News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • দশদা ব্লকে দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল হাইকোর্টে
Image

দশদা ব্লকে দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল হাইকোর্টে

Highcourt of Tripura Imageনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ নভেম্বর৷৷ দশদা ব্লকে আর্থিক নয়ছয়ের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজনের সাজা বহাল রাখল উচ্চ আদালত৷ উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে দশা ব্লকে ৪১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার আর্থিক নয়ছয়ের মামলা করা হয় ব্লকের বিডিও খগেন্দ্র রিয়াং, ক্যাশিয়ার প্রদীপ দে, তিন পঞ্চায়েত সচিব ধনঞ্জয় রিয়াং, পূর্ণধন রিয়াং ও চন্দ্রাহাম রিয়াং এবং ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পরিমলচন্দ্র দাস, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিজন রক্ষিত ও বর্তমান ক্যাশিয়ার সমীরণ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে৷ ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, ইন্দিরা আবাস যোজনায় নয়ছয় হয় ৪১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা৷ জানা গেছে, দশদা ব্লকের বিডিও খগেন্দ্র রিয়াং এবং ক্যাশিয়ার প্রদীপ দে ২০০৫ সালের ১৯ মার্চ তিনটি খালি চেকে পঞ্চায়েত সচিবদের সই রাখেন৷ ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দশদা ব্লকের বিডিওর একাউন্টে জমা হয় ইন্দিরা আবাস যোজনায় ৪১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা৷ এই টাকা নয়ছয়ের উদ্দেশ্যেই খালি চেকে সই নেন বিডিও এবং ক্যাশিয়ার৷ সেই মোতাবেক তিনটি খালি চেকে ১০ লক্ষ টাকা করে মোট ৩০ লক্ষ টাকা তুলে নেন তারা৷ শুধু তাই নয়, ঐ ব্লকের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিজন রক্ষিত এবং ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পরিমল চন্দ্র দাস ক্যাশ বইয়ে সই করে বাকি টাকা সরিয়ে নেন৷ জানা গেছে, বিজন রক্ষিতের নামে ৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৫১ টাকা এবং পরিমল চন্দ্র দাসের নামে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫৬৯ টাকা পেমেন্ট দেখানো হয়েছে৷
এই ঘটনা উত্তর জেলা জেলাশাসকের গোচরে আসলে তিনি তদন্ত শুরু করেন৷ তখন বিডিও খগেন্দ্র রিয়াং পালিয়ে যান৷ এদিকে, এই সমস্ত বিষয় পঞ্চায়েত সচিবরা ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসককে লিখিতভাবে জানান৷ এর ভিত্তিতে কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসক ঐদিনই কাঞ্চনপুর থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন৷
এরপর কাঞ্চনপুর প্রথম শ্রেণীর বিচার বিভাগীয় আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়৷ শুনানি চলাকালীন পঞ্চায়েত সচিব চন্দ্রহাম রিয়াং প্রয়াত হন৷ অবশেষে ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল আদালত এই মামলায় রায় দেন৷ তাতে বর্তমান ক্যাশিয়ার সমীরণ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ না থাকায় তাঁকে বেকসুর খালাস করে দেন আদালত৷ বাকি ৬ জনকে সাজা শুনানি হয়৷ বিডিও রাজেন্দ্র রিয়াংকে তিন বছর সশ্রম কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা, ক্যাশিয়ার প্রদীপ দেকে এক বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং দশ হাজার টাকা জরিমানা ও বাকি চারজনকে চার মাস সশ্রম কারাদন্ড এবং দশ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত৷ এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা ধর্মনগর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন৷ কিন্তু ২০১২ সালের ২৪ জুলাই আদালত কাঞ্চনপুর প্রথম শ্রেণী বিচারবিভাগীয় আদালতের রায় বহাল রাখে৷ তাতে, তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন৷ কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলা চলাকালীন চলতি বছরের ১৮ মার্চ সাজাপ্রাপ্ত পঞ্চায়েত সচিব পূর্ণধন রিয়াং প্রয়াত হন৷ শুক্রবার উচ্চ আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে মাননীয় মুখ্য বিচারপতি টি ভাইপেই নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন৷ উচ্চ আদালতে এই মামলায় বিডিওর পক্ষে বরিষ্ঠ আইনজীবী পীযূষ কান্তি বিশ্বাস, ক্যাশিয়ারের পক্ষে বরিষ্ঠ আইনজীবী অরুণ চন্দ্র ভৌমিক, পঞ্চায়েত সচিবের পক্ষে বরিষ্ঠ আইনজীবী অরুণ কান্তি ভৌমিক, জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ারের পক্ষে আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ এবং ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্টের পক্ষে আইনজীবী নরসিং দাস মামলাটি পরিচালনা করেন৷ সরকার পক্ষে মামলার পরিচালনায় ছিলেন বরিষ্ঠ আইনজীবী রাখালচন্দ্র দেবনাথ৷

Releated Posts

এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি প্রদেশ কংগ্রেসের, নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি

আগরতলা, ২৬ জুন: বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল…

ByByReshmi Debnath Jun 27, 2026

কোর্ট ম্যারেজের পর দাম্পত্য কলহ, তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুন: রাজধানীর বাধারঘাট এলাকার এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত তরুণীর…

ByByReshmi Debnath Jun 13, 2026

শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…

ByByNews Desk Jun 2, 2026

অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…

ByByNews Desk May 27, 2026
Scroll to Top