মিটেছে বলে দাবি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তাদের৷ এরই মাঝে ইউবিআই ব্যাঙ্কের চন্দ্রপুর শাখায় গ্রাহকদের চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে৷ সকাল ১১টা বাজলেও কোন কাউন্টারে ব্যাঙ্ক কর্মীরা এসে হাজির হননি৷ আসেন নি ইউবিআই’র চন্দ্রপুর শাখার শাখা প্রবন্ধকও৷ ফলে, এক সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যাঙ্ক কর্মীদের গড়িমসির কারণে নাজেহাল সাধারণ গ্রাহক৷

শনিবার এই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে ইউবিআই’র চন্দ্রপুর শাখায়৷ এমনিতেই শনিবার অর্ধবেলা কাজ হয় ব্যাঙ্কে৷ বেলা দুটোর মধ্যে টাকা জমা নেওয়া এবং তোলা যায়৷ সকাল দশটা থেকে ব্যাঙ্কে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ঐদিন বেলা ১১টা বাজলেও কোন কাউন্টারেই ব্যাঙ্ক কর্মীদের পাওয়া যায়নি৷ এবিষয়ে কারণ খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি৷ শাখা প্রবন্ধক নিজেই নির্দিষ্ট সময়ের অনেকটা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ব্যাঙ্কে আসেননি৷ ফলে, ক্রমাগত বাড়তে থাকে গ্রাহকদের ভিড়৷ উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে জনৈক বৃদ্ধ গ্রাহক হন্যে হয়ে খঁুজছিলেন টাকা জমা দেওয়ার রসিদ৷ নাতির কাছে টাকা পাঠাতে হবে তাই ১০-টার আগেই ব্যাঙ্কে হাজির হয়েছিলেন তিনি৷ দুটো বেজে গেলে টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হবে না তাই রসিদের জন্য এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন৷ ব্যাঙ্কের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরাও ব্যাঙ্ক কর্মীরা কটা নাগাদ ব্যাঙ্কে আসবেন সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছিলেন না৷ এমনকি টাকা জমা দেওয়া বা নেওয়ার রসিদ কোথায় রয়েছে সেটাও বলতে পারছিলেন না৷ এক সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ উপস্থিত গ্রাহকরা হইচই শুরু করে দেন৷ প্রচন্ড চিৎকার চেঁচামেচির খবর পেয়ে দুয়েকএকজন ব্যাঙ্ক কর্মী কাউন্টারে এসে হাজির হন৷ কিন্তু দেরিতে কেন এসেছেন সে প্রশ্ণের কোন সুদত্তর দেননি৷ বরং এক বৃদ্ধা গ্রাহককে শাঁসানোর সুরে বলেছেন মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে৷ এতে আপনার যদি কোন আপত্তি থাকে তাহলে আমার কিছু করার নেই৷ উপস্থিত কয়েকজন গ্রাহক বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের গোচরে নেবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্তু ব্যাঙ্কের কর্তাই উপস্থিত ছিলেন না তখন৷ স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষোভ চাপা দিয়ে টাকা তুলতে এবং জমা দিতে আরম্ভ করেন গ্রাহকরা৷

অভিযোগ ইউবিআই’র চন্দ্রপুর শাখায় এধরনের ঘটনা আগে বহুবার ঘটেছে৷ বহু অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক কর্মীদের গড়িমসি কোন মতেই কমছে না৷ নোট বাতিলের পদক্ষেপের পর থেকে সারা রাজ্যের পাশাপাশি গোটা দেশেই ব্যাঙ্ক কর্মীরা দিনরাত খেটেছেন৷ যার কারণে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেছে৷ নোট বাতিলের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতির সমাধানে ব্যাঙ্ক কর্মীদের ভূমিকা কোন ভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই৷ কিন্তু মাঝে মাঝে ব্যাঙ্কে গ্রাহক হয়রানি তাদের পরিশ্রমকে কালিমালিপ্ত করে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *