গুয়াহাটি, ২৭ মার্চ, (হি.স.) : অসমে যত ধরনের খুন-খারাবি সে গুপ্তহত্যাই হোক কিংবা মুক্তহত্যা, সব হত্যার মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল কংগ্ৰেস। পনেরো বছর রাজ্যের জনতাকে সুরক্ষা দিতে ব্যৰ্থ তরুণ গগৈ এবার পুরনো কাসুন্দি টেনে অসমের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। টায়ার-টিউবের সাহায্যে অসমিয়া যুবকদের পুড়িয়ে মারার ঘটনার সঙ্গে যে কংগ্ৰেসই জড়িত ছিল সেইসব খবর রাজ্যের মানুষ ভুলেননি। এই মন্তব্য অগপ সভাপতি অতুল বরার। কংগ্ৰেস তথা তরুণ গগৈ সরকারের তুলোধোনা করে বলেন, ২০০১ সাল থেকে টানা পনেরো বছর অসমবাসীর জীবন-সম্পত্তি রক্ষা করতে চূড়ান্তভাবে ব্যৰ্থ তরুণ গগৈ নেতৃত্বাধীন সরকার এখন নিজেদের ব্যৰ্থতা ঢাকতে নোংরা কাদা ছেটানোর রাজনীতিতে নেমেছেন। একাধারে তিন মেয়াদের শাসনকালে গুপ্তহত্যার পাশাপাশি মুক্তহত্যারও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তিনি। আর এজন্যই পনেরো বছরে এইসব খুনখারাবি নিয়ে টু শব্দ করেননি। এখন ভোটের বাজারে নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা বলে প্রতিষ্ঠিত করতে তার ফেরি করছেন। বরার প্রশ্ন, দীর্ঘ পনেরো বছর ক্ষমতায় থেকে গুপ্তহত্যা ইত্যাদির তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করলেন না মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই অসমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্ৰী প্রয়াত হিতেশ্বর শইকিয়ার আমলে শুরু গুপ্তহত্যা-মুক্তহত্যার পরম্পরা দীৰ্ঘ পনেরো বছরের রাজত্বে তরুণ গগৈ সরকারও রোখতে পারেনি। গুপ্তহত্যাকারীদের শনাক্ত করে অপরাধীদের বিচার হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসমের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন তরুণ গগৈ। রাজ্যবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোন রহস্যে গুপ্তহত্যা সম্পর্কে এত বছর মৌন ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রশ্ন অতুল বরার। এক প্রেসবার্তায় এই অভিযোগ করে অতুল বরা আরও বলেছেন, অসম আন্দোলনের ৮৫৬ জন যুবককে নৃশংসভাবে মেরে ফেলার মূল পৃষ্ঠপোষক কংগ্ৰেস এখনও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে। বলেন, ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্ৰুয়ারিতে ধোলা এবং ঠেকেরাবাড়িতে ১৯ জন অসম-সন্তানকে অতি নৃশংস ও নিষ্ঠুরভাবে মারা হয়েছিল। মঙ্গলদৈ কলেজের ছাত্র সংসদরে সুকুমার কলা বিভাগের সম্পাদক ও তাঁর বড় ভাইকে কতিপয় দুৰ্বৃত্তের হাতে মর্মান্তিকভাবে খুন হতে হয়েছিল। স্থানীয় গাওঁবুড়া ৫১ জন অপরাধীর নামের তালিকা-সহ থানায় এজাহার দিয়েছেলেন। কিন্তু কংগ্ৰেস সরকারের পুলিশ সেই এজাহারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই নেয়নি। বরার অভিযোগ, গুপ্তহত্যা ও মুক্তহত্যাকারীদের রক্ষক তরুণ গগৈয়ের পনেরো বছরের শাসনে অসমে ১৯,৮২১টি হত্যাকাণ্ড, অপহরণের ঘটনা ৪৩,৮৭৯টি, চুরির ঘটনা ১,১৭,৯৩০টি সংঘটিত করে গগৈ সরকার রেকৰ্ড গড়েছেন। কেবল এ-ই নয়, গগৈ সরকারের তিন মেয়াদের শাসনে মোট ২১,৫৫৬টি ধর্ষণ, ৯১,৪১৯টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই সরকারের আমলে ৩০,৮৮৭টি গাড়ি চুরি, ১৫৮টি ঘটনা ঘটেছে ডাইনি সন্দেহে হত্যার ঘটনা।
2016-03-27