সালেমায় শিশুকন্যা ধর্ষিতা, আরও দুই গৃহবধূর ইজ্জত লুন্ঠনের চেষ্টা জি বি হাসপাতালে

rapeনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জানুয়ারী৷৷ আট বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে৷ ঘটনাটি ঘটেছে ধলাই জেলার কমলপুর মহকুমার সালেমা থানার অধীন ভাতখাওরি এলাকায়৷ অভিযুক্ত অনিল বিশ্বাস (৫২) বর্তমানে জেল হাজতে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে৷ জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অনিল বিশ্বাস শাসক দলের নারী সংগঠনের সক্রীয় নেত্রীর স্বামী৷
সংবাদে প্রকাশ, নববর্ষের সন্ধ্যায় অনিল বিশ্বাস এলাকারই আট বছরের এক শিশুকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়৷ বাড়িতে নির্জনতার সুযোগে ঐ শিশুকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ৷ এরপর ঐ শিশু বাড়িতে গিয়ে তা মা বাবাকে সবকিছু খুলে বলে৷ শিশুটির পরিবারও শাসক দলের সমর্থক৷ তাই তারা বিষয়টি থানায় নিয়ে যেতে চাইছিলেন না৷ এই বিষয়ে শাসক দলের স্থানীয় মাতববরদের জানান৷ মাতববররা এই ইস্যুতে একটি সালিশী সভাও করেছেন৷ কিন্তু, ঐ সভাতে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন শাসক দলের নেতারা তাতে নির্যাতিতা শিশুর পরিবারের লোকজন সন্তুষ্ট হতে পারেনি৷ তাই তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন৷ সালেমা থানায় পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে অনিল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন৷ মামলার নম্বর ০১/১৭৷ মামলাটি হয়েছে ইউ এস ৩৪২, ৫০৬, ৩৭৬ আইপিসি অনুযায়ী এবং পক্সো অ্যাক্টের চার ধারা অনুযায়ী৷ মামলা নিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত অনিল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে৷ আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তকে চৌদ্দদিনের জেল হাজতে পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে৷ এদিকে, শাসক দলের নারী নেত্রীর স্বামী কর্তৃক শিশুকন্যা ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় রীতিমতো ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে৷
এদিকে, চবিবশ ঘন্টা অতিক্রান্ত হতে না হতেই জিবি হাসপাতালে আরও দুটি শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে৷ যেখানে প্রাণ বাঁচানোর জন্য মানুষ হাসপাতালে ছুটে যান, সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্যের হাসপাতালগুলি মহিলাদের মান বাঁচানো আজ দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে৷
সংবাদে প্রকাশ, জি বি হাসপাতালে হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসাধীন ইন্দ্রনগর আইটিআই রোডের এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে৷ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটা নাগাদ৷ অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুসৃকতী মহিলা মেডিসিন বিভাগে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ঐ গৃহবধূর শ্লীলতহানির চেষ্টা করে৷ কিন্তু, মহিলা জেগে উঠে চিৎকার করায় দুসৃকতিরী পালিয়ে যায়৷ ঐ গৃহবধূর পাশের বেডে ঘুমন্ত অবস্থায় অপর এক রোগীর আত্মীয়ার সথেও একই ব্যবহার করা হয়েছে বলে খবর৷
এদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপি মহিলা নেত্রী কল্যাণী রায়ের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান৷ নির্যাতিতা গৃহবধূ বিজেপি মহিলা নেত্রীদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বলে বিজেপি মহিলা মোর্চার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে৷ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মহিলা নেত্রীরা মেডিকেল ইনচার্জ অব সুপারিনটেন্ড ডাঃ সুশান্ত সেনের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে এড়িয়ে যেতে চান বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি মহিলা মোর্চা৷ একপ্রকার জোর করে উনার সাথে দেখা করেন প্রতিনিধিরা৷ ইনচার্জের সাথে কথা বলে জানা যায় ঘটনার ১২ ঘন্টা পরও ইনচার্জ ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন৷ বিজেপি মহিলা নেত্রীরা ইনচার্জকে বাধ্য করেন নির্যাতিতার কাছে গিয়ে অভিযোগ শোনার জন্য৷
কিন্তু, বিজেপির প্রশ্ণ এদিনের ঘটনার একদিন আগেই এই জি বি হাসপাতলেই একটি নাবালিকা মেয়েকে বাথরুমে ঢোকার পথে ঝাপটে ধরে ভেতরে টানার চেষ্টা করা হয়েছে৷ কিন্তু, এতবড় একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও কেন মহিলা ওয়ার্ডগুলির সুরক্ষা বাড়ানো হয়নি৷ তাছাড়া ঘটনার ১২ ঘন্টা পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে থানায় কোন অভিযোগ না জানানোর ফলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ এমর্মে বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রীরা স্থানীয় থানায় পুলিশ আধিকারীকের সাথে দেখা করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানান৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *