ইমিটেশন গয়না জমা দিয়ে দু কোটি টাকা ঋণ, গ্রেফতার দুই ব্যাংক অফিসার

gold-jewellaryগুয়াহাটি, ১৯ জানুয়ারি, (হি.স.) : লকার জালিয়াতির অভিযোগে সিআইডি-র হাতে গ্রেফতার হলেন দুই ব্যাংককর্তা। তাঁরা আইসিআইসিআই ব্যাংকের গোলাঘাট শাখার জেনারেল ম্যানেজার প্রাঞ্জল গোস্বামী ও ডেপুটি ম্যানেজার দিগন্ত শর্মা। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গোল্ড লোনের অধীনে ইমিটেশন গয়নার বদলে জনৈক ব্যাংক গ্রাহককে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়েছিলেন।
গোলাঘাট শহরে অবস্থিত আইসিআইসিআই ব্যাংক থেকে গত ২০১৪ সালে জনৈক ব্যবসায়ী দিগন্ত শইকিয়াকে দু-কোটি টাকা মূল্যের ইমিটেশন বা নকল সোনার গয়নার বিনিময়ে জেনারেল ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজার চার কোটি টাকার ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেলেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তারা ওই সোনাগুলি পরীক্ষা করলে বিশাল এই কেলেংকারির ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এর পর আইসিআইসিআই-এর ক্লাস্টার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দয়রিং পাটগিরি পদস্থ দুই আধিকারিক প্রাঞ্জল গোস্বামী ও দিগন্ত শর্মার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর গোলাঘাট থানায় বিশাল এই জালিয়াতি সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
সে অনুযায়ী ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০৮ ও ৩৭ ধারায় ৮৬৩/২০১৪ নম্বরে গোস্বামী ও শর্মার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। এর পর রাজ্যের পুলিশপ্রধানের নির্দেশে এই কেলেংকারির তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। কেলেংকারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের গুয়াহাটিতে সিআইডি দফতরে ডাকা হয়। ডাক পেয়ে যেই তাঁরা সিআইডি দফতরে পা রাখেন, সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের গ্রেফতার করেন সিআইডি কর্তারা।
সিআইডি দফতর সূত্রের খবর, তাদের আমলে আইসিআইসিআই-এর গোলাঘাট শাখায় ১৯জন গ্রাহককে সোনার বিনিময়ে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। তখন তাঁরা দু হাতে লুণ্ঠন করেছেন বলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সব ঋণগ্রহীতাই যে নকল সোনা জমা দিয়ে টাকা নিয়েছেন তা নয় বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এই দুই ব্যক্তি জিএম এবং ডিজিএম ঋণের নামে দু কোটি টাকার বেশি উপরি কামাই করেছেন তা অনুমান করা হচ্ছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, ঋণ জালিয়াতিতে এঁদের সহায়তা করেছেন জনৈক দিগন্ত বরা নামের ‘মধ্যস্বত্বভোগী দালাল’। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সাধারণত জমাকৃত সোনাগুলি আসল না নকল আগে তা পরীক্ষা করেই ঋণের টাকা দেওয়া হয় স্বীকৃত পোদ্দার বা সোনারিকে দিয়ে। কিন্তু আইসিআইসিআই ব্যাংকের স্বীকৃত সোনারির সঙ্গে যোগসাজস করেই নকল সোনার গয়নাগুলি আসল বলে বর্ণনা করে নথিপত্রের জমা দিয়েছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত এই জিএম ও ডিজিএম। কেলেংকারিটি প্রকাশ্যে আসে তখন, যখন অনাদায়ী ঋণের টাকার বিনিময়ে জমাকৃত সোনাগুলি নিলাম ডাকা হয়। ২০১৪ সালের ১৯জন ঋণগ্রহীতার মধ্যে কয়েকজনের অনাদায়ী ঋণের টাকা পরিশোধ করতে জমা রাখা সোনা নিলাম করতে গিয়েই ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। উল্লেখ্য, যে সোনারি নকল সোনার গয়নাগুলিকে আসল বলে ছাড়পত্র দিয়েছিল, তাকে গত বছর গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *