পটনায় নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৪, এখনও নিখোঁজ অনেকেই

পাটনা, ১৫ জানুয়ারি (হি.স.) : মকর সংক্রান্তির সন্ধ্যায় পটনায় নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৪।বেশ কয়েক জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবারও চলছে উদ্ধার কাজ । আর এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ অনেকেই। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার।বিহার সরকারের পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেবে কেন্দ্র। নৌকাডুবির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। এই ঘটনায় রাজ্যে মহাত্মা গান্ধী সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতীন গাদকারি।
পাটনায় গঙ্গার মাঝে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। প্রতিবছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে সেখানে ঘুরি ওড়ানোর উৎসব হয়। শনিবার সন্ধেবেলা সেই উৎসব থেকে ফেরার সময় নদীতে উল্টে যায় নৌকাটি । সরকারি মতে নৌকায় প্রায় ৪০ জন যাত্রী থাকার কথা বলা হলেও, বেসরকারি মতে সংখ্যাটা কমপক্ষে ৬০ থেকে ৮০। সন্ধে ছটা থেকে সাতটার মধ্যে পটনার সবলপুর দিয়ারা ঘাট থেকে গান্ধী ঘাটে যাওয়ার পথে নদীতে উল্টে যায় যাত্রীবোঝাই নোকা। নৌকায় অধিকাংশ যাত্রীই স্থানীয় ডলফিন আইল্যান্ড বিনোদন পার্কে সরকার আয়োজিত ঘুড়ি উৎসব দেখে ফিরছিলেন বলে খবর।
কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। খবর পেয়ে উদ্ধারে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সাহায্যে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে উদ্ধার কাজ। ২১টি দেহ উদ্ধার হয়। রবিবার ভোরে ফের শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এখন পর্যন্ত ২৪টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় ৬ জন পাটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মৃতদের পরিবার পিছু চার লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবার পিছু দু’লাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
নৌকাডুবির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। নৌকা পরিচালন সংস্থার বিরুদ্ধে সোনপুর থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। পাটনার জেলাশাসক সঞ্জয়কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, বেশি যাত্রী থাকার কারণেই দুর্ঘটনা। তবে অন্য নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী তোলার বিষয়ে কোনও প্রশাসনিক নজরদারি ছিল না ঘাটগুলিতে। পাশাপাশি ডলফিন আইল্যান্ড বিনোদন পার্কটিও বেআইনিভাবে চলছিল বলে সূত্রের খবর। একটি অবৈধ পার্কে কী করে সরকারি অনুষ্ঠান হতে পারে প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। অব্যবস্থার জন্য বিহার সরকারের দিকেই আঙুল তুলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাধামোহন সিং।-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *