সড়ক সুরক্ষার অনুষ্ঠানে চর্বিত চর্বন, দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নেই নয়া পন্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জানুয়ারী৷৷ দূর্ঘটনা নিয়ে পুলিশের জনসচেতনতার কর্মসূচী যেখানে প্রশ্ণের মুখে৷ এরই মাঝে

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মীদের নয়া উর্দি৷ সোমবার সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে কর্মীরা প্যারেডে অংশ নিয়েছেন৷ বিবেকানন্দ ময়দান থেকে তোলা নিজস্ব ছবি৷
পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মীদের নয়া উর্দি৷ সোমবার সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে কর্মীরা প্যারেডে অংশ নিয়েছেন৷ বিবেকানন্দ ময়দান থেকে তোলা নিজস্ব ছবি৷

সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবহণ মন্ত্রী মানিক দে পথ দূর্ঘটনা এড়াতে চাই জনসচেতনতা, সেই বিষয়টিকেই বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেন৷ পাশাপাশি দাবি করেন, জনসচেতনতা সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলেই পথ দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে৷ আর তাতেই প্রশ্ণ উঠে, ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া পথ দূর্ঘটনা ও তার সাথে পাল্লা দিয়ে মৃত্যু মিছিল, পুলিশের জনসচেতনতা কর্মসূচীকে সফল ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলা যায় কি না৷ কারণ, এদিনের অনুষ্ঠানে সচেতনার বিষয়টিকেই শুধু গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নতুন কোন পন্থা ব্যবহার করা সম্ভব কিনা সে সম্পর্কে তেমন কোন দীশা দেখানো হয়নি৷ এদিন পরিবহণ মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পথ দূর্ঘটনা এড়াতে এবং পথচারীদের সুরক্ষায় প্রতিটি পরিবারেই জনসচেতনতা বোধ গড়ে তুলতে হবে৷ রাস্তা পারাপারে, চলাচলে ও ট্রাফিক বিধি মেনে চলতে সবসময় সকলকে সতর্ক থাকতে হবে৷ তিনি মনে করেন, প্রতিনিয়ত যানবাহনের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে জনসচেতনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করা গেলেই পথ দূর্ঘটনা হ্রাস ও মৃত্যুর হার কমবে৷
সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ উদ্যাপন প্রতি বছরই ঘটা করে পালিত হয় আরক্ষা প্রশাসনের উদ্যোগে৷ বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে সড়ক সুরক্ষা নিয়ে দূর্ঘটনা সংক্রান্ত ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলা হয়৷ কিন্তু, আদৌ আরক্ষা প্রশাসনের এই জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ কতটা সফল সেটা আজও পরীক্ষিত৷ এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উদ্বেগের সুরে পরিবহণ মন্ত্রী মানিক দে বলেন, পথ দূর্ঘটনা আমাদের সকলকে আজ ভাবিয়ে তুলেছে৷ কেননা, বর্তমান সময়ে ব্যস্ততম জীবন যাত্রায় মুহুর্তের ভুলে, ট্রাফিক বিধি মেনে না চলার কারণে, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নেশা জাতিয় দ্রব্য সেবন করার কারণে দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে৷ এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা যেন কারো জীবনে না আসে তার জন্য আমাদের সকলেরই আন্তরিকভাবে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত৷ তাই নেশা সামগ্রী গ্রহণ করে কোন প্রকার যানবাহন চালানো উচিত নয়৷ পাশাপাশি সমস্ত যানবাহন যেন ট্রাফিক বিধি মেনে চলাচল করে সেই বিষয়ে কঠোরভাবে নজর রাখতে হবে পুলিশ প্রশাসনকেও৷ আইন প্রয়োগে কঠোরতা অবলম্বন করা হলেই রাস্তায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা এড়ানো অনেকটাই সম্ভব৷
একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, প্রতিনিয়ত যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে৷ ২০০১ সালে যেখানে যান বাহনের সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ৫৮১ টি, এখন সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫২৬ টি৷ এর মধ্যে দ্বিচক্রযান ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টি, অটো রিক্সা ২৮ হাজার ৩৩২ টি, ট্রাক ২৬ হাজার ৫২৪ টি, মিনি বাস ও বাস ২ হাজার ৮৪০ টি, জীপ ও ট্যাক্সি ৫৮ হাজার ৮৬৪ টি এবং অন্যান্য গাড়ি রয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ টি৷ সরকারী বাস চলাচল করে ১৪৬ টি৷ গত এক বছরে ট্রাফিক বিধি অমান্য করায় ১ লক্ষা ১৩ হাজার ৩৫৫ টি অভিযোগ জমা পড়েছে৷ জরিমানা আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৫৮ লক্ষ ৯ হাজার ৭০০ টাকা৷ তাই আমাদের সকলকে ট্রাফিক পুলিশ, পরিবহণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে৷ পাশাপাশি আরক্ষা প্রশাসনকেও জনগণকে সড়ক সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতায় আরও গভীর ভাবে চিন্তা করতে হবে৷ শুধু তাই নয়, ট্রাফিক বিধি সকলেই যাতে মেনে চলে তার জন্য আরক্ষা প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে৷
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে না পারলে কেবল জনসচেতনতার মাধ্যমে দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়৷ তার জন্য বদলাতে হবে ট্রাফিকের খোলনলচে৷ সাথে বদলাতে হবে রাজ্যের বিশেষ করে রাজধানীর রোড ম্যাপ৷ যানবাহন চলাচলের গতির দিকে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে গোটা রাজ্যে৷ রাজ্যের বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি জাতীয় সড়কগুলিতে পুলিশের পেট্রোলিং যতদিন না বাড়বে ততদিন দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ তার সাথে মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়, মত বিশেষজ্ঞদের৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *