News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • বর্মণ গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে বীরজিতের দাবি কংগ্রেস থেকে আবর্জনা সরেছে
Image

বর্মণ গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে বীরজিতের দাবি কংগ্রেস থেকে আবর্জনা সরেছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ ডিসেম্বর৷৷ ২০০৮ সালে সমীর রঞ্জন বর্মণ এবং ২০১৩ সালে সুদীপ রায় বর্মণের সভাপতিত্বকালে ও তাঁর অনুগামী দিবাচন্দ্র রাংখলের আমলে সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা কংগ্রেসকে আরো ডুবিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের হাড়-মাংস চিবিয়ে খেয়ে, হাইকমান্ডের দোষ দিয়ে তাঁরা সদলবলে কংগ্রেসের পিছনে ছুরি মেরে তথাকথিত তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন৷ এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা৷ বুধবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ১৩১ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কংগ্রেসের ইতিহাস, বর্তমান নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ এদিন সকালে কমলপুর টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয় রাজ্যের মূল অনুষ্ঠানটি৷ এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি আগামীদিনের বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েও মতামত ব্যক্ত করেছেন৷ প্রতিষ্ঠা দিবসে দলের রাজ্যের যে অবস্থান সেই দিকে আলোকপাত করে পিসিসি সভাপতি জানিয়েছেন, শহীদের বহু রক্তের বিনিময়ে ১৯৮৮ সালে ষষ্ঠ বিধানসভা নির্বাচন কংগ্রেস- যুব সমিতি জোট স্বৈরাচারী কমিউনিস্টদের পরাস্ত করে ক্ষমতায় আসে৷ অত্যন্ত যোগ্যতা অনুসারে চারবছর মন্ত্রিসভা পরিচালনার সুযোগ পাওয়া যায়৷ রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে ত্রিপুরায় শুরু হয় উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ৷ রাস্তাঘাট, পানীয় জল থেকে শুরু করে পার্বতী ত্রিপুরার ৫৭ হাজার বেকার যুবক যুবতীদের চাকুরির সংস্থান করা হয়৷ এমনকি একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে জোট সরকার৷ বয়স উত্তীর্ণ বেকারদের চাকুরির ব্যবস্থা করে৷ কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় রাজীব গান্ধীর অকাল প্রয়াণের পর ত্রিপুরার সমীর রঞ্জন বর্মণ এবং তাঁর পুরনো চরিত্রে এবং রূপে অবতীর্ণ হন৷ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি সুধীর রঞ্জন মজুমদারকে অপসারিত করে নিজে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান৷ পুলিশ ও উকিল বিদ্রোহ তাঁর স্বেচ্ছাচারিতার জন্য সংগঠিত হওয়ায় কংগ্রেস দল দুর্বল হয়ে পড়ে বলে বীরজিৎবাবু এদিন প্রতিষ্ঠা দিবসে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন৷
বীরজিৎ সিনহা অভিযোগ করেছেন, যুব কংগ্রেস এবং নিষ্ঠাবান কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশী হয়রানী শুরু করেন সমীর রঞ্জন বর্মন৷ তাতে কংগ্রেস দল রাজ্যে দুর্বল হয়ে যায়৷ যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯৩ সালে সপ্তম বিধানসভা নির্বাচনে কমিউনিস্টরা বিপুলভাবে ক্ষমতা লাভ করে ৫০টি আসন নিয়ে সরকারে আসীন হন এবং আজ পর্যন্ত এই থেকে আমরা মুক্তি পাইনি বলে জানান বীরিজিৎ সিনহা৷ তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে তাঁকে যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিযুক্ত করা হয় এবং নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন সাংগঠনিক তৎপরতায় ঐক্যবদ্ধ কংগ্রেস প্রায় ক্ষমতায় চলে আসবে এইরূপ যখন অবস্থা তখন বিজেপির সহযোগী তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং সোসালিষ্ট নেতা জর্জ ফার্নান্ডেজ, দুজনেই তখন বাজপেয়ীর কেবিনেট মন্ত্রী৷ দুজনে এসে সেন্ট্রাল ফোর্স যাতে ত্রিপুরায় না আস তার ব্যবস্থা করে সিপিএম দলকে রিগিং এর সুযোগ দান করেন৷ যার ফলশ্রুতিতে কংগ্রেস ১৯টি আসন পায় এবং বাকী ১৪টি আসনে মাত্র ১১ হাজার ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীরা পরাজিত হয়৷ বীরজিৎবাবু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানান, এই তৃণমূলের সঙ্গে গাটছাড়া বেঁধে সমীর রঞ্জন বর্মনের পুত্র সুদীপ রায় বর্মন ত্রিপুরা থেকে সিপিএম তাড়াবেন, এটা অলীক কল্পনা৷ যখন পশ্চিমবঙ্গে একদল কংগ্রেসী সিপিএম দলের সাথে মাখামাখি করেছিলেন, তখন এর বিরুদ্ধে হাইকমান্ডের কাছে তীব্র প্রতিবাদ করেন দাবি করে বীরজিৎ সিনহা বলেন, এক একটা প্রদেশে এক একটা স্ট্র্যাটেজি নিলে হাইকমান্ডের তাতে কিছু করার থাকে না৷ তাই বলে কংগ্রেস সিপিএম ত্রিপুরাতেও মাখামাখি করবে সুদীপ বাবুরা এমটি ভাবলেন কি করে, এই প্রশ্ণ করে বীরজিৎ সিনহা বলেন, আসলে দীর্ঘদিন থেকে ত্রিপুরাবাসী জানতেন কাদের সঙ্গে সিপিএম দলের সুসম্পর্ক৷ কারা সিপিএম দলের সঙ্গে সরকার করেছিল৷ সুতরাং ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না৷ আজ যারা হাইকমান্ডের উপর দোষ দিয়ে দল ছেড়েছে, ত্রিপুরাবাসী জানেন তারাই বার বার ত্রিপুরার কংগ্রেসকে সিপিএম দলের কাছে বিক্রী করে দিয়েছে৷
সুদীপ বাবুদের নেতৃত্বের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যারা একদিন কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন, তাদের প্রতি বীরজিৎবাবু এদিন আহ্বান জানিয়েছেন অবিলম্বে নিজ গৃহে অর্থাৎ কংগ্রেসে ফিরে আসার জন্য৷ যারা তৃণমূলে গিয়েছেন তাদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান দলে ফিরে আসার৷ ওদের নেতৃত্বে কোনদিনই পরিবর্তন সম্ভব নয়৷ কংগ্রেস দল থেকে আবর্জনা সরে গেছে৷ তাই সাধারণ কর্মীরা ফিরে আসার জন্য বীরজিৎ সিনহা আহ্বান জানান৷ সোনিয়াজী-রাহুলজীর নেতৃত্বে কংগ্রেসকে আবার এ রাজ্যে ঐক্যবদ্ধ করে বামফ্রন্ট উৎখাত করার স্বপ্ণ দেখিয়ে বীরজিৎবাবু বলেন, সিপিএমের মতো উগ্র দেশবিরোধী শক্তি এবং বিজেপির মত উগ্র সাম্প্রদায়িক দল ভারতবর্ষের সংবিধান বিরোধী শক্তি৷ এদের হাতে দেশের অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়৷ এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতিরও সমালোচনা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷

Releated Posts

কর্ণাটক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কেউ ইস্তফা দেননি, দলে কোনও অসন্তোষ নেই: কংগ্রেস সভাপতি বি. কে. হরিপ্রসাদ

বেঙ্গালুরু, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): কর্ণাটকে সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কর্ণাটক প্রদেশ…

ByByNews Desk Aug 4, 2026

সমঝোতার সম্ভাবনায় আপাতত ইরানে হামলা স্থগিত, দাবি ট্রাম্পের; হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট (আইএএনএস): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত…

ByByNews Desk Aug 2, 2026

সূর্য ঘরে এখন ১৫ মেগাওয়াটের শক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নীরব বিপ্লব রাজ্যে

আগরতলা, ২৮ জুলাই:একটি বাড়ির ছাদে কয়েকটি সোলার প্যানেল। সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ যাচ্ছে বাড়ির আলো,…

ByByReshmi Debnath Jul 28, 2026

অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুলে ‘আউক্সি ইগনিট এনোএল এক্সিবিশন ২০২৬’, ছাত্রীদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভার প্রকাশ

আগরতলা, ২৫ জুলাই: ছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের লক্ষ্যে অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুল, আগরতলার উদ্যোগে বিদ্যালয়…

ByByNews Desk Jul 25, 2026
Scroll to Top