সন্ত্রাসবাদ দমনে ও জনগণের সাহায্যার্থে বিমুদ্রাকরণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ঃ রাজ্যপাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি৷৷ নোট বাতিলের পদক্ষেপের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল তথাগত রায়৷

মঙ্গলবার বিমুদ্রাকরণ এবং নগদহীন লেনদেন শীর্ষক প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যপাল তথাগত রায়৷ ছবি নিজস্ব৷
মঙ্গলবার বিমুদ্রাকরণ এবং নগদহীন লেনদেন শীর্ষক প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যপাল তথাগত রায়৷ ছবি নিজস্ব৷

তাঁর মতে, কালো টাকা, জাল নোট এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে ও সাধারণ জনগণের সাহায্যার্থে বিমুদ্রাকরণ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ৷ তিনি মনে করেন, দেশের সাধারণ জনগণ এই পদক্ষেপ সাদরে গ্রহণ করেছেন, কারণ নোট বাতিলে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা আস্তে আস্তে মিটতে শুরু করেছে৷ মঙ্গলবার বিমুদ্রাকরণ এবং নগদহীন লেনদেন শীর্ষক প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল এভাবেই তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন৷
রাজ্যপালের দাবি, কালো টাকা লুকিয়েছিল, নোট বাতিলের পদক্ষেপে সেই টাকা বেরিয়ে এসেছে৷ শুধু তাই নয়, ব্যাঙ্কেও প্রচুর টাকা জমা পড়েছে৷ তিনি মনে করেন, কালো টাকা যাদের কাছে রয়েছে বিমুদ্রাকরণ তাঁদের কাছেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ নোট বাতিলের পদক্ষেপে সাধারণ জনগণের উপর মারাত্মক কোন প্রভাব পড়েনি৷ এদিন তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিমুদ্রাকরণ এবং নগদহীন লেনদেন বহুলচর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ সাধারণ জনগণের জীবনে তাতে সামান্য পরিবর্তন আনা হচ্ছে৷ তিনি জোর গলায় বলেন, এধরনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কিংবা পরিবর্তন দেশে নতুন নয়৷ আগামীদিনেও এধরনের পরিবর্তন কিংবা পদক্ষেপ নেওয়া হলে একাংশের জনগণের বিচলিত হয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক৷
এদিন তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইতিহাসের পাতা থেকে কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন৷ ১৯৫০ সালে ৯ পয়সার মুদ্রা বাজারে এসেছিল৷ তখনো এনিয়ে বিভিন্ন অংশের মানুষের নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল৷ কিন্তু কিছুদিন বাদে সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায়৷ তেমনি ১৯৮০ সালে যখন কম্পিউটার আমাদের দেশে চালু হয়েছিল তখনো এর বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছিল৷ কম্পিউটার বেকারত্ব বাড়াবে, সে তত্ত্ব তুলে ধরে অনেকেই বিক্ষোভ আন্দোলন সংগঠিত করেছিল৷ কিন্তু প্রযুক্তির এই দানকে আজ মানুষ কোনভাবেই খাটো দেখতে পারবেন না৷ কম্পিউটার এবং প্রযুক্তি ছাড়া আজ কোন কিছুই ভাবা অসম্ভব৷
একই ভাবে নোট বাতিলের পদক্ষেপে ব্যাঙ্ক এবং এটিএমের বাইরে লম্বা লাইন দেখা গেছে ঠিকই কিন্তু তা ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক৷ গ্রামীণ এলাকায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে কাউকেই খুব একটা দেখা যায়নি৷ রাজ্যপাল বলেন, বিমুদ্রাকরণের পাশাপাশি নগদহীন লেনদেনও দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক দিকের সূচনা করতে চলেছে৷ নগদহীন লেনদেন মানে নগদ ছাড়া লেনদেন নয়৷ চিন্তাধারার বদল ঘটালে নিশ্চিতভাবে বোঝা যাবে নগদ টাকার ব্যবহার কম করার জন্য নগদহীন লেনদেনের ধারণার উৎপত্তি হয়েছে৷ তিনি মনে করেন, অর্থনীতির এই নয়া মাধ্যম আগামীদিনে দেশের উপকারে কাজে লাগবে৷
তবে ভারতের মত দেশের পরিকাঠামোর নিরিখে নগদহীন লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার কতটা সম্ভব সে বিষয়ে কিছুটা সংশয় রয়েই যাচ্ছে৷ এই কর্মশালায় উপস্থিত সিএসসি’র সিইও দীনেশ কুমার ত্যাগী বলেন, দেশে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫২ লক্ষ মানুষ প্রযুক্তিগতভাবে শিক্ষিত৷ এজন্য কেন্দ্রীয় সরকার আগামী দু’বছরে ৬ কোটি দেশবাসীকে প্রযুক্তিগতভাবে সাক্ষর করে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে৷ এধরনের পদক্ষেপ ২০০৬ সালেই নেওয়া হয়েছিল৷ ৫০টি গ্রাম নগদহীন লেনদেন সুবিধাযুক্ত করার জন্য দত্তক নেওয়া হয়েছিল৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *