আমতলীতে যুবককে নৃশংস হত্যা, গ্রেপ্তার তিন বন্ধু, বিশালগড়ে নিখোঁজ কিশোর

muder photoনিজস্ব প্রতিনিধি, কমলাসাগর/ চড়িলাম,২ জানুয়ারি৷৷ সোমবার ডুকলি ব্লকের অধীন ফুলতলি বাজারে এক যুবকের খুন হয়৷ নিহত যুবকের নাম বাবুল দেবনাথ (৩২)৷ পিতার নাম নগেন্দ্র দেবনাথ৷ একটি হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশ তিনজনেক গ্রেপ্তার করেছে৷ ধৃতরা হল সুভাষ দা, অমর সরকার এবং উত্তম দেব৷ প্রথম দুইজনের বাড়ি পান্ডবপুরে৷ তৃতীয়জনের বাড়ি ফুলতলীতে৷ এই তিনজনই বাবুলের বন্ধু৷
সংবাদ সূত্রে জানা যায়, আমতলী থানার অধীন ফুলতলি বাজারে চলছিল হরিনাম সংকীর্তন৷ সে হরিনাম সংকীর্তন দেখতে যায় বাবুল দেবনাথ৷ সেখান থেকে বাড়ি ফিরল না বাবুল৷ ফুলতলী বাজারে কাপড়ের দোকান তার বাবার৷ এই দোকানের সামনে টং দোকান বাবুলের৷ জানা যায়, রবিবার রাতে হরিনাম সংকীর্তন দেখতে যায় সে৷ বাড়ি ফিরতে দেরী দেখে তার বন্ধু সুভাষের নিকট ফোন করে তার মা৷ ফোনে সুভাষ বলে বাবুল তার সাথে আছে৷ তখন রাত প্রায় দুটো৷ ভোর চারটায় বাবুলকে দেখতে পায় ফুলতলী দর্গার কাছে ৩ জন ছেলের সাথে৷
সোমবার বাবুলের বাড়ি থেকে তাকে খঁুজতে বের হলে ফুলতলীর দর্গার ফকির জানায় বন্ধুদের সাথে দেখতে পেয়েছেন বাবুলকে৷ খঁুজতে খঁুজতে পড়ে ফুলতলী কীর্তন আসরের পিছনে জমিতে বাবুলের মৃতদেহটি দেখতে পায় এক মহিলা৷ মহিলা জমিতে কাঁথা রোদ দেবার জন্য গেলে মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠেন৷ চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে আসে৷ খবর দেওয়া হয় আমতলী থানায়৷ খবর পেয়ে ছুটে আসে সদর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী৷ স্থানীয় এসডিপিও ও আমতলী থানার ওসি৷ পুলিশ কুকুর ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে তদন্ত চালায়৷ পরিকল্পনাভাবে খুন হয়েছে বলে জানা যায়৷ ছুরি দিয়ে পিছন দিক থেকে আঘাত করা হয়েছে৷ পাঁচ থেকে ছয়টি আঘাতের চিহ্ণ দেখা যায়৷ পুলিশ একটি মামলা নিয়ে বাবুলের বন্ধ সুভষ, অমর ও উত্তমে গ্রেপ্তার করেছে৷ তাদেরকে জোর জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে৷ পুলিশ চেষ্টা করছে এই খুনের পিছনে কি কারণ রয়েছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷
এদিকে, বিশালগড়ের দূর্গানগর এলাকার হোসেন পাড়ার এক ষোল বছরের কিশোর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি৷ তার নাম আনোয়ার হোসেন৷ ঘটনাটি ঘটে গত ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখ৷ নিখোঁজ যুবকের বাবা মফিজ মিয়া জানায় আনোয়ার একজন কাঠমিস্ত্রী৷ পড়াশুনা ছেড়ে রোজগারে নেমেছে৷ ফার্ণিচারের কাজে কড়ইমুড়া এক বাড়িতে যায় আনোয়ার৷ হঠাৎ একদিন ভোর পাঁচটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়৷ ঐদিন সকাল সাতটা আনোয়ারের মোবাইলে ফোন করলে সুইচ অফ পাওয়া যায়৷ তখন শুরু হয়ে খোঁজাখঁুজি৷ এখন পর্যন্ত কোন হদিশ পাওয়া যায়নি তার৷ শেষ পর্যন্ত আনোয়ারের বাবা বিশালগড় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন৷ এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন সন্ধান পায়নি৷তার পরিবার পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷ আনোয়ারের পরিবার পথ চেয়ে বসে আছে কখন বাড়ি ফিরবে৷ এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *