রিয়াং শরণার্থী শিবিরে শিশুদের খবর নিতে দিল্লি থেকে টিম এলেও প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে ফের অনিশ্চিয়তা

naisingpara-reang-campনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ জানুয়ারি৷৷ চলতি মাসেই রিয়াং শরণার্থীদের স্বভূমে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত বলেই ধারণা করা যাচ্ছে৷ প্রশাসন সূত্রে খবর, রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিতকরণ প্রক্রিয়া প্রথম পর্যায়ে সমাপ্ত হয়েছে৷ এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার রিয়াং শরণার্থী চিহ্ণিত হয়েছেন৷ পাশাপাশি শরণার্থী শিবিরে শিশুদের জন্ম পঞ্জিকরণ পত্রও বিলি করা শুরু হয়েছে৷ এদিকে, শরণার্থী শিবিরে শিশুদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে দিল্লি থেকে জাতীয় কমিশন শিশু অধিকার রক্ষার দুই আধিকারিক সহ চারজন এসেছেন৷ বৃহস্পতিবার তাঁরা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন৷ সেখানে শিশুদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন৷
রিয়াং শরণার্থী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সময়ের মধ্যে শুরু করার জন্য জোরকদমে কাজ চলছে৷ তা সত্ত্বেও ঘোষণা অনুযায়ী জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া কিছুটা অনিশ্চিত বলেই সূত্র অনুসারে জানা গেছে৷ উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনে এখনো কিছু জটিলতা রয়েছে৷ তবে, সময়ের মধ্যে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চেষ্টার কোন কসুর রাখা হচ্ছে না৷ ইতিমধ্যে রিয়াং শরণার্থী শিবিরের শিশুদের জন্মপঞ্জীকরণ পত্র দেওয়া হচ্ছে৷ গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ আরো কয়েকদিন সময় লাগবে এই প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে, উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের জনৈক শীর্ষ আধিকারিক একথা জানিয়েছেন৷ সূত্রের খবর, প্রায় ৪ হাজার ৯৮৫টি শিশুকে জন্ম পঞ্জীকরণ পত্র ইস্যু করা সম্ভব হয়েছে৷ ২১ দিন বয়স অতিক্রান্ত বাচ্চাদেরই এখন জন্ম পঞ্জীকরণ পত্র দেওয়া হচ্ছে৷ এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের ঐ আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এফিডেভিট মূলে শিশুদের জন্ম পঞ্জীকরণ পত্র জারি করা হচ্ছে৷
কেন্দ্রীয় সরকার রিয়াং শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে৷ জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই রিয়াং শরণার্থী প্রত্যাবর্তনপ্রক্রিয়্ শুরু করতে হবে এমনটা কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে কেন্দ্র৷ সে মোতাবেক কয়েকদিন আগে মিজোরাম সরকার রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিতকরণে প্রক্রিয়া শুরু করে৷ রাজ্যের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিত করা হয়৷ প্রথম পর্যায়ে চিহ্ণিতকরণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ পাশাপাশি মিজোরামে মামিথ, কোলাসিব সহ তিনটি জেলাতে রিয়াং শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলেও স্থির হয়েছে৷ এরই মধ্যে শরণার্থীদের প্রতিনিধিরা তাদের কিছু দাবি দাওয়া পূরণ করার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছিলেন৷ কেন্দ্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে কোন মূল্যে মিজোরামে ফিরে যেতেই হবে৷ ফিরে না গেলে তাদের শরণার্থী হয়েই পরবর্তী জীবন কাটাতে হবে৷ কেন্দ্রের কড়া অবস্থান এবং মিজোরাম সরকারের উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো সময়ের মধ্যে রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেই উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *