আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রের সুবর্ণ জয়ন্তী

AIRনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ জানুয়ারী৷৷ আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্র আগামী ২৬ জানুয়ারী ৫০ বছরে পদার্পণ করছে৷ এই উপলক্ষ্যে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে৷ এবিষয়ে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রে অফিস প্রধান সুচিস্মিতা রায় জানিয়েছেন, ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে ২৬ জানুয়ারিতে কোন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হলেও ৩০ এবং ৩১ জানুয়ারি দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে৷ রাজ্যপাল তথাগত রায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রের ৫০ বছর পদার্পণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন৷
এক প্রেস বিবৃতিতে বেতার কেন্দ্রের তথ্যপট তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ১৯৬৭ ২৬ জানুয়ারী এই কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল৷ সেসময় এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত শচীন্দ্র লাল সিংহ৷
আগরতলা থেকে আকাশবাণীর বেতার সম্প্রচারের শুরু হয়েছিল কলেজটিলা একটি অস্থায়ী কেন্দ্র থেকে৷ পরে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয় রানিরবাজার এর বৃদ্ধিনগর স্টেশন থেকে৷ শুরুতে এই কেন্দ্রটি কলকাতা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বটে, পরে তা স্বয়ংসম্পূর্ণ সম্প্রচার কেন্দ্রের চেহারা নেই ১৯৭৪ সালে৷ এর সম্প্রচার শুরু হয়েছিল ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ২টো মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটার দিয়ে৷ ১৯৭৯ থেকে আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্র প্যালেস কম্পাউন্ড কার্যালয় থেকে কাজ শুরু করে, কেন্দ্রের মূল কার্যলয়ও এখানেই৷ ১৯৭৪-র পর ১৯৯৫ -এ নতুন ২টি ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ট্রান্সমিটার (মিডিয়াম ওয়েভ) বসানো হয়৷ এদের ফ্রিকয়েনসি ছিল ১২৬৯ কিলো হার্টজ, এতে আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনা যেত ৬০ কিমি পর্যন্ত৷
এর অতিরিক্ত হিসেবে, ২০০৫ এর ১৫ আগস্ট আগরতলা কেন্দ্রে বসানো হয় ১০ কিলোওয়ার্ট ক্ষমতার এফ এম ট্রান্সমিটার, কিন্তু আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রের নিজস্ব টাওয়ার না থাকায় ইন্টেরিম মাস্ট-এ ২ কিলো ওয়াট ক্ষমতায় সম্প্রচার শুরু হয় ১৩ নভেম্বর, ২০১২ থেকে, এর প্রসারণ ক্ষমতা ২০ কিমি অঞ্চল পর্যন্ত৷
বর্তমানে, আকাশবাণী মিডিয়াম ওয়েভ-এ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়, একটি মাত্র ১০ কিলো ওয়াট ট্রান্সমিটারের সাহায্যে, সকাল ৫,৫৫ মিনিট থেকে রাত ১০৩০ মিনিট পর্যন্ত৷ এর আওয়তায় রয়েছে ৩০ কিমি এলাকা৷
যে স্টেশনের কার্যক্রম শুর হয়েছিল কলকাতা থেকে অনুষ্ঠান রিলে করা দিয়ে, গত ৫০ বছরে এই স্টেশনের কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ঘটেছে অনেক৷ ২০১১-এ সমীক্ষা অনুসারে আগরতলা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানের শ্রোতা সংখ্যা ৩৩ লাখ ৬২ হাজার৷
বিভিন্ন সময় সময়ে নানা অনুষ্ঠান এর প্রবর্তন হয়ে বর্তমানে যেসব অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে এদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটির উল্লেখ করা হলো , শিশুমেলা (বাংলা, ১৯৭৪ থেকে), শিশুমেলা (ককবরক, ১৯৭৬ থেকে), যুববাণী (বাংলা, ২০২ ১৯৭৮ থেকে), অঙ্গনা ( ১৯৮৩ থেকে), বিদ্যার্থীদের অনুষ্ঠান (১৯৮৪ থেকে, অভিজ্ঞাপন (১৪ ১৯৯০ থেকে), খেলার আসর (১৯৯৩ থেকে), সান্ধ্য বাংলা স্থানীয় সংবাদ (২৪৫১৯৭৫ থেকে), সকালের বাংলা সংবাদ (১২১০১৯৯৪ থেকে) লাইভ ফোন-ইন অনুষ্ঠান (১৫৮১৯৯৯ থেকে) সুস্বাস্থ্য লাইভ ফোন ইন (১৭-৮-১৯৯৯ থেকে)৷
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রীমতী রায় জানান, আগামী ২৬ জানুয়ারী থেকে কেন্দ্রের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে৷ ষ্টুডিও থেকে এই অনুষ্ঠানগুলি যথারীতি সম্প্রচার করা হবে৷ ৩০ জানুয়ারী থেকে সুবর্ণ জয়ন্তীর মূল আনুষ্ঠানিক উদযাপন শুরু হবে৷ ৩০ তারিখ সকাল ১১ টায় আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রের প্যালেস কম্পাউন্ড প্রাঙ্গনে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন রাজ্যপাল তথাগত রায়, সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রী ডি এন বসুমাতারি, অতিরিক্ত মহা নির্দেশক, (উত্তর-পূর্ব)৷ এই অনুষ্ঠানে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে বিখ্যাত জিমন্যাস্ট কুমারী দীপা কর্মকারকে৷ এছাড়াও থাকবে অন্যান্ন সংসৃকতিক অনুষ্ঠান৷ এদিন সন্ধ্যা ৫ টা থেকে শুরু হবে ২ পর্ব আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রদর্শিত ও মঞ্চস্থ হবে সেমিনার, এই সময়ে নিউ মিডিয়ার দৌরাত্মে বেতারের ভূমিকা৷ এছাড়া থাকবে পুতুল নাচ, অন্যান্ন সংসৃকতিক অনুষ্ঠান৷
৩১ জানুয়ারী সকাল ১১ টায় কেন্দ্রের প্যালেস কম্পাউন্ড প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আগরতলার মেয়র ড প্রফুল্লজিৎ সিনহা৷ এই পর্বে, রাজ্যের কৃতি মহিলা ফুটবলার লক্ষিতা রিয়াং কে সংবর্ধনা জানানো হবে৷ এদিন সন্ধ্যায় ২য় পর্বের অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে রবীন্দ্র শতাবার্ষিকী ভবনে -র ২য় প্রেক্ষাগৃহে সন্ধ্যা ৬টায় এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করবেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ থাকবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সংসৃকতিক অনুষ্ঠান৷ রাজ্যের ও বহিরাজ্যের শিল্পীরা বাংলা ও ককবরক ভাষায় লোক ও উপজাতি সংস্কৃতির নানা অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করবেন৷
সর্বশেষে, সুবর্ণ জয়ন্তী বছরে আকাশবাণী আগরতলা কেন্দ্রে যুক্ত হচ্ছে একটি নতুন ১০ কিলো ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এফ এম ট্রান্সমিটার৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *