নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/খোয়াই/তেলিয়ামুড়া, ১২ জানুয়ারী৷৷ ছাত্রছাত্রীদেরকে মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের

মতো মানুষ হবার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৫তম জন্মজয়ন্তী তথা ৩৩তম জাতীয় যুব দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বিবেক উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষার মূল কথাই ছিল জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে মানুষকে ভালোবাসতে হবে, মানুষ হিসেবে মানুষকে সম্মান দিতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সরকার বলেন, শুধু বয়সে বড় হলেই চলবে না, ভাবনা, চিন্তা ও চেতনায় বড় হতে হবে৷ ছাত্রছাত্রীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই চলবে না, পাশাপাশি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য চরিত্র গঠনেও নিজেদেরকে যুক্ত করতে হবে৷ সঠিক চরিত্র গঠন না হলে জাতি গঠন যেমন অসম্ভব তেমনি দেশকে ভালোভাবে গঠন করাও সম্ভব নয়৷ এক্ষেত্রে স্বামীজী আমাদের যে শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে৷ তিনি ছাত্রছাত্রীদেরকে উদ্দেশ্যে করে আরও বলেন, সত্যবাদী ও সত্য সন্ধানী হয়ে ন্যায়কে ন্যায় এবং অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে৷ এই শিক্ষায় নিজেদেরকে শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে৷ তবেই বিবেকানন্দের প্রতি সঠিক অর্থে শ্রদ্ধা জানানো হবে৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ডঃ প্রফুল্লজিৎ সিনহা স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের বিভিন্ন দিক আলোচনা করে বলেন, তিনি ছিলেন সকলের অনুপ্রেরণার প্রতীক, বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের কাছে৷ তিনি এখনও সমান প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণীয়৷ অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সচিব স্বামী হিতকামানন্দ মহারাজ স্বামী বিবেকানন্দের প্রদর্শিত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষ হবার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, স্বামীজী বলতেন শিক্ষাকে আত্মস্থ করতে হলে একাগ্রতা প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, স্বামীজী অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষ ছিলেন৷ তিনি দেশকে ভালো বাসতেন৷

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এম কে নাথ স্বামীজীর প্রদর্শিত পথ অনুসরণের উপর গুরুত্বরোপ করেন৷ স্বাগত ভাষণ দেন বিবেক উদ্যান সংরক্ষণ সমিতির সভাপতি কানাইলাল দাস৷ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্বামী প্রাণেশ্বরানন্দ মহারাজ৷ অনুষ্ঠানে বিবেক জ্যোতি প্রজ্জ্বলন করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ বিবেক পতাকা উত্তোলন করেন মেয়র ডঃ প্রফুল্লজিৎ সিনহা৷ এ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরসৃকত করা হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সহ উপস্থিত অন্যান্য অতিথিগণ এদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন৷
এদিকে, খয়েরপুর পল্লিমঙ্গল দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের এন এস এস ইউনিটের উদ্যোগে অয়োজিত ৭দিন ব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচী ও আলোচনা শিবির আজ শেষ হয়৷ এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর৷ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ও যুব দিবস উপলক্ষ্যে আজ এন এস এস কর্মসূচীর শেষদিনে রক্তদান শিবির আয়োজিত হয়৷ এই শিবিরে ১৪ জন ছাত্রছাত্রী স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন৷ উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর এই রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে বলেন, রক্ত দান একটা মানবতামূলক কাজ৷ ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষিত হয়ে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি একজন প্রকৃত মানুষ হওয়াও মূল লক্ষ্য হতে হবে৷ এজন্য তিনি সকলকে বিবেকানন্দের ভাবধারা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন এন এস এস ইউনিটের প্রোগ্রাম অফিসার নায়ারণ মল্লিক৷ সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডঃ নির্মল কান্তি কর৷ এখানে উল্লেখ্য যে গত, ৬ জানুয়ারী ৭দিন ব্যাপী এন এস এস ইউনিটের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন পুরাতন আগরতলা পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন সূর৷ ৭ দিনের কর্মসূচীগুলির মধ্যে ছিল স্বচ্ছ ভারত মিশন, দুর্যোগ মোকাবিলা ছেলেমেয়েদের বয়সন্ধিকাল, আইনী সুরক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা৷ এছাড়া প্রতিদিনই অনুষ্ঠিত হয়েছে যোগাসন ও সাফাই অভিযান৷ ১০ জানুয়ারি করা হয় শিক্ষামূলক ভ্রমন৷
এদিকে, স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৪তম জন্মজয়ন্তী এবং জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন ও উপজাতি যুব ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত যুবকদের যুব সম্মান প্রদান করে৷ বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা উপজাতি যুব ফেডারেশনের ১৫তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মঞ্চে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান ডিওয়াইএফআই সর্বভারতীয় সভাপতি তথা সাংসদ এমবি রাজেশ, প্রাক্তন যুব নেতা তথা টিটিএডিসি চেয়ারম্যান রাধাচরন দেববর্মা, ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক অমল চক্রবর্তী, সভাপতি পঙ্কজ ঘোষ সহ অন্যান্যরা৷ রাজ্যের ক্রীড়া ও সাংসৃকতিক ব্যাক্তিত্বদের এদিন যুব সম্মানে ভূষিত করা হয়৷ ক্রীড়া বিষয়ে মধূরিমা দে ও সাংসৃকতিক বিষয়ে নন্দিকুমার জমাতিয়ার হাতে যুব সম্মান তুলে দেন টিটিএডিসি চেয়ারম্যান রাধাচরন দেববর্মা৷
এদিকে, স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৫ তম জন্মজয়ন্তি উপলক্ষে তেলিয়ামুড়ায় বর্নাঢ্য র্যালি৷ উদ্যোক্তা ছিল বিবেকানন্দ দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়৷ অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছর যথাযথ মর্যাদায় বিবেকানন্দ সুকল বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তি উদযাপন করে৷ সকালে তেলিয়ামুড়া হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে করে ফল ও মিষ্টি বিতরন৷ পরে বের হয় বর্নাঢ্য র্যালি৷ র্যালিতে বিবেকানন্দের মাতৃ দর্শন, বৃন্দাবনের হোলি, বীর শহীদ শম্ভু সাতমুড়া ও চিত্ত রঞ্জন দেববমা, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য প্রভৃতি ট্যাবলু তোলে ধরা হয়৷ প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারী এই র্যালিতে অংশ গ্রহন করে৷ সুকল প্রাঙ্গন থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি তেলিয়ামুড়া নগর এলাকা পরিক্রমা করে আবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়৷ সবমিলিয়ে আজকের এই র্যালি ছিল উপভোগ করার মতো৷