নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ এপ্রিল৷৷ কমলপুর বিএসএম হাসপাতালের পরিকাঠামো তলানিতে৷ চিকিৎসক সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত৷ হাসপাতালে অবাধে বিচরণ কুকুরের৷ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং প্রতিক্রিয়া৷ স্বর্ণরাজ্য হোক কিংবা মডেল রাজ্যই হোক হাসপাতালের পরিকাঠামো স্বাভাবিক থাকা দরকার বলে মনে করেন সাধারণ রোগী সহ তার আত্মীয়স্বজনরা৷ কিন্তু স্বাস্থ্য পরিষেবার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কিভাবে কমলপুরে চলছে তা দেখলে অনুমান করা যায় কমলপুর বিএসএম হাসপাতালে কি ধরনের পরিষেবা চালু আছে বর্তমানে৷ ধলাই জেলার অন্যতম সরকারি চিকিৎসালয় হচ্ছে কমলপুর বিএসএম হাসপাতাল৷ বর্তমানে হাসপাতালটি কিভাবে চলছে তা দেখলে চক্ষু সড়ক গাছ হওয়ার মত উপক্রম৷ হাসপাতালে পরিদর্শনকালে প্রথমে যে জিনিসগুলো লক্ষ করা যায় তা হচ্ছে হাসপাতালের ভিতরে অসংখ্য কুকুর অবাধে বিচরণ করছে৷ দ্বিতীয়ত লক্ষ করা যায় অপ্রয়োজনে অসংখ্য বিদ্যুৎ পাখা, লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে৷ যার কোন প্রয়োজনই নেই৷ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি যে আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তা হল চিকিৎসগণ কর্তব্যরত অবস্থায় হাসপাতাল ছেড়ে কোয়ার্টারে রোগী দেখছেন৷ মজার ব্যাপার হল হাসপাতালের দন্ত চিকিৎসকরে রুমে গিয়ে দেখা যায় লাইট জ্বালানো, পাখাগুলো ঘুরছে৷ নিসঙ্গ চেয়ার টেবিল৷ মাছি তাড়ানোর মত একজনও কেউ নেই৷ পাশের রুমে গিয়ে জানা গেল ডাক্তারবাবু আছেন তবে তিনি একটু কোয়ার্টারে গেছেন ফোন করলেই আসবেন৷ ডাক্তারবাবুর চেম্বারের সেবিকা জানান দেড় ঘন্টা হয়েছে তিনি কোয়ার্টারে গেছেন৷ জানতে চাইলাম উনার তো এখন ডিউটি তাহলে হাসপাতাল ছেড়ে তিনি কেন কোয়ার্টারে যান? সেবিকা উত্তর দিল এর জন্যই তো মোবাইল ফোন৷ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরাসরি হাসপাতালের কোয়ার্টারে গিয়ে দেখেন তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত৷ অধীর আগ্রহে রোগীরা বসে আছেন৷ এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমের খবর মোবাইল ফোন আসতেই তিনি রোগী ফেলে হাসপাতালে রওয়ানা দেন৷ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাকে জিজ্ঞাসা করার আগেই তিনি পালিয়ে যান৷ এ যদি স্বাস্থ্যের হাল হয়, এভাবে যদি ডাক্তাররা হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকে তাহলে পরিষেবা চলবে কিভাবে? আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কি আর আশা করতে পারে৷
2016-04-24
