নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/চুড়াইবাড়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি৷৷ রাজ্যে পথ দুর্ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে৷ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পৃথক পথ দুর্ঘটনায় তিনজন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন৷ দুর্ঘটনা প্রতি- নিয়তই বেড়ে চললেও ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন দপ্তর দুর্ঘটনা এড়াতে তেমন কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না৷ সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের মধ্যে দিয়ে জনগণকে সচেতন করার প্রয়াস দুর্ঘটনা এড়াতে তেমন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি৷ আইনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দুর্ঘটনার হার কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিভিন্ন মহল৷ বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ উদয়পুর থেকে অমরপুর যাবার পথে গান্ধীরা এলাকায় একটি দ্রুতগামী বাইক দুর্ঘটনায় বাইক চালক গুরুতরভাবে আহতহয়েছেন৷ জানা যায়, দ্রুতবেগে বাঁক নেওয়ার সময় গান্ধারী এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন৷ তখনই বাইকটি খাদে পড়ে যায়৷ স্থানীয় লোকজন ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দমকল বাহিনীকে খবর দেন৷ দমকল বাহিনী এসে আহত বাইক চালককে উদ্ধার করে প্রথমে অমরপুর হাসপাতালে নিয়ে যান৷ সেখান থেকে তাকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় উদয়পুর গোমতী জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে৷ এদিকে, বুধবার দুপুর দুইটা নাগাদ চন্দ্রপুরে একটি মিনি ট্রাককে পেছন দিকে থেকে এসে ধাক্কা দিলে বাইক চালক গুরুতরভাবে আহত হয়৷ আহত বাইক চালককে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ জানা যায়, চন্দ্রপুর আইএসবিটি সংলগ্ণ ট্রাফিক পয়েন্টের কাছে ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল মেনে একটি মিনি ট্রাক দাঁড়ায়৷ ঐ সময় পাশের বিওসি থেকে তেল নিয়ে একটি মোটর বাইক দ্রুতবেগে এসে মিনি ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়৷ তাতে বাইক নিয়ে ছিটকে পড়ে চালক গুরুতরভাবে আহত হয়৷ মিনি ট্রাকটির নম্বর টিআর০১-টি ১৮৪৭৷ বাইকটির নম্বর টিআর০১- ডব্লিউ-৯১৮২৷ পূর্ব থানার পুলিশ এব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করেছে৷ বাইক এবং মিনি ট্রাক আটক করেছে৷ বুধবার পুরোনো মোটরস্ট্যান্ডে একটি অটো রিক্সা একটি শিশুকে ধাক্কা দিলে শিশুটি জখম হয়৷ জানা যায় শিশুটিকে টিকা দিয়ে আইজিএম হাসপাতাল থেকে তার মা অটোতে করে পুরোনো মোটরস্ট্যান্ডে এসে নামেন৷ রাস্তার পাশে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ তখনই অটো রিক্সাটি এসে শিশুটিকে ধাক্কা দেয়৷ অটো রিক্সাটির নম্বর টিআর০১-বি-৩০৪৬৷ শিশুটির মা উমা ঘোষ এব্যাপারে পূর্ব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ কিন্তু পুলিশ অটোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷
গতকাল সকাল এগারটা নাগাদ কদমতলা থানাধীন নতুন বাজার সোনারপুর এলাকায় দ্রুতগামী বলেরো মেক্সি ট্রাকের ধাক্কায় এক সুকল ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে যায়৷ স্থানীয় উত্তেজিত জনতা কদমতলা ধর্মনগরের পথ অবরোধ করে৷ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উত্তর জেলার এসপি সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ৷ বেলা প্রায় এগারটা নাগাদ সোনারপুর জেবি সুকলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র বিষ্ণু নাথ সুকলের সামনের রাস্তার একপাশ থেকে অপরপাশে যাচ্ছিল৷ তখন টিআরএস-১৮৬৬ নম্বরের অবৈধ্য পণ্য বোঝাই বলেরো মেক্সি ট্রাক এসে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়৷ প্রত্যক্ষ দর্শীরা গাড়ি করে ছাত্রটিকে ধর্মনগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে শিলচর রেফার করেন৷ পরিবারের সদস্যরা সাথে সাথে শিলচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে চুড়াইবাড়ি আসার পর সুকল ছাত্র বিষ্ণুর মৃত্যু হয়৷ অপরদিকে ঘাতক চালক গাড়িটিকে নতুনবাজার এলাকাতে রেখে পালিয়ে যায়৷ উত্তেজিত জনগণ প্রায় দুঘন্টা কদমতলা ধর্মনগর সড়কটি অবরোধ করে রাখেন৷ পরে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের আশ্বাসে অবরোধ মুক্ত হয়৷ কেউ কেউ আবার কদমতলা থানার ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ণ তুলেন৷ স্থানীয় জনগণ সোনারপুর জেবি সুকলের শিক্ষকদের দায়িত্ব ছাড়া ভাব নিয়েও তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন৷ পুলিশ বলেরো গাড়িটিকে আটক করে কদমতলা থানায় নিয়ে আসে৷ এই মর্মে কদমতলা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয় যার নম্বর কেডিএল/পিএস/০৭ /২০১৬৷ নয় বৎসরের এক সুকল ছাত্রের মৃত্যুকে তীব্র অশান্তি সৃষ্টি হয়৷ তদন্তে শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতা পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের৷ আর ঘটনার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ঘাতক বলেরো চালক উজ্জ্বল দেব পিতা পৃথ্বীশ দেব বিষ্ণুপুর ওয়ার্ড নম্বর -৩ এর বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করল কদমকলা থানার পুলিশ৷ মঙ্গলবার গভীর রাতে মধ্য চুড়াইবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন কদমতলা থানার ওসি কিরণ শঙ্কর চৌধুরী, এসআই শঙ্কর দাস পীযূষ কান্তি দাস সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে৷ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে চালক উজ্জ্বল সে তার মধ্য চুড়ইবাড়ির বোনের জামাতর বাড়িতে গা ডাকা দিয়েছিল৷ আজ সকালে ঘাতক চালককে ধর্মনগর আদালতে প্রেরণ করা হয়৷ মাননীয় বিচারক ঘাতক চালক উজ্জ্বল দেবকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন৷
2016-02-18